Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Wednesday , January 23 2019

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, সাক্ষ্য আইনের ভিডিও লেকচার-০২

63-BBC Evidence Act Header

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
(১৮৭২ সালের ১নং আইন)
[ফ্রী ভার্সন]
আপনি ফ্রী ভার্সন ব্যবহার করছেন। প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে চাইলে 01716409127, 01729820646, 01703924452, 01688107393 (সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা) এই নাম্বারগুলোতে কল দিয়ে প্রিমিয়াম ভার্সনে নিবন্ধন করে নিন।
সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ

35-BBC Sectional Analysis Directions

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নির্দেশনাঃ প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই অংশে সংশ্লিষ্ট আইনের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি নিবন্ধিত ফ্রী মেম্বার বা নিবন্ধিত না হয়ে থাকেন তাহলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম মেম্বারদের জন্য বিশ্লেষণাত্মক অংশটুকু ধারাগুলোর নিচে প্রদর্শিত হবে। মনে রাখা ভাল, “আইন হচ্ছে বুঝার বিষয়, মুখস্তের বিষয় নয়”।

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

ধারা ৫। বিচার্য বিষয় ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারেঃ কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের  অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।

ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যাক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যাক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে  সাক্ষ্য দিতে পারে না।

উদাহরণঃ

(ক) খ- এর মৃত্যু ঘটাইবার ইচ্ছা লইয়া লাঠি দ্বারা প্রহার করিয়া তাহাকে হত্যা করিবার অপরাধে ক অভিযুক্ত হইল।

ক-এর বিচারে বিচার্য বিষয়গুলি নিম্নরুপঃ

ক কর্তৃক খ-কে লাঠি দ্বারা প্রহারঃ

উক্ত প্রহারের ফলে ক কর্তৃক খ এর মৃত্যু ঘটানো ,

ক কর্তৃক খ এর মৃত্যু ঘটাইবার অভিপ্রায়।

(খ) এক মামলায় বাদী যে দলিলের উপর নির্ভর করে, তাহা সে সঙ্গে লইয়া আসে নাই। তবে মামলার প্রথম শুনানীতে উহা দাখিল করিবার জন্য তাহার নিকট প্রস্তুত রাখিয়াছে; উহা দাখিল করা সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধিতে যেরুপ বিধান রহিয়াছে, তাহা ভিন্ন অন্য কোন পন্থায় সে মামলায় পরবর্তী কোন পর্যায়ে উক্ত দলিল দাখিল বা উহাতে বর্ণিত বিষয় প্রমাণ করিতে এই ধারা তাহাকে ক্ষমতা দেয় না।

ধারা ৬।  যে সকল ঘটনা একই কার্যের অংশ সেগুলির প্রাসঙ্গিকতাঃ যে বিষয়গুলি যদিও বিচার্য বিষয় নহে, অথচ যাহারা বিচার্য বিষয়ের সহিত এইরুপভাবে সংশ্লিষ্ট যে, উভয় বিষয় একই ব্যাপারের অংশরুপে গণ্য হইতে পারে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলি একই সময়ে ও একই স্থানে সংঘটিত হইয়া থাকুক অথবা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও স্থানে সংঘটিত হইয়া থাকুক, প্রথমোক্ত বিষয়গুলি প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

(ক) খ-কে প্রহার করিয়া হত্যা করিবার অপরাধে ক  অভিযুক্ত হইয়াছে। প্রহারের সময় বা প্রহারের অব্যবহিত পূর্বে অথবা পরে ক, খ অথবা ঘটনাস্থলে দন্ডায়মান ব্যাক্তিরা যাহাই করিয়া থাকুক, সেই গুলি যদি প্রহারের ঘটনার সহিত একই ব্যাপরের অংশরুপে বিবেচনা করা যায়, তবে সেইগুলি প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(খ) ক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে সে একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। উক্ত অভ্যুত্থানে সম্পত্তি ধ্বংস হয়, সৈন্যবাহিনী আক্রান্ত হয় এবং জেলখানা ভাঙ্গা হয়। ক উক্ত ঘটনাগুলির সবগুলিতে উপস্থিত না থাকিলেও একটি পূর্ন ব্যাপারে অংশ হিসাবে প্রত্যেক ঘটনাই প্রাসঙ্গিক।

(গ) কখ- এর মধ্যে পত্রালাপের অংশ স্বরুপ একটি পত্রে মানহানিজনক বক্তব্য থাকিবার অভিযোগে ক খ এর বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছে। মানহানির উদ্ভবকারী বিষয় সম্পর্কে উভয়পক্ষের মধ্যে যে সব পত্র বিনিময় হইয়াছে এবং যে পত্রগুলি সেই ব্যাপারের অংশ স্বরুপ সেইগুলির সকলটিতে যদিও মানহানিকর বক্তব্য নাই ; তথাপি সমস্ত পত্রই প্রাসঙ্গিক।

(ঘ) প্রশ্ন হইতেছে, খ- এর নিকট হইতে অর্ডার দেওয়া কিছু মাল ক-এর নিকট অর্পিত হইয়াছে, কি হয় নাই। সংশ্লিষ্ট মালগুলো একধিক্রমে কতিপয় মধ্যবর্তী ব্যাক্তির নিকট অপর্ন করা হইয়াছে। প্রত্যেকটি অপর্ণই  প্রাসঙ্গিক বিষয়।

ধারা ৭। যে সকল ঘটনা বিচার্য ঘটনায় উপলক্ষ, কারণ বা পরিমাণঃ যে সমস্ত বিষয়, প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অথবা বিচার্য বিষয়ের অব্যবহিত অথবা অন্যবিধ উপলক্ষ, কারণ বা ফল অথবা যেগুলি উক্ত বিষয় সমূহ সংঘঠিত হইবার পরিবেশ প্রকাশ করে অথবা যে সকল ঘটনা উক্ত ঘটনা বা ব্যাপার সংঘটিত হইবার সুযোগ প্রদান করে, সেইগুলি প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

(ক) প্রশ্ন হইতেছে ক খ- এর উপর দস্যূতা করিয়াছে কিনা। খ দস্যূতার অব্যবহিত পূর্বে টাকা সঙ্গে করিয়া মেলায় গিয়াছিল এবং সে অন্যান্য লোককে টাকা দেখাইয়াছিল বা তাহাদের নিকট টাকার কথা উল্লেখ করিয়াছিল; এইগুলি প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(খ)  প্রশ্ন হইতেছে ক খ- কে হত্যা করিয়াছিল কিনা।

ঘটনাস্থলে বা উহার নিকটে ধস্তাধস্তির ফলে মাটিতে যেসব চিহৃ পড়িয়াছে তাহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(গ) প্রশ্ন হইতেছে খ-কে বিষ প্রয়োগ করিয়াছে কিনা।

বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পূর্বে খ এর স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং খ- এর অভ্যাস, যাহা ক- এর জানা ছিল এবং যাহার ফলে বিষ প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হইয়াছিল, এই গুলি প্রাসঙ্গিক বিষয়।

ধারা ৮। উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণঃ বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সংঘটনে অভিপ্রায় বা উদ্যোগ যে বিষয়ের দ্বারা সৃষ্টি হয় বা যে বিষয় হইতে দৃষ্ট হয়, তাহা প্রাসঙ্গিক বিষয়। কোন মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে অথবা উহাতে বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক কোন বিষয় সম্পর্কে উক্ত মামলা বিচার যা কার্যক্রমের কোন পক্ষ বা কোন পক্ষের প্রতিনিধির আচরণ এবং যে ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত কোন অপরাধ কোন ফৌজদারী কার্যক্রমের বিষয়বস্তু, তাহার আচরণ যদি কোন বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে প্রভাবিত করে বা তদ্দারা প্রভাবিত হয় তরে সেই আচরণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পূর্ববর্তী হউক বা পরবর্তীই হউক, তাহা প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা-১। এই ধারা ‘আচরণ’ শব্দ বিবৃতির অন্তর্ভূক্ত নহে , যদি না উক্ত বিবৃতির সহিত বিরতি ব্যাতিত আর কোন কাজ যাকে বা উহার আর কোন কাজের ব্যাখ্যা করে, কিন্তু এই আইনের অন্য কোন ধারার অন্তর্গত বিবৃতির প্রাসঙ্গিকতা এই ব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত হইবে না।

ব্যাখ্যা-২। কোন ব্যাক্তির আচরণ যখন প্রাসঙ্গিক, তখন সেই ব্যক্তির নিকট বা উপস্থিতিতে ও শ্রুতিগোচরে প্রদত্ত বিবৃতি তাহারআচরণকে প্রভাবিত করলে তাহাও প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

(ক) খ-কে হত্যা করিবার দায়ে ক- এর বিচার  হইতেছে। ক গ- কে হত্যা করিয়াছিল; খ জানিত যে ক, গ- কে হত্যা করিয়াছিল এবং তাহার এই জানিবার কথা প্রকাশ করিয়া দেওয়ার ভয় দেখাইয়া খ এর নিকট হইতে টাকা আদায়ের চেষ্টা করিয়াছিল; এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(খ) একটি খতের টাকা আদায় করিবার জন্য ক খ এর বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছে। খ সেই খত দেওয়ার কথা অস্বীকার করিল।

যেই সময় খত দেওয়া হয় বলিয়া অভিযোগ দেওয়া হইয়াছে, তখন বিশেষ কোন কারণে খ এর টাকার প্রয়োজন ছিল, এই বিষয় প্রাসঙ্গিক।

(গ) খ-কে বিষ দ্বারা হত্যা করিবার দায়ে ক-এর বিচার হইতেছে। খ-কে যে বিষ দেওয়া হইয়াছিল, তাহার অনুরূপবিষ খ-এর মৃত্যুর পূর্বে ক  সংগ্রহ করিয়াছিল; উহা প্রাসঙ্গিক।

(ঘ) প্রশ্ন হইতেছে, কোন একটি দলিল ক- এর উইল কিনা।

কথিত উইলের তারিখের অনতিপূর্বে তর্কিত উইলের অন্তর্ভূক্তি বিষয়গুলির সম্পর্কে ক অনুসন্ধানাদি করিয়াছিল, উইল করা সম্পর্কে যে অ্যাডভোকেটের সহিত পরামর্শ করিয়াছিল এবং উইলের অন্য কতগুলো মুসাবিদা সে প্রস্তুত করিয়াছিল কিন্তু সেইগুলি সে অনুমোদন করে নাই; এই গুলি প্রাসঙ্গিক।

(ঙ) ক কোন একটি অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে।

সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘঠিত হইবার পূর্বে বা সেই সময় অথবা তাহার পরে ক কিছু সাক্ষ্য সংগ্রহ করে; যাহা মামলার ঘটনাবলীকে এমন রুপ দিতে প্রয়াস পায় , যদি তাহার স্বপক্ষে অথবা সে স্বাক্ষ্য¨ বিনষ্ট বা গোপন করে অথবা সম্ভাব্য সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত হইবার বাধা সৃষ্টি বা অনুপস্থিত হইবার ব্যবস্থা করে অথবা স্বা্ক্ষীদিগকে মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিতে প্রবৃত্ত করে, এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(চ) প্রশ্ন হইতেছে, ক খ- এর উপর দস্যূতা করিয়াছে কিনা।

খ-এর উপর দস্যূতা হইবার পর ক এর উপস্থিতিতে গ বলিয়াছিল, ‘‘যাহারা খ এর উপর দস্যুতা করিয়াছে তাহাদের খোঁেজ পুলিশ আসিতেছে’’ এবং ইহার অব্যবহিত পরেই ক দৌড়াইয়া  পালাইয়াছিল, এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(ছ) প্রশ্ন হইতেছে, ক খ এর কাছে ১০,০০০ টাকা ঋণী কিনা।

ক গ এর নিকট ধার চাহিয়াছিল এবং ক এর উপস্থিতি ও শ্রুতিগোচেও ঘ গ কে বলিয়াছিল, ‘‘ আমি ক কে বিশ্বাস না করিবার জন্য তোমাকে পরামর্শ দিতেছি ;  কারণ সে খ এর নিকট ১০,০০০ টাকা  ঋণী ’’ অুঃপর ইহার কোন উত্তর না দিয়া ক চলিয়া গিয়াছিল ; এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(জ) প্রশ্ন হইতেছে ক অপরাধ করিয়াছে কিনা।

অপরাধী সম্পর্কে তদন্ত হইতেছে এই মর্মে একটি সর্তকবানী সম্বলিত চিঠি পাইয়া ক আত্নগোপন করিল এই বিষয়ে এবং উক্ত চিঠির বিষয়বস্তু প্রাসঙ্গিক।

(ঝ) ক একটি  অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে। কথিত অপরাধটি সংঘটিত হইবার পর ক আত্নগোপন করিয়াছিল অথবা উক্ত অপরাধমূলক কার্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পত্তি বা সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ তাহার দখলে ছিল অথবা উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইবার সময় ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইয়া থাকিতে পারে এমন কোন জিনিস সে লুকাইয়া রাখিতে চেষ্টা করিয়াছিল ; এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(ঞ) প্রশ্ন হইতেছে ক এর উপর বলাৎকার হইয়াছে কিনা।

কথিত বলাৎকারের অব্যবহিত পরে সে অপরাধটি সম্পর্কে নালিশ করে । সেই নালিশ, নালিশে ঘটনার এবং অবস্থার যে বর্ণনা দেওয়া হয়; সেই গুলি প্রাসঙ্গিক।

কোন নালিশ দায়ের না করিয়া সে বলে যে, তাহার উপর বলাৎকার হইয়াছে । ৩২ ধারার ১ অনুচ্ছেদ  অনুসারে মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসাবে অথবা ১৫৭ ধারা অনুসারে সমর্থনমূলক সাক্ষ্য হিসাবে ইহা প্রাসঙ্গিগক হইলেও এই ধারা অনুসারে আচরন হিসাবে ইহা প্রাসঙ্গিক নয়।

(ট) প্রশ্ন হইতেছে, ক এর উপর দস্যুতা হইয়াছে কি না।

কথিত দস্যুতার অব্যবহিত পর সেই ঘটনা সম্পর্কে নালিশ দায়ের করে। এই নালিশের এবং যে পরিস্থিতিতে নালিশ করেও নালিশের ঘটনার যে বিবরণ দেয় সেইগুলি প্রাসঙ্গিক।

কোন নালিশ দায়ের না করিয়া সে বলে যে, তাহার উপর দস্যুতা হইয়াছে ; ৩২ ধারার ১ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যুকালীন ঘোষণা হিসাবে অথবা ১৫৭ ধারা অনুসারে সমর্থন মূলক ক সাক্ষ্য হিসাবে ইহা প্রাসঙ্গিক হইলে এই ধারা অনুসারে আচরণ হিসাবে ইহা প্রাসঙ্গিক নহে।

ধারা ৯।     প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনার জন্য আবশ্যকীয় ঘটনাঃ কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় ব্যাখ্যা বা প্রবর্তন করিবার জন্য বিষয়গুলি প্রয়োজনীয় অথবা কান বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় দ্বারা আভাসিত অনুমানকে যাহা সমর্থন বা ভঞ্জন করে অথবা যাহার পরিচয় প্রাসঙ্গিক, সেই ব্যাক্তি বা বস্তুর পরিচয় যাহা প্রতিষ্ঠিত করে অথবা যাহা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক, বিষয়  সংঘািটত হইবার সময় বা স্থান নিদিষ্ট করিয়া দেয় বা অনুরূপগটনার সহিত সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যকার সম্পর্ক যাহা প্রতীয়মান করে, সেই সমস্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যতখানি প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

(ক) প্রশ্ন হইতেছে একটি দলিল ক-এর উইল কি না। তর্কিত উইলের তারিখে ক এর সম্পত্তির ও পরিবারের অবস্থা প্রাসঙ্গিক  বিষয় হইতে পারে।

(খ) একটি অসম্মান জনক আচরণের জন্য খ-কে দায়ী করিয়া ক খ এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করিল। খ হলফ করিয়া বলিল যে,  মানহানির অভিযোগের সহিত সংশ্লিষ্ট ঘটনা সত্য।

যে সময় মানহানিকর বিষয় প্রকাশিত হইয়াছিল, পক্ষগণের তৎকালীন অবস্থা ও সম্পর্ক বিচার্য বিষয় প্রর্বতনের জন্য প্রাসঙ্গিক হইতে পারে।

ক ও খ-এর মধ্যে যে বিষয় লইয়া বিবাদ রহিয়াছে তাহা কথিত মানহানির সহিত সম্পর্কহীন হইলে সেই বিবাদের বিবরণ আপ্রাসঙ্গিক।তবে বিবাদের ফলে যদি ক ও খএর মধ্যকার সম্পর্ক প্রভাবিত হয়, তাহা হইলে তাহাদের মধ্যে বিবাদ রহিয়াছে ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয় হইতে পারে।

(গ) ক কোন একটি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হইয়াছে।

অপরাধটি সংঘটিত হইবার অব্যবহিত পর ক তাহার গৃহ হইতে ফেরারী হইল। ইহা ৮ ধারা অনুসারে বিচার্য বিষয়ের পরবর্তী আচরণ ও বিচার্য বিষয়ের দ্বারা প্রভাবিত আচরণ হিসাবে প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

যে সময় সে গৃহত্যাগ করে তখন তাহার গন্তব্যস্থানে আকস্মিক ও জরুরী প্রয়োজ ছিল, ইহা তাহার আকস্মিক গৃহত্যাগের ব্যাখ্যামূলক ঘটনা হিসাবে প্রাসঙ্গিক। যে কাজ উপলক্ষে সে গৃহত্যাগ করে তাহার বিস্তারিত বিবরণ প্রাসঙ্গিক নহে। তবে কার্যটি যে আকস্মিক ও জরুরী ছিল তাহা দেখাইবার জন্য কার্যের যতটা বিবরণ প্রয়োজন তাহা  প্রাসাঙ্গিক।

(ঘ) ক এর সহিত সম্পাদিত গ এর   চাকরীর চুক্তি ভঙ্গ করিবার জন্য গ-কে প্ররোচনার অভিযোগে খ এর বিরুদ্ধে ক মামলা দায়ের করিল। ক-এর চাকুরী ত্যাগ করিয়া গ-ক কে বলিয়াছিল খ আমাকে আরো ভাল শর্তে চাকরীর প্রস্তাব দেওয়ায় আমি আপনার কার্য ছাড়িয়া দিলাম। এই বিবৃতি গ-এর আচরণের ব্যাখ্যা হিসাবে প্রাসঙ্গিক ঘটানা। গ এর আচরণ বিচার্য বিষয় হিসাবে প্রাসঙ্গিক।

(ঙ) চুরির দায়ে অভিযুক্ত ক কে দেখা গেল যে, সে অপহৃত সম্পত্তি খ কে দিল। আবার খ  উহা ক এর স্ত্রীকে দিল। দেওয়ার সময় খ বলিল, ‘‘ক বলিয়া দিয়াছে আপনি ইহা লুকাইয়া রাখিবেন।’’ লেন-দেন কার্যের একটি অংশের ব্যাখ্যা হিসাবে খ এর এই বিবৃতি প্রাসঙ্গিক।

(চ) দাঙ্গা করিবার অভিযোগে ক এর বিচার হইতেছে। জনতার পুরোভাগে থাকিয়া সে অগ্রসর হইতেছিল বলিয়া প্রমান হইল। জনতা যে সকল দ্বনি দিতে দিতে  কার্যটির প্রকৃতির ব্যাখ্যাহিসাবে এইগুলো প্রাসঙ্গিক।

ধারা ১০। অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কার্যঃ দুই  বা ততোধিক ব্যাক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছে, এইরুপ বিশ্বাস করিবার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাহাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করিবার পর তাহাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাহাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলিয়া মনে করা হইতেছে, এইরুপপ্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার জন্য উহা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যাক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তাহা প্রমাণ করিবার জন্য উহাও প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিবার একটি ষড়যন্ত্রে ক যোগদান করিয়াছে এইরুপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান রহিয়াছে।

ষড়যন্ত্র অনুসারে খ ইউরোপ হইতে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করিয়াছে। অনুরূপউদ্দেশ্যে গ  চট্রগ্রাম হইতে অর্থ সংগ্রহ করিয়াছে। ষড়যন্ত্রে যোগদানের জন্য ঘ খুলনায় লোকজনকে উৎসাহিত করিয়াছে। ষড়যনোত্রর উদ্দেশ্যে সমর্থন করিয়া পাবনায় লেখা প্রকাশ করিয়াছে, গ কর্তৃক চট্রগ্রাম হইতেসংগ্রহীত অর্থ এবং ষড়যন্ত্রের  বিবরণ সম্বলিত চ এর লেখা চিঠির বিষয়বস্তু ঢাকা হইতে ছ কাবুলে জ এর নিকট প্রেরণ করিয়াছে, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব এবং উহাতে ক এর জড়িত থাকা এই উভয় বিষয় প্রমাণ করিবার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক। বিষয়গুলি সম্পর্কে ক যদিও সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকিতে পারে যাহারা উক্ত কাজ গুলো করিয়াছে, তাহারা যদিও ক-এর নিকট অপরিচিত এবং ঘটনাগুলি যদিও তাহার ষড়যন্ত্রে যোগদানের পূর্বে বা তাহার ষড়যন্ত্র ত্যাগ করিবার  পরে ঘটিয়া থাকে, তথাপি এই গুলি প্রাসঙ্গিক।

ধারা ১১। যে সকল ঘটনার অন্য কোনভাবে প্রাসঙ্গিক নহে, সেইগুলি যখন প্রাসঙ্গিক হয়ঃ যে সকল বিষয় অন্য কোন ভাবে প্রাসঙ্গিক নহে, নিম্নবর্নিত ভাবে সেইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(১) যদি সেইগুলি কোন  বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সহিত অসঙ্গিতপূর্ণ হয়।

(২) যদি সেইগুলি স্বয়ং অথবা অন্যকোন বিষয়ের সহিত যুক্ত হইয়া কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অস্তিত্ব বা অস্তিত্বহীনতাকে অধিকভাবে সম্ভব বা অসম্ভব করিয়া তোলে।

উদাহরণঃ

(ক) প্রশ্ন হইতেছে, কোন নিদিষ্ট দিনে ক কলিকাতায় একটি অপরাধ করিয়াছে কিনা।ঐ তারিখে ক  ঢাকা ছিল, ইহা প্রাসঙ্গিক ঘটনা। যে  সময় ঘটনাটি সংঘটিত হয়, তাহার কাছাকাছি সময়ে ক ঘটনাস্থলে হইতে এইরুপ দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করিয়াছিল যে, তাহার পক্ষে উক্ত অপরাধ করা পুরোপুরি অসম্ভব না হইলেও বহুলাংশে অসম্ভব ছিল; ইহা প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

(খ) প্রশ্ন হইতেছে ক কোন একটি অপরাধ করিয়াছে কিনা।

পরিস্থিতি এইরুপ যে অপরাধটি ক, খ, গ অথবা ঘ- এর মধ্যে কোন একজন অবশ্যই করিয়াছে। যে বিষয় হইতে প্রতীয়মান হয় যে, ক ব্যতীত অন্য কাহারও দ্বারা অপরাধটি সংঘটিত হইতে পারে না এবং খ, গ অথবা ঘ কাহারও দ্বারা উহা হয় নাই, তাহা প্রাসঙ্গিক।

ধারা ১২। ক্ষতিপূরণের মামলায় যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করে, তাহা প্রাসঙ্গিকঃ যে সমস্ত মালামাল ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়, সেইগুলিতে যে কোন বিষয় আদালতেকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে সক্ষম করে; তাহা প্রাসঙ্গিক

ধারা ১৩। যখন অধিকার বা প্রথা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে, তখন যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিকঃ যেখানে প্রশ্ন হইতেছে, কোন অধিকার বা প্রথার অস্তিত্ব রহিয়াছে কিনা, সেখানে নি¤œবর্ণিত বিষয়গুলি প্রাসঙ্গিকঃ

(ক)  যে কারবার দ্বারা সংশ্লিষ্ট অধিকার বা প্রথা সৃষ্টি হইয়াছে, দাবি করা হইয়াছে, সংশোধন করা হইয়াছে, স্বীকৃত হইয়াছে , ঘোষণা করা হইয়াছে অথবা অস্বীকৃত হইয়াছে, অথবা উহার অস্তিত্বের সহিত যাহারা অসঙ্গতিপূর্ণ।

(খ)  নিদির্ষ্ট যেই সকল ক্ষেত্রে উক্ত অধিকার বা প্রথা দাবি করা হইয়াছে, স্বীকৃত হইয়াছে, আমল করা হইয়াছে, অথবা যেই সকল ক্ষেত্রে উহার আমলের বিরুদ্ধে আপত্তি করা হইয়াছে, উহা ঘোষণা বা ত্যাগ করা হইয়াছে।

উদাহরণঃ

প্রশ্ন হইতেছে, একটি মৎস্যক্ষেত্রে ক-এর অধিকার আছে কিনা। খ-এর পূর্ব পুরুষগণ কর্তৃক উক্ত মৎস্যক্ষেত্রে প্রাপ্তির দলিল, ক-এর পিতা কর্তৃক মৎস্যক্ষেত্রটি বন্ধক দেওয়ার দলিল, ক-এর পিতা কর্তৃক মৎস্যক্ষেত্রটি পত্তন দেওয়ার দলিল, যাহা উক্ত বন্ধকীর সহিত সামঞ্জস্যবিহীন, যে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক-এর প্রতিবেশীগণ ক-এর উক্ত পিতাকে অধিকার আমল করিতে দেয় নাই, এইগুলি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

ধারা ১৪। যে সকল ঘটনা মনের বা দেহের অবস্থা বা দৈহিক উপলব্ধির অস্তিত্ব প্রদর্শন করেঃ যে সকল বিষয় ইচ্ছা, জ্ঞান, সরল বিশ্বাস, অবহেলা, হঠকারিতা কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি বিদ্বেষ বা কল্যাণ কামনার মানসিক অবস্থার অস্তিত্ব প্রকাশ করে, অথবা কোন শারীরিক অবস্থা বা শারীরিক অনূভুতির অস্তিত্ব প্রকাশ করে, সেই গুলো তখনই প্রাসঙ্গিক, যখন উক্তরুপ কোন মানসিক বা শারীরিক অবস্থা অথবা শারীরিক অনূভুতির অস্তিত্ব বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়।

ব্যাখ্যা ১ঃ যে বিষয়টি কোন প্রাসঙ্গিক মানসিক অবস্থা প্রকাশ করিবার  জন্য প্রাসঙ্গিক হয়, তাহাকে সংশ্লিষ্ট মানসিক অবস্থাটি সাধারণভাবে নহে, নির্দিষ্ট কোন বিচার্য বিষয় প্রসঙ্গে বিদ্যমান রহিয়াছে এইরুপ প্রকাশ করিতে হইবে।

ব্যাখ্যা ২ঃ কিন্তু যে ক্ষেত্রে কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যাক্তির বিচারকালে উক্ত ব্যাক্তি কর্তৃক পূর্বে কৃত কোন অপরাধ এই ধারা অনুসারে প্রাসঙ্গিক, সেই ক্ষেত্রে উক্ত ব্যাক্তির পূর্বে দন্ডিত হওয়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়।

উদাহরণঃ

(ক) অপহৃত মাল বলিয়া জানা সত্বেও উক্ত মাল গ্রহণের দায়ে ক অভিযুক্ত হইয়াছে। বিশেষ একটি অপহৃত দ্রব্য তাহার দখলে ছিল বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে।

একই সময়ে আরও অনেক অপহৃত দ্রব্য তাহার দখলে ছিল, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয় ; কেননা ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, যে সকল দ্রব্য তাহার দখলে ছিল তাহার প্রত্যেকটি এবং সবগুলি ই অপহৃত দ্রব্য বলিয়া সে জানিত।

(খ) অচল মুদ্রা বলিয়া জানা সত্বেও অন্য একজনকে প্রতারণামূলক ভাবে অচলমুদ্রা অর্পণ করিবার অপরাধে ক অভিযুক্ত হইয়াছে।

উক্ত মুদ্রা অপর্নের সময় আরও কিছুসংখ্যক অচল মুদ্রা ক এর দখলে ছিল, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়। ইতি পূর্বে অচল মুদ্রা বলিয়া জানা সত্ত্বেও অন্য একজনকে খাটি মুদ্রা বলিয়া অচল মুদ্রা অপর্ণ করিবার অপরাধে ক দন্ডিত হইয়াছিল, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(গ) খ- এর কুকুর ক- এর ক্ষতি করিলে ুখ- এর বিরুদ্ধে ক ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করিল।কুকুরটি হিংস্র তাহা খ জানিত। ইতিপূর্বে কুকুরটি প, ফ, বকে কামড়াইয়াছিল এবং তাহারা খ এর নিকট নালিশ করিয়াছিল, এই গুলি প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(ঘ) প্রশ্ন হইতেছে একটি বরাতচিঠি স্বীকৃতিদাতা ক, ঐ বরাত চিঠির প্রাপকের নামা ভুয়া তা জানিত কিনা।

অনুরুপভাবে প্রণীত অন্যান্য বরাত চিঠির প্রাপক গণ যথার্থ ব্যাক্তি হইলে তাহারা সেই বরাত চিঠিগুলি ক-এর নিকট প্রেরণ করিবার পূর্বেই ক সেইগুলোতে স্বীকৃতিদান করিয়াছিল, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়, কারণ ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রাপক ভুয়া ব্যাক্তি, ক তাহা জানিত।

(ঙ) ক এর সুনাম ক্ষুন্ন করিবার উদ্দেশ্যে তাহার অপরাধ মূলক বিষয় প্রকাশ করিবার অভিযোগে ক অভিযুক্ত হইল।

ইতিপূর্বে ক কর্তৃক খ এর প্রতি বিদ্বেষ প্রদর্শন করিয়া খ সম্পর্কে কোন বিষয় প্রকাশিত হইয়া থাকিলে তাহা প্রাসঙ্গিক বিষয়; কারণ তদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রকাশনার মাধ্যমে খ  এর সুনাম ক্ষুন্ন করিবার ইচ্ছা ক- এর ছিল।

ক ও খ এর মধ্যে পূর্বে কোন বিবাদ ছিল না এবং অভিযোগকৃত বিষয়টি ক শুনিয়া যাহার পূনরুক্তি করিয়াছিল; এইগুলি প্রাসঙ্গিক ঘটনা; কারণ এইগুলিতে প্রতীয়মান হয় যে, খ এর সুনাম ক্ষুন্ন করিবার ইচ্ছা ক এর ছিল না।

(চ) ক প্রতারণামূলকভাবে গ কে খ এর নিকট স্বচ্ছল বলিয়া পরিচয় দেওয়ার ফলে খগ কে বিশ্বাস করে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বা দেউলিয়া হইবার দরুণ খ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এই অভিযোগে ক এর বিরুদ্ধে খ একটি মামলা দায়ের করে।

ক যে সময় গ কে স্বচ্ছল বলিয়া পরিচয় দিয়াছিল, সেই সময় গ এর প্রতিবেশীরা এবং যাহারা তার সহিত কারবার করিত, তাহারা গ’কে স্বচ্ছল বলিয়া মনে করিত; ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়, কারণ ইহা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ক সরল বিশ্বাসে গ কে স্বচ্ছল বলিয়া পরিচয় দয়িাছিল।

(ছ) গ ঠিকাদারের আদেশক্রমে ক এর বাড়িতে খ যে কার্য করিয়াছে তাহার পারিশ্রমিকের জন্য ক এর বিরুদ্ধে খ মামলা দায়ের করে।

ক আত্মপক্ষ সমর্থনে বলিল যে, খ এর চুক্তি গ এর সঙ্গে হইয়াছিল। ক ঐ কার্যের জন্য গ কে টাকা দিয়াছে, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়। কারণ ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, ক সরল বিশ্বাসে গ এর উপর উক্ত কার্য তদারকের দায়িত্ব অপর্ণ করিয়াছিল। তদানুসারে গ তাহার নিজ দায়িত্বে খ এর সহিত চুক্তি করিয়াছিল, ক এর প্রতিনিধি হিসাবে নহে

(জ) ক একটি সম্পত্তি কুড়াইয়া পাইয়াছিল তাহা অসাধু ভাবে আত্মসাৎ করিবার দায়ে সে অভিযুক্ত হইয়াছে। প্রশ্ন হইতেছে যখন সে উহা আত্মসাৎ করে তখন সে সরল বিশ্বাসে এ কথা মনে করিত কিনা যে উক্ত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক কে খুজিয়া পাওয়া যাইবেনা।

সম্পত্তিটি হারাইয়া যাওয়া সম্পর্কে ক যেখানে ছিল, সেখানে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইয়াছিল; ইহাই প্রাসঙ্গিক বিষয়। কারণ, ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, সম্পত্তির প্রকৃত মালিককে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না একখা ক সরল বিশ্বাসে মনে করিত না।

ক জানিত অথবা তাহার এইরুপ মনে করিবার সঙ্গত কারণ ছিল যে, গ উক্ত সম্পত্তি হারাইয়া যাইবার কথা শুনিয়া উহা সম্পর্কে মিথ্যা দাবী উত্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক ভাবেঐ বিজ্ঞপ্তি দিয়াছিল; ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়। কারণ ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, ক উক্ত বিজ্ঞ্‌িপতর কথা জানিত বলিয়া তাহার সরল বিশ্বাস মিথ্যা প্রতিপন্ন হইবে না।

(ঝ) খ-কে মারিয়া ফেলিবার ইচ্ছায় তাহার উপর গুলি করিবার দায়ে ‘ক অভিযুক্ত হইয়াছে। ‘ক- এর ইচ্ছা প্রমাণ করিবার জন্য ‘ক’ যে ইতিপূর্বেও খ কে গুলি করিয়াছিল, সে ঘটনা প্রমাণ করা যাইতে পারে।

(ঞ) ‘খ’ এর নিকট ভীতি প্রদর্শন করিয়া পত্র প্রেরণের দায়ে ‘ক’ অভিযুক্ত হইয়াছে; ক ইতিপূর্বেও খ এর নিকট অনুরূপযেই সকল পত্র লিখিয়াছে, সেইগুলি এই ক্ষেত্রে প্রমাণ করা যাইতে পারে। কারণ, তাহা হইতে চিঠিগুলোর উদ্দেশ্য প্রতীয়মান হইতে পারে।

(ট)  প্রশ্ন হইতেছে, ‘ক তাহার স্ত্রী ‘’ খ এর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন দোষী কিনা।

কথিত নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের অব্যবহিত পূর্বে বা পরে তাহাদের পরস্পরের প্রতি ভাবের প্রকাশ প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(ঠ) প্রশ্ন হইতেছে, ‘ক এর মৃত্যু বিষ প্রয়োগের দারা ঘটিয়াছে কিনা।

অসুস্থ অবস্থায় ‘ক’ তা হার রোগের লক্ষণ সম্পর্কে যেসব বিবৃতি দিয়াছে তাহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(ড) প্রশ্ন হইতেছে ক এর জীবন বীমা করিবার সময় তাহার স্বাস্থের অবস্থা কিরুপ ছিল।

উক্ত সময় বা উহার কাছাকাছি সময় ক তাহার স্বাস্থের অবস্থা সম্পর্কে যেসব বিবৃতি দিয়াছিল তাহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(ঢ) খ এর নিকট হইতে ক যে গাড়ি ভাড়া করিয়াছিল তাহা যুক্তিসঙ্গতরুপে ব্যবহারোপযোগী ছিল না বলিয়া ক আহত হইল এবং গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে অবহেলার অভিযোগে খ এর বিরুদ্ধে সে মামলা দায়ের করিল।

নির্দিষ্ট গাড়িটির ক্রটি সম্পর্কে আরও একাধিকবার খ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইয়াছে, ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

‘খ’ যে সকল গাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকে, সেইগুলি সম্পর্কে অবহেলা করা তাহার অভ্যাস; ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

(ণ) ইচ্ছা করিয়া খ কে গুলি করিয়া হত্যা করিবার দায়ে ক-এর বিচার হইতেছে।

ক আরও অন্য সময়ে খ এর প্রতি গুলি চালনা করিয়াছে;

ইহা প্রাসঙ্গিক বিষয়; কারণ ইহা হইতে খ-কে গুলি করিবার ব্যাপােও ক এর  ইচ্ছা প্রতীয়মান হয়।

হত্যা করিবার উদ্দেশ্যে লোকের প্রতি গুলি নিক্ষেপ করা ক-এর অভ্যাস; ইহা অপ্রাসঙ্গিক।

(ত) কোন একটি অপরাধের জন্যে ক-এর বিচার হইতছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধটি করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়া ক কিছু বলিয়াছে। ইহা প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

ঐ ধরণের অপরাধ করিবার ব্যাপারে সাধারণভাবে তাহার  প্রবণতা প্রকাশ করিয়া সে কিছু বলিয়াছে; ইহা অপ্রাসঙ্গিক।

ধারা ১৫।   কোন কাজ আকস্মিক অথবা ইচ্ছাকৃত এই প্রশ্নে যে সকল ঘটনার প্রভাব থাকেঃ যখন প্রশ্ন উঠে যে, কোন একটি কার্য ইচ্ছাকৃত না আকস্মিক অথবা বিশেষ জ্ঞান বা ইচ্ছাসহকারে করা হইয়াছে, তখন যদি ঐ কার্য এমন সদৃশ ঘটনা সমষ্টির অংশ হয়, যাহার প্রত্যেকটির ঘটনার সহিত উক্ত কার্যের কর্তা সংশ্লিষ্ট তবে ঐ কার্য প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণঃ

(ক) ক তাহার বাড়ীর উপর বীমাকৃত টাকা পাইবার উদ্দেশ্যে বাড়ি পোড়াইয়া দেওয়ার  অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে।

একাধিকক্রমে ক কতিপয় বাড়িতে বাস করিয়াছে; প্রত্যেকটি বাড়িই বীমাকৃত ছিল। প্রত্যেক বাড়িতেই অগ্নিকান্ড ঘটিয়াছিল এবং প্রত্যেক অগ্নিকান্ডের পর ভিন্ন ভিন্ন  একেকটি  বীমা অফিস হইতে সে টাকা লইয়াছিল; এইগুলি প্রাসঙ্গিক। কারণ এইগুলি প্রকাশ করে যে  অগ্নিকান্ডগুলি আকস্মিক দূর্ঘটনা ছিল না।

(খ) খ এর খাতকদের নিকট হইতে টাকা গ্রহণের জন্য ক কর্মচারী নিযুক্ত হইয়াছে। ক যে টাকা গ্রহণ করিবে তাহা খাতায় জমা করা ক-এর কর্তব্য। একটি ক্ষেত্রে সে প্রকৃতপক্ষে যত টাকা গ্রহণ করিয়াছে তাহা অপেক্ষা কম টাকা খাতায় জমা করিয়াছে।

প্রশ্ন হইতেছে, এই মিথ্যা জমা আকস্মিক না  ইচ্ছাকৃত। উক্ত খাতায় ক অন্যান্য যেই সকল জমা লিখিয়াছে, সেইগুলিও মিথ্যা এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মিথ্যা জমা ক-এর অনুকূলে হইয়াছে, এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(গ) ক প্রতারণামূলকভাবে খ কে একটি অচল টাকা দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত হইয়াছে।

প্র্রশ্ন হইতেছে, টাকাটি অর্পন আকস্মিক ঘটনা কিনা।

খ-কে টাকাটি দেওয়ার অব্যবহিত পূর্বে বা অব্যবহিত পরে ‘ক’ অনুরূপ অচল টাকা গ, ঘ, ও ঙকে দিয়াছে, এইগুলি প্রাসঙ্গিক; কারণ এইগুলি হইতে প্রতীয়মান হয় যে, খ-কে অচল টাকা দেওয়া আকস্মিক ঘটনা নহে।

ধারা ১৬। ব্যবসায় ক্ষেত্রে কান রীতির অস্তিত্ব যখন প্রাসঙ্গিকঃ যখন প্রশ্ন উঠে যে, একটি নিদিষ্ট কার্য করা হই্‌য়াছিল কিনা, তখন সেই কার্যক্রমে উক্ত কার্যটি স্বাভাবিকভাবে করা হইত; সেইরুপে কোন কার্যক্রমের অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক বিষয়।

উদাহরণঃ

(ক) প্রশ্ন হইতেছে, একটি চিঠি প্রেরিত হইয়াছে কিনা। ডাকে দেওয়ার জন্য সমস্ত চিঠি এক জায়গায় জমা করা সাধারণ কার্যপদ্ধতি ছিল এবং সেই চিঠি খানি সেই জায়গায় রাখা হইয়াছিল; এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

(খ) প্রশ্ন হইতছে, কোন চিঠি ক-এর নিকট পৌছিয়াছে কিনা। চিঠি খানি যথারীতি ডাকে দেওয়া হইয়াছে এবং ডেডলেটার অফিসের মাধ্যমে উহা ফেরত আসে নাই; এইগুলি প্রাসঙ্গিক।

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

Check Also

দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মোকদ্দমার জন্য একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং

ড্রাফটিং এর বিষয়ঃ দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মোকদ্দমার জন্য একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা …