Wednesday , November 13 2019

মুসলিম বিবাহের হলফনামা সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং

ড্রাফটিং এর বিষয়ঃ মুসলিম বিবাহের হলফনামা সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ড্রাফটিং সাবধানবণী

সাবধানবাণীঃ সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, নিম্নলিখিত ড্রাফটিং-টি একটি শিক্ষামূলক ড্রাফটিং। এই ড্রাফটিং-এ প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এটি কখনোই বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শের বিকল্প নয়।

বরাবর, নোটারী পাবলিক এর কার্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ।
“বিবাহের হলফনামা”

আমরা (১) আসমা খাতুন, পিতা-সফিকুল ইসলাম, ঠিকানাঃ জিগাতলা, থানা-ধানমন্ডি জেলা-ঢাকা, বয়স-১৯ বৎসর, ধর্ম-ইসলাম, পেশা-ছাত্রী, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এবং

(২) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিতা-মোঃ মাহমুদুর রহমান, মাতা-তহুরা বেগম, ঠিকানাঃ শেখের জায়গা, থানা- খিলগাঁও, জেলা-ঢাকা, জন্ম তারিখ- ০৬/০৩/১৯৯৫ খ্রি., পেশা-চাকুরী, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী, এই মর্মে হলফ পূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে,

১। আমরা উভয়েই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা। আমরা প্রাপ্ত বয়স্কা/বয়স্ক। আমরা আমাদের ভাল-মন্দ বুঝি এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সর্ম্পকে অবগত ও সচেতন।

২। আমরা উভয়েই একে অপরকে চিনি ও জানি। আমাদের এই চেনা ও জানার মাধ্যমে একে অপরের সান্নিধ্যে পৌঁছার সুযোগ পেয়েছি।

৩। আমাদের এই চেনা জানার মাধ্যমে উভয়ের অন্তরে ভালবাসার সঞ্চার হয়। উক্ত ভালবাসার সূত্র ধরে একে অপরের সাথে গভীরভাবে প্রেমে আবদ্ধ হয়েছি। এখন এমন এক পর্যায়ে এসে, একে অপরকে ছাড়া এক মুহুর্তের জন্যও থাকতে পারি না, কারণ প্রেম স্বর্গীয় অনুভূতি বিধায় আমাদের পবিত্র প্রেম-ভালবাসাকে চিরস্থায়ী করবার প্রেক্ষিতে আমরা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়েছি।

৪। অতঃপর, আমরা উভয়ে উভয়ের শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গরিমা, ধর্ম পরায়নতা, দায়িত্ববোধ, রূপগুন, আচার-আচরণের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী রূপে বরণ করার প্রস্তাব পেয়ে উভয়ে সানন্দচিত্রে গ্রহণ করে মুসলিম ধর্মের ইসলামী শরীয়াহ বিধান মোতাবেক একে অপরকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা উভয়ের প্রেম ও ভালবাসাকে চিরস্থায়ী করার নিমিত্তে আমরা উভয়ে মাননীয় নোটারী পাবলিকের সম্মুখে হাজির হয়ে অত্র হলফনামার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করলাম। আমরা উভয়ে উভয়কেই স্বামী-স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ ও বরণ করে নিলাম।


৫। আমাদের বিবাহ উভয়ের আলোচনা সাপেক্ষে দেনমোহরের পরিমাণ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা ধার্য্য করা হল। স্ত্রীর মাসিক খোরপোষ সময় উপযোগী ভদ্রচিতভাবে আদায় করবেন।

৬। আমরা অদ্য এক্ষনে উপস্থিত স্বাক্ষীগনের সামনে উভয় একে অপরকে স্বামী ও স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। আমরা অদ্য হতে সমাজের সর্বস্তরে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে বসবাস করব। অদ্য হতে আমরা হলফকারীনী ও হলফকারী স্বামী স্ত্রী হিসেবে মুসলিম শরিয়াহ আইন মোতাবেক সংসার কার্য্য ও বৈবাহিক স্বামী-স্ত্রীর সকল কার্যাদি পরিচালনা করব।

৭। আমাদের অদ্যকার বিবাহ বন্ধনে আমাদেরকে কেউ কোনভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রলোভন দেখায় নি, এমনকি আমরা নিজেরা স্বেচ্ছায় অত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। যদি ভবিষ্যতে আমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন কোন প্রকার আপত্তি করে তাহলে সর্বাদালতে অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে গন্য হবে।

৮। আমাদের অত্র বিবাহের হলফনামা সম্পাদিত হবার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেজিষ্ট্রিপ্রাপ্ত যে কোন কাজী দ্বারা অদ্যই বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে নিব।

সাক্ষীগণের স্বাক্ষরঃ

১।

 

 

 

২।

 

 

 

৩। 

 

 

এতদ্বার্থে, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, অন্যের বিনা প্ররোচনায় ও সুস্থ শরীরে আমরা হলফকারীদ্বয় অত্র হলফনামার যাবতীয় বর্ণনা নিজেরা পড়ে ও ইহার মর্ম সঠিকভাবে অবগত হয়ে শুদ্ধ স্বীকারে অদ্য মাননীয় নোটারী পাবলিকের সামনে হাজির হয়ে অত্র হলফনামায় নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করলাম। ইতি, তাং-

 

 

———————
হলফকারীদ্বয়ের স্বাক্ষর

হলফকারীদ্বয় আমার সম্মুখে তাদের নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করলে আমি তাদের স্বাক্ষর সনাক্ত করলাম এবং হলফকারীদ্বয় কর্তৃক মিথ্যা তথ্যের জন্য সনাক্তকারী দায়ী নয়।

———–
আইনজীবী

BBC Exam Ad

bar council exam

Check Also

দন্ডবিধির ৪০৬, ৪১৭ এবং ৫০৬ ধারা মোতাবেক একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং

ড্রাফটিং এর বিষয়ঃ দন্ডবিধির ৪০৬, ৪১৭ এবং ৫০৬ ধারা মোতাবেক একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং সাবলীলভাবে উপস্থাপন …