Tuesday , January 28 2020

কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা, পর্ব-৮

ভূমিহীন নির্ণয় ও তালিকা প্রণয়নে সতর্কতাঃ

  • ভূমিহীনদের নির্বাচন এবং তালিকা প্রণয়নে সর্বাধিক সতর্কতা ও কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে৷
  • ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়নে কোন কারচুপি বা অসত্‍ উদ্দেশ্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক তত্ক্ষনাত্‍ একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্তের জন্য নিয়োগ করবেন৷
  • অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ এই ধরনের তদন্ত কাজের জন্য নির্দেশ পাওয়ার পর সাত দিনের বেশী সময় নিবেন না৷
  • তদন্তে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হলে, জেলা প্রশাসক তার সুবিবেচনা বিভাগীয় মামলা অথবা উভয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেবেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷

কোন ভূমিহীন পরিবারকে কোন প্লট দেয়া হবে তা নির্ধারণ প্রক্রিয়াঃ

ভূমিহীন বাছাই প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হবার পরে প্রতিটি মৌজার প্রাপ্ত খাস কৃষি জমির একটি প্লট করা তালিকা এবং যোগ্য ভূমিহীনদের একটি অগ্রাধিকার তালিকা প্রণীত হবে৷ উপজেলা ভূমি সংস্কার কমিটি এভাবে ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার নাম অনুসারে প্রাপ্ত জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টনের সুপারিশ প্রণয়ন করবেন৷ এই সুপারিশও সর্বসম্মত হওয়া বাঞ্চনীয়৷ মত বিরোধ দেখা দিলে পূর্বে বর্ণিত কাস্টিং ভোটের প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে৷

  • প্রণীত ভূমিহীনদের তালিকায় চিহ্নিত কোনো ভূমিহীন বৈধভাবে যদি কোনো খাস কৃষি জমির দখলে থাকে তাহলে বরাদ্দের ব্যাপারে সেই ভূমিহীন অগ্রাধিকার পারে৷
  • যে এলাকার জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে সেই এলাকার ভূমিহীন পরিবার অগ্রাধিকার পাবে৷ অর্থাত্‍ যে মৌজার জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে সেই মৌজার তালিকাভূক্ত ভূমিহীনদের দাবীই অগ্রগণ্য হবে৷
  • জমি বরাদ্দের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে জমি প্রাপ্ত পরিবারের প্রাপ্য জমির পরিমাণ যেন নিজ সম্পত্তিসহ সাকুল্য ২.০০ একরের বেশী না হয়৷
  • যেখানে মনোনীত এনজিও এবং অন্যান্য সরকারী, আধা সরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা কর্তৃক সংগঠিত ভূমিহীন সমিতি বা দল আছে, সেখানকার প্রাপ্ত খাস জমি, ভূমিহীন সমিতির সদস্যদের মধ্যে, যদি তারা অন্যান্য বিবেচনায় প্রাপ্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হন তবে অগ্রাধিকার পাবে৷

যদি উপরোক্ত অগ্রাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে প্রণীত তালিকার অগ্রপ্রাপ্যতা ভঙ্গ করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে কমিটির সভায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভঙ্গ করা যাবে ৷ তবে এ ক্ষেত্রে কার্য্য বিবরণীতে বিশেষ কারণটি বিস্তারিত লিখতে হবে৷ প্রণীত অগ্রাধিকার তালিকায় মন্তব্য কলামে কার্য্য বিবরণীর অনুচ্ছেদ নম্বর লিখে রাখতে হবে ৷ নির্বাচনের দিনেই উপজেলা পরিষদ নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত ভূমিহীনদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত সভার কার্য্য বিবরণী প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে৷ কমিটির সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুদ্ধ হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে শুধুমাত্র নিম্নোক্ত দুইটি কারণে আপিল করতে পারবেঃ

(ক) আবেদনকারীর অগ্রাধিকার লংঘন করে অন্যকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে৷

(খ) আবেদনকারী একজন তালিকাভুক্ত ভূমিহীন এবং তাহার বৈধ দখলীয় আবাদী খাস জমি অপরকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে৷

উল্লেখ্য যে, খাস জমির স্বত্ব বা নির্বাচিত ভূমিহীনের বৈধতা নিয়ে এই পর্যায়ে কোন আপীল করা যাবে না৷ সংশ্লিষ্ট আপীলের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের রায়ই হবে চূড়ান্ত৷

(১৯৯৮ সনে ১৫ সেপ্টেম্বরের গেজেটে প্রকাশিত খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালার সংশোধনী মতে)

Check Also

যে সকল দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়

যে সকল দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাধ্যতামূলক নয় যদিও ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন এক্টে বলা হয়েছে যে …