Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Thursday , June 20 2019

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, দন্ডবিধির ভিডিও লেকচার-১৮

55-BBC Penal Code Header

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি
দন্ডবিধি, ১৮৬০
(১৮৬০ সালের ৪৫নং আইন)
[ফ্রী ভার্সন]
আপনি ফ্রী ভার্সন ব্যবহার করছেন। প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে চাইলে 01716409127, 01729820646, 01703924452, 01688107393 (সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা) এই নাম্বারগুলোতে কল দিয়ে প্রিমিয়াম ভার্সনে নিবন্ধন করে নিন।
ধারা ২৯৯ থেকে ৩৭৭

35-BBC Sectional Analysis Directions

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নির্দেশনাঃ প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই অংশে সংশ্লিষ্ট আইনের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি নিবন্ধিত ফ্রী মেম্বার বা নিবন্ধিত না হয়ে থাকেন তাহলে ধারাগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম মেম্বারদের জন্য বিশ্লেষণাত্মক অংশটুকু ধারাগুলোর নিচে প্রদর্শিত হবে। মনে রাখা ভাল, “আইন হচ্ছে বুঝার বিষয়, মুখস্তের বিষয় নয়”।

সংশ্লিষ্ট ভিডিও লেকচার

1421-YouTube Subscribe

বিঃ দ্রঃ ইউটিউবের মাধ্যমে ভিডিও লেকচার পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিকে Subscribe করুন। Subscribe না করলে ভিডিও লেকচারের Notifications পাবেন না। Subscribe করতে নিচের SUBSCRIBE NOW বাটনটিতে ক্লিক করে Active থাকুন।

SUBSCRIBE NOW

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

ধারা ২৯৯। অপরাধজনক নরহত্যা: কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ:

(ক) ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। চ শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কৃপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে ক ও খ রয়েছে এবং অন্য পাশে চ রয়েছেঃ ক জানে যে, চ অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু খ তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে চ-এর মৃত্যু হয় সে উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও, ক ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য খ-কে অনুরোধ করে। খ অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে চ এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে খ কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) ক একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে খ-এর মৃত্যু হয়। ক জানত না যে, খ সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে ক যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে খ-কে হত্যা করতে চাহে নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

ব্যাখ্যা ১: যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা ২: যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত ।

ব্যাখ্যা ৩: মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

ধারা ৩০০। খুন: খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা

চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

উদাহরণসমূহ:

(অ) ক চ-কে নিহত করার উদ্দেশ্যে তার প্রতি গুলিবর্ষণ করে ফলে চ-এর মৃত্যু হয়। ক খুন করেছে।

(আ) ক জানে যে, চ এমন একটি রোগে ভুগতেছে যে, একটি মাত্র আঘাতই তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। এটা জানা সত্ত্বেও ক চ-কে দৈহিক আহত করার উদ্দেশ্যে তাকে আঘাত করে, এই আঘাতের ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটে। ক খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, যদিও অনুরূপ আঘাত কোন স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সম্পন্ন লোকের প্রকৃতির নিয়মের মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে পর্যাপ্ত ছিল না। কিন্তু চ-এর যে এমন একটি রোগ রয়েছে, তা যদি ক-এর জানা না থাকে এবং সে অবস্থায় এমন একটি আঘাত দেয়, যার ফলে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে না, তবে ক যদিও দৈহিক আঘাত দেওয়ার জন্যই আঘাতটি দিয়েছে, তবুও সে খুনের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হবে না, যদি না সে মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যেই অথবা যে আঘাতের ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে আঘাত দানের উদ্দেশ্যে আঘাতটি দিয়ে থাকে।

(ই) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে চ-কে এমন একটি তরবারীর কোপ অথবা লাঠির আঘাত দেয়, যা স্বাভাবিকভাবে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট। ফলে চ-এর মৃত্যু হয়। এই ক্ষেত্রে ক খুনের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হবে, যদিও সে চ-এর মৃত্যু ঘটাতে চাহে নাই।

(ঈ) ক কোন অজুহাত ব্যতীত জনতার প্রতি একটি গুলি ভর্তি কামান হতে গুলিবর্ষণ করে এবং জনতার একজনকে হত্যা করে । ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, যদিও কোন বিশেষ ব্যক্তিকে নিহত করার জন্য তার কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পিত অভিসন্ধি ছিল না।

ব্যতিক্রম ১: যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:

প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না। সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।

ব্যাখ্যা: প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

উদাহরণসমূহ:

(অ) ক, চ-এর উস্কানিতে উত্তেজিত হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চ-এর শিশু পুত্র ছ-কে নিহত করে, এটা খুন, কেননা, শিশু পুত্রটি উস্কানি দেয় নাই এবং উস্কানির দরুণ কৃত কোন কাজের জন্য দুর্ঘটনাক্রমে বা দুর্ভাগ্যক্রমে শিশুটির মৃত্যু হয় নাই।

(আ) ছ খ-কে মারাত্মক ও আকস্মিক উস্কানির কারণে ক, ছ-এর প্রতি পিস্তলের গুলিবর্ষণ করে। ছ-র কাছাকাছি চ দাড়িয়ে ছিল, কিন্তু সে ক-এর দৃষ্টিগোচর ছিল না এবং চ-কে হত্যা করার ইচ্ছা ক-এর ছিল না অথবা চ হত্যা হতে পারে বলে ক-এর জানা ছিল না। কিন্তু ছ-এর প্রতি পিস্তলের গুলিবর্ষণের কারণে চ-এর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে ক খুনের অপরাধ করে নাই, কেবল দণ্ডনীয় শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করেছে।

(ই) চ আইনসম্মতভাবে ক-কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ফলে ক হঠাৎ ও আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে চ-কে হত্যা করে। এটা খুন, কেননা এটা উস্কানির ফলে একজন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তার ক্ষমতা প্রয়োগক্রমে কৃত একটি কাজ।

(ঈ) ক একজন সাক্ষী, চ একজন ম্যাজিষ্ট্রেট। চ-এর সম্মুখে ক সাক্ষ্যদানকালে চ বলেন যে, তিনি ক-এর একটি কথাও বিশ্বাস করেন না। তিনি আরও বলেন যে, ক মিথ্যা শপথ ও সাক্ষ্যদান করছে। এটাতে ক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং চ কে হত্যা করে। এটা খুন।

(এ) ক চ-এর নাক ধরে টানার চেষ্টা করে। চ তার আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে ক-কে আটক করে যাতে সে (ক) তার (চ-এর) নাক ধরে টানতে না পারে। এটাতে ক হঠাৎ মারাত্মকভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং চ-কে হত্যা করে, এটা খুন, কেননা যে কার্যটি হতে ক উস্কানি পেয়েছে বা উত্তেজিত হয়েছে, সে কার্যটি আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

(ঐ) চ খ-কে আঘাত করে। এই প্ররোচনায় খ ভয়ংকর উত্তেজিত হয়। খ-এর উত্তেজনার সুযোগে তাকে দিয়ে চ-কে হত্যা করানোর উদ্দেশ্যে তৃতীয় ব্যক্তি ক খ-এর হাতে একটি ছোরা দেয়। ছোরাটি দিয়ে খ চ-কে হত্যা করে। এখানে খ হয়ত শুধু শাস্তি যোগ্য নরহত্যা করেছে, কিন্তু ক খুনের অপরাধে দোষী।

ব্যতিক্রম ২: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

উদাহরণ: চ ঘোড়ার চাবুক দিয়ে ক-কে প্রহার করার চেষ্টা করে। সে এমনভাবে প্রহার করতে চাহে, যাতে ক-এর শরীরে কোনরূপ মারাত্মক জখম না হয়। ক একটি পিস্তল নিয়ে আস্ফালন করে চ তবুও তাকে প্রহার করার চেষ্টা করে। অপর কোনভাবে প্রহার হতে আত্নরক্ষা করার উপায় নাই বলে সরল মনে বিশ্বাস করে ক গুলি করে চ-কে হত্যা করে। ক খুন করে নাই, শুধু শাস্তিযোগ্য নরহত্যা ঘটিয়েছে।

ব্যতিক্রম ৩: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মতৃ ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

ব্যতিক্রম ৪: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।

ব্যাখ্যা: এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যতিক্রম ৫: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

উদাহরণ: ক প্ররোচনা দিয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা করে, চ-এর বয়স আঠারো বৎসর অপেক্ষা কম। এক্ষেত্রে চ অপ্রাপ্ত বয়স্কতা হেতু তার নিজের মৃত্যুকে সম্মতি দানে অপারগ ছিল; সুতরাং ক খুনের অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করেছে।

ধারা ৩০১। যে ব্যক্তির মৃত্যু অভীষ্ট ছিল সেই ব্যক্তি ভিন্ন অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া নরহত্যা অনুষ্ঠানঃ কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।

ধারা ৩০২। খুনের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি খুনের অপরাধ করে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অথ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৩। যাবজ্জীবন কারাবাসে দন্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তিঃ কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৪। খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তিঃ কোন ব্যক্তি যদি খুন নয় এমন শাস্তি যোগ্য নরহত্যা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, অথবা এমন দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, যে দৈহিক জখমের দরুণ মৃত্যু ঘটতে পারে; অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি সম্পাদনের দরুণ মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা থাকে, অথচ কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হয় নাই যে দৈহিক জখম করার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।

ধারা ৩০৪ক। অবহেলার ফলে ঘটিত মৃত্যুঃ কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৪খ। বেপরোয়া যান বা অশ্ব চালনার দ্বারা মৃত্যু ঘটানঃ কোন ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে জনপথে যান চালিয়ে বা অশ্বারোহণের কর্তৃক নিন্দনীয় নরহত্যা নয় এমন মৃত্যু ঘটাইলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৫। শিশু বা উম্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তাকরণঃ যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৬। আত্মহত্যায় সহায়তাকরণঃ কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩০৭। খুনের উদ্যোগঃ কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ: যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

উদাহরণসমূহ:

(অ) ক চ-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। ক এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।

(আ) ক একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ====; ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(ই) ক, চ কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত ক অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক চ-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে চ-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ঈ) ক চ-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি ক-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি চএর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা চ-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য চ-এর চাকরকে প্রদান করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

ধারা ৩০৮। অপরাধজনক নরহত্যা অনুষ্ঠানের উদ্যোগঃ কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যে অবস্থায় সে কার্যটি করার ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে সে খুন নয় এমন শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করার দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি অনুরূপ কাজের দরুণ কোন ব্যক্তি আহত হয়, তবে সে ব্য (অপরাধকারী) সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ: ক মারাত্মক ও আকস্মিক উস্কানিতে প্ররোচিত হয়ে এমন অবস্থায় চ-এর প্রতি পিস্ত লের গুলি বর্ষণ করে যে, তার ফলে যদি সে চ এর মৃত্যু সংঘটন করত, তবে সে খুন নয় এমন শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দায়ে অপরাধী হত । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

ধারা ৩০৯। আত্মহত্যা করিবার উদ্যোগ: কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩১০। ঠগ: কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরে কোন সময় খুনের মাধ্যমে বা খুন সহ দসু্যতা সাধন বা শিশু অপহরণের জন্য অপর এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে অভ্যাসগতভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি একজন ঠগ ।

ধারাঃ ৩১১। ঠগের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩১২। গর্ভপাতকরণ: কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায়, এবং যদি সে গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাচাবার উদ্দেশ্যে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: যে স্ত্রীলোক নিজেই নিজের অকাল গর্ভপাত করায়, সে স্ত্রীলোকও এই ধারার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ধারা ৩১৩। নারীর সম্মতি ব্যতিরেকে গর্ভপাত করান: কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে-স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩১৪। গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে স্মপাদিত কার্যের ফলে মৃত্যু: কোন ব্যক্তি যদি কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কোন কাজের ফলে সে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু ঘটায়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

যদি কাজটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া করা হয়: যদি কাজটি সে স্ত্রীলোকটির সম্মতি ছাড়া করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি হয় যাবজীবন কারাদণ্ডে, কিংবা উপরোলিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই অপরাধের জন্য কাজটি মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে অপরাধকারীর অবগতি অপরিহার্য নয়।

ধারা ৩১৫। শিশুর জীবন্ত ভূমিষ্ঠ হওয়ায় বাধাদান করিবার বা জন্মের পর উহার মৃত্যু ঘটাইবার উদ্দেশ্যে কৃত কার্য: কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুর জন্মের পূর্বে এমন কোন কাজ করে, যাতে শিশুটি জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ট হতে না পারে বা জন্মের পরে তার মৃত্যু হয় এবং অনুরূপ কাজের ফলে শিশুটি জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ট না হয় বা ভূমিষ্ট হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়- এবং যদি কাজটি মাতার জীবন রক্ষার জন্য সরল বিশ্বাসে কৃত না হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ: ক এমন একটি কাজ করে, যার দরুণ জনৈকা গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যু হতে পারে বলে সে জানে এবং কাজটি এমন ধরনের যে, তার ফলে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু হলে তা শাস্তি যোগ্য নরহত্যার অপরাধ হত। ক-এর কৃত উক্ত কার্যটির ফলে স্ত্রীলোকটি আহত হয়, কিন্তু নিহত হয় না; কিন্তু স্ত্রীলোকটির গর্ভস্থ একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটে। ক এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

ধারা ৩১৬। অপরাধজনক নরহত্যা বলিয়া গণ্য কার্যের সাহায্যে জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু সংঘটন: যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন কার্য করে, যদ্ধারা সে কোন মৃত্যু ঘটালে তা হলে সে অপরাধজনক নরহত্যা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হত এবং অনুরূপ কার্যের সাহায্যে একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে, দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ: ক, সে একটি গর্ভবতী নারীর মৃত্যু ঘটাতে পারে এই সম্ভাবনা আছে জেনে এমন একটি কাজ করে, যা উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটালে দণ্ডাহঁ নরহত্যা বলে গণ্য হত। নারীটি জখম হয় কিন্তু মৃত্যুবরণ করে নাই, কিন্তু তদ্বারা উক্ত নারীর গর্ভস্থ একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটে। ক, এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

ধারা ৩১৭। পিতা বা মাতা অথবা তত্ত্ববধায়ক কর্তৃক বার বৎসরের নিম্ন বয়স্কশিশু পরিত্যাগ ও বর্জন: কোন ব্যক্তি যদি বার বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন শিশুর পিতা বা মাতা অথবা উক্ত শিশুর দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও শিশুটিকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার উদ্দেশ্যে কোন স্থানে পরিত্যাগ করে যায় বা ফেলে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এইরূপ অরক্ষিত অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হলে তজ্জন্য খুনের বা শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অভিযোগে অপরাধীর বিচার প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে এই ধারাটি প্রণীত হয় নাই।

ধারা ৩১৮। মৃতদেহের গোপন ব্যবস্থার সাহায্যে জন্ম গোপনকরণ: কোন ব্যক্তি যদি শিশুকে গোপনে সমাধিস্থ করে বা অপর কোন রূপে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির জন্ম গোপন করে বা গোপন করার চেষ্টা করে-শিশুটির মৃত্যু জন্মের আগেই হোক, আর জন্মের পরেই হোক, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩১৯। আঘাত: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণ ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।

ধারা ৩২০। গুরুতর অঘাত: শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই গুরুতর বলে পরিগণিত করা যায়:

প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।

দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।

তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।

চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।

পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।

ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।

সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।

অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।

ধারা ৩২১। সেচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত দান করা: কোন ব্যক্তি যদি এমন কার্য করে, যার ফলে অন্য কোন ব্যক্তি আহত হয়, এটাই তার উদ্দেশ্য, অথবা সে কার্যটি করলে অন্য কোন ব্যক্তি তাতে আহত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে কার্যটি করে, এবং কার্যটি করার ফলে অন্য কোন ব্যক্তি আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি “ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।

ধারা ৩২২। সেচ্ছাকৃত ভাবে গুরুতর আঘাত দান: ——–

ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি কার্যত গুরুতর আঘাত দেয় এবং গুরুতর আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে বা গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানে, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হয়। অন্যথায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হবে না। তবে সে যদি এক শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে বা এক শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে অপর কোন শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ: ক, চ-এর মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্য করে বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও চ-কে একটি আঘাত দিল কিন্তু এই আঘাতের ফলে চ-এর মুখমণ্ডল বিকৃত হয় না, তবে বিশ দিন যাবৎ চ দারুণ দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে, কইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে।

ধারা ৩২৩। স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তি: যদি কেউ ৩৩৪ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়াই অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৪। স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে আঘাত দান করা: কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৪ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ছাড়া অপর কোন ক্ষেত্রে, কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটিবার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার একটি অপরাধ সংঘটনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটাতে পারে, সে অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে অথবা অগ্নি বা কোন উত্তপ্ত বস্তু দ্বারা আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য দ্বারা আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা আহত করে অথবা যে দ্রব্য শ্বাস টানিলে, ভক্ষণ করলে বা দেহের মধ্যে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা আহত করে, অথবা কোন পশু দ্বারা আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৫। স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দানের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বিহিত ক্ষেত্র ছাড়া অপর কোন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৬। স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আধাত দান করা: কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার দিয়ে একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য এই হাতিয়ারটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য কর্তৃক গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে আহত করে, অথবা যে দ্রব্য শ্বাস কর্তৃক গ্রহণ করলে, উদরস্থ করলে বা রক্তে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা গুরুতর আহত করে অথবা কোন পশু দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৬ক। স্বেচ্চাকৃতভাবে দু’টি চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুটির দুষ্টিশক্তি নষ্টকরণ বা মুখমন্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ: যে ব্যক্তি ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়া স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণিত উপায়ে-

(ক) ৩২০ ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে উভয় চক্ষুর ব্যাপারে হয় উৎপাটন দ্বারা অথবা যেকোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ কর্তৃক, কিংবা

(খ) ৩২০ ধারার ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে কোন এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করে, তবে সে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজীবন কারাদণ্ডে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

ধারা ৩২৭। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়া লওয়া বা কোন অবৈধ কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত আদায় করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে বেআইনী কোন কার্য করার জন্য বা কোন অপরাধ সংঘটনে সুবিধা সৃষ্টি করতে বাধ্য বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৮। কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বিষ ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির উপর কোন বিষ অথবা অপর কোন বুদ্ধিনাশক, নেশ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর ঔষধ বা অপর কিছু প্রয়োগ করে বা প্রযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এবং উক্ত ব্যক্তিকে আহত করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা উহার সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা ইহার ফলে উক্ত ব্যক্তি আহত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে অপরাধী দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩২৯। বলপূর্বক সম্পত্তি বা মূল্যবান দলিল গ্রহণ বা এমন কোন কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা সে ব্যক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা কোন মূল্যবান জামানত আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা উক্ত ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে বেআইনী কোন কার্য করার জন্য বা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের সুবিধা বিধানের জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতরভাবে আহত করে, তবে অপরাধী যাবজীবন কারাদণ্ডে, কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩০। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়অ লওয়া বা কোন অবৈধ কার্য করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি বা জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবী পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা যে তথ্য দানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে উক্ত আঘাতকারী সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:

(অ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। সে চ-কে কোন অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করার জন্য পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

(আ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। কোন জায়গায় অপহৃত দ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে তথ্যদানে বাধ্য করার জন্য সে চ-কে পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

(ই) ক জনৈক রাজস্ব-বিভাগীয় কর্মচারী। চ-এর কিছু রাজস্ব বাকি পড়িয়াছে, চ-কে তার বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করে দিতে বাধ্য করার জন্য ক পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

(ঈ) ক জনৈক জমিদার, জনৈক রায়তকে তার বকেয়া খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে পীড়ন করে । ক এই ধারা বলে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

ধারা ৩৩১। বলপূর্বক অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায় করা বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তির বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তি, বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাহারো কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবি পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা যে তথ্যদানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে, সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সে ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে শুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত গুরুতর আঘাতকারী দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩২। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদান করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদনরত অবস্থায়, অথবা সে সরকারী কর্মচারীকে বা অন্য কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদন হতে নিরস্ত, বা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আহত করে, অথবা উক্ত সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার দায়িত্ব আইনানুগভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেছেন বা বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

ধারা ৩৩৩। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদান করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারীকে সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদনরত অবস্থায়, অথবা সে সরকারী কর্মচারীকে বা অন্য কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদন হতে নিরস্ত বা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার দায়িত্ব আইনানুগভাবে সম্পাদন উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেছেন বা করতে উদ্যত হয়েছেন বলে তাকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৪। উত্তেজনাবশতঃ স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা: কোন ব্যক্তি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, যদি সে যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে তাকে ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ না করে থাকে, বা যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে সে ব্যক্তি ছাড়া অপর কারো প্রতি আঘাত হতে পারে বলে তার জানা না থাকে-তবে উক্ত আঘাতকারী একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৫। উত্তেজনাবশতঃ স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা: কোন ব্যক্তি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, যদি ষে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে তাকে ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ না করে থাকে বা যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে, সে ব্যক্তি ছাড়া অপর কারো প্রতি মারাত্মক আঘাত হতে পারে বলে তার জানা না থাকে, তবে অনুরূপ গুরুতর আঘাতকারী চার বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: উপরের শেষ দুইটি ধারা ৩০০ ধারার ১ ব্যতিক্রমের অনুরূপ শর্তাবলী সাপেক্ষে।

ধারা ৩৩৬। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য: যে ব্যক্তি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে কোন কার্য করে, যার ফলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় বা অন্যান্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৭। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যের মাধ্যমে আঘাত দান করা: কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ কর্তৃক কাউকে আহত করে, যে কাজটি এতই বেপরোয়া বা অবহেলামূলক যে, তার ফলে মানুষের জীবনের প্রতি বিপদাশঙ্কা দেখা দেয় অথবা অন্যান্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৮। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যের মাধ্যমে গুরুতর আঘাত দান করা: যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ কর্তৃক কাউকে গুরুতরভাবে আহত করে, যে কাজটি এতই বেপরোয়া বা অবহেলামূলক যে তার ফলে মানুষের জীবনের প্রতি বিপদাশঙ্কা দেখা দেয় অথবা অন্যান্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচ হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৮ক। জনপথে বেপরোয়া যান বা অশ্ব চালনা করিয়া গুরুতর আঘাত: যে ব্যক্তি বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গণপথে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে কোন ব্যক্তিকে এমন গুরুতর আঘাত করে যাতে মনুষ্যজীবন ও অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থ দন্ডে বা উভয়বিধ দন্ডই দন্ডিত হবে।

ধারা ৩৩৯। অবৈধ বাধা: যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।

উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয় । ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

ধারা ৩৪০। অবৈধ অবরোধ: যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চলাচলে অবৈধভাবে এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যে, উক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে ‘অবৈধভাবে অবরোধ করেছে’ বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ:

(ক) ক, চ-কে একটি দেয়াল-ঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে চ-কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে চ সে দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয় । ক চ-কে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে।

(খ) ক কোন অট্টালিকার সকল বহিৰ্দ্ধারে আগ্নেয়াস্ত্রে-সজ্জিত ব্যক্তিদের মোতায়েন করে চ-কে বলে যে, চ অট্টালিকা হতে নিষ্ক্রমণের চেষ্টা করলে আগ্নেয়াস্ত্র-সজ্জিত ব্যক্তিরা চ-এর প্রতি গুলিবর্ষণ করবে। ক অবৈধভাবে চ-কে অবরোধ করেছে।

ধারা ৩৪১। অবৈধ বাধাদানের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪২। অবৈধ অবরোধের শাস্তি: যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৩। তিন বা ততোধিক দিবসের জন্য অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কাইকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৪। দশ বা ততোধিক দিবসের জন্য অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৫। যে ব্যক্তির মুক্তিকল্পে রীট জারি করা হইয়াছে তাহার অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারী কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারী কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৬। গোপনে অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারী কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারী কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৭। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়া লইবার বা অবৈধ কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কউকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে এবং সে বন্দি করার উদ্দেশ্য হয়, বন্দি ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত আদায় করা, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কোন বেআইনী কার্য করতে বাধ্য করা, অথবা কোন অপরাধ সংঘটনের সহায়ক কোন তথ্য দানে বাধ্য করা, তবে অনুরূপ অন্যায়ভাবে বন্দিকারী ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৮। স্বীকারোক্তি আদায় করিবার বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করিতে বাধ্য করিবার জন্য অবৈধ অবরোধ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে এবং এইরূপ অন্যায়ভাবে বন্দি করার উদ্দেশ্য হয়, বন্দি ব্যক্তির নিকট থেকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট থেকে এমন কোন স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করা, যার ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ ধরা পড়তে পারে, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণ করাতে অথবা কোন পাওনা বা দাবি মিটাইতে বাধ্য করা, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে এমন কোন তথ্যদানে বাধ্য করা, যার ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে, তবে অনুরূপ অন্যায়ভাবে বন্দিকারী ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৪৯। বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:

তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-

প্রথমত: তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।

দ্বিতীয়ত: কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।

তৃতীয়ত: কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি তব্ধ করে।

ধারা ৩৫০। অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ:

(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চতে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাংক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(খ) চ একটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে রয়েছে। ক চ-এর ঘোড়াকে বেত্ৰাঘাত করে গতি ত্বরান্বিত করে দেয়। এখানে ক চ-এর ঘোড়ার গতির পরিবর্তন করে চ-এর গতি পরিবর্তন করেছে। সুতরাং ক চ -এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি চ-এর সম্মতি ব্যতীত চএর উপর এই বল প্রয়োগ করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা অথবা চ আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি ক এই বলপ্রয়োগ করে থাকে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে।

(গ) চ একটি পান্ধীতে আরোহণ করে রয়েছে। ক চ-এর মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পান্ধীর খুঁটি ধরে উহা থামিয়ে দেয়। এখানে ক চ-এর গতি স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং তার দৈহিক শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং যেহেতু সে উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই চ-এর সম্মতি ব্যতীত ও একটি অপরাধ অনুষ্ঠানের অভিপ্রায়ে তা করেছে, সুতরাং সে চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ঘ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাস্তায় চ-এর গায়ে ধাক্কা লাগায়। এখানে ক তার দেহের শক্তি প্রয়োগ করে নিজের দেহকে এমনভাবে সঞ্চালিত করেছে যে, উহা চ-এর সংস্পর্শে আসিয়াছে। সুতরাং সে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি চ-এর সম্মতি ব্যতীত এই বল প্রয়োগ করে থাকে এবং তা করার উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত, বা বিরক্ত করা, অথবা চ আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে তা করে থাকে, তবে সে চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ঙ) ক একটি টিল ছুড়িল। তার ঢ়িল ছোড়ার উদ্দেশ্য ছিল, অথবা ঢিল ছোড়ার ফল এইরূপ হতে পারে বলে তার জানা ছিল যে, ঢিলটি গিয়ে চ-এর গায়ে লাগিবে, অথবা চএর কাপড়ে লাগিবে, অথবা চ যা বহন করে নিতেছে এমন কিছুতে লাগবে অথবা উহা পানিতে পড়ে পানি উৎক্ষিপ্ত করে চ-এর কাপড়ে বা চ যা বহন করে নিতেছে তাতে লাগিবে। এখানে, ঢিলটি ছোড়ার ফলে যদি চ-এর বা চ-এর কাপড়ের সংস্পর্শে কোন কিছু আসিবার উদ্দিষ্ট কাজটি সংঘটিত হয়, তবে ক, চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। যদি সে চ-এর সম্মতি ব্যতীত উহা করে থাকে এবং তা করার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা, তবে ক, চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(চ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনৈক মহিলার ঘোমটা খুলে ফেলে। এখানে, ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহিলাটির উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি মহিলাটির সম্মতি ব্যতীত । তা করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয়- অথবা যদি তার জানা থাকে যে- মহিলাটি আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হবে, তবে সে মহিলাটির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ছ) ক চ-এর সম্মতি ব্যতীত চ-এর উপর একটি কুকুরকে ঝাপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এখানে ক-এর উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা, তবে ক চএর উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে।

ধারা ৩৫১। আক্রমণ: কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা: কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ:

(ক) ক, চ-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে চ যাতে বিশ্বাস করে যে ক তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই ক তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ : হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে । ক আক্রমণ করেছে।

(খ) ক একটি হিংস্র কুকুরের মুখ বন্ধনী খুলতে শুরু করে। চ যাতে বিশ্বাস করে যে, ক কুকুরটিকে দিয়ে তাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই কুকুরটির মুখ বন্ধনী খুলে দিচ্ছে, এই উদ্দেশ্যেই, অথবা চ এইরূপ বিশ্বাস করতে পারে জানা সত্ত্বেও ক এই কাজ করে। ক-চ এর উপর আক্রমণ করেছে।

(গ) ক একটি ছুড়ি ঘুরাতে ঘুরাতে চ-কে বলিল, তোমাকে পিটুনি দেব। এখানে যদিও কেবল ক-এর ব্যবহৃত কথাগুলি কোনক্রমেই আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে না, এবং যদিও অপর কোন অনুষঙ্গ ব্যতীত কেবল ক-এর অঙ্গভঙ্গি আক্রমণতৃল্য নয়, তবুও অঙ্গভঙ্গি ও তার আনুষঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক কথাগুলি মিলিয়ে আক্রমণ বলে পরিগণিত হবে।

ধারা ৩৫২। গুরুতর আকস্মিক উত্তেজনার ফল ব্যতীত প্রকারান্তরে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তির মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনা ছাড়াই সে অন্য ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: মারাত্মক আকস্মিক প্ররোচনা এই ধারা মোতাবেক কোন অপরাধের জন্য বিহিত সাজা লাঘব করবে না, যদিপ্ররোচনাটি অপরাধী অজুহাতস্বরূপ স্বয়ং করে থাকে বা স্বেচ্ছায় উহার উস্কানি দিয়ে থাকে, অথবা প্ররোচনাটি আইন মান্য করে অনুষ্ঠিত কোন কাজের ফলে কিংবা কোন কোন কাজের ফলে ঘটে থাকে, অথবা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগ করে কৃত কোন কাজের ফলে প্ররোচনাটি ঘটে থাকে। প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা যার ফলে সাজার লাঘব হতে পারে, তা ঘটনাগত প্রশ্ন।

ধারা ৩৫৩। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদানের নিমিত্ত আক্রমণ ও অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি এমন অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার উপর বল প্রয়োগ করে, যে অন্য ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হিসেবে কর্তব্য সম্পাদনরত একজন সরকারী কর্মচারী, অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারীকে তার সরকারী কর্মচারী হিসেবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদনে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তার উপর অনুরূপ আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারী তার সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনসম্মতভাবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদন ব্যবস্থিত কোন কিছু করেছে বা করার চেষ্টা করেছে বলে তাকে আক্রমণ করে বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে ক্লোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৫৪। কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে তাহাকে আক্রমণ ও তৎপ্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে তার উপর আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, অথবা এইরূপ করার ফলে সংশ্লিষ্ট নারীর শীলতাহান হতে পাৰুে ন সত্ত্বেও তার উপর উপরোক্ত আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৫৫। গুরুতর উত্তেজনাবশতঃ ব্যতীত, প্রকারান্তরে কোন ব্যক্তিকে অপমান করিবার অভিপ্রায়ে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত গুরুতর প্ররোচনা ছাড়াই তাকে আক্রমণ করে, বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৫৬। কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাহিত সম্পত্তি চুরি করিবার উদ্যোগে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত বা পরিহিত সম্পত্তি চুরি করার জন্য সে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৫৭। কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করিবার উদ্যোগে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অন্যায়ভাবে অবরোধ করার প্রচেষ্টায় তাকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৫৮। গুরুতর উত্তেজনাবশতঃ অক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: উপরের ধারাটি ৩৫২ ধারার অনুরূপ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ ।

ধারা ৩৫৯। মনুষ্যহরণ: মনুষ্যহরণ দুই প্রকারেরঃ- বাংলাদেশ হতে মনুষ্যহরণ এবং আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ।

ধারা ৩৬০। বাংলাদেশ হইতে মনুষ্যহরণ: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ধারা ৩৬১। আইনানুগ অভিভাবকত্ব হইতে মনুষ্যহরণ: কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় আইনসম্মত অভিভাবক বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম: এই ধারায় আইনসম্মত অভিভাবক বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম: যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।

ধারা ৩৬২। অপহরণ: যদি কোন ব্যক্তি, অপর কোন ব্যক্তিকে কোন স্থান হতে গমন করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা কোন প্রতারণামূলক উপায়ে প্রলুব্ধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ব্যক্তিকে অপহরণ করে বলে গণ্য হবে।

ধারা ৩৬৩। মনুষ্য হরণের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে বাংলাদেশ হতে অথবা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৪। খুন করিবার উদ্দেশ্যে মনুষ্য হরণ কিংবা অপহরণ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে খুন করার জন্য অপহরণ করে অথবা তাকে এমনভাবে রাখার জন্য অপহরণ করে যাতে তার খুন হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উদহরণসমূহ:

(অ) ক চ-কে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করে। তার উদ্দেশ্য ছিল চ-কে কোন প্রতিমার সামনে বলিদান করা অথবা সে জানত যে চ-কে কোন প্রতিমার সামনে বলিদান করা যেতে পারে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(আ) চ যাতে খুন হয় এই উদ্দেশ্যে ক জোরপূর্বক প্রলুব্ধ করে চ কে তার বাড়ি হতে নিয়ে যায়। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

ধারা ৩৬৪-ক। দশ বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে অপহরণ বা হরণ করা: কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্যে দশ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে অপহরণ করে যে, উক্ত ব্যক্তিকে খুন করা হতে পারে অথবা তাকে গুরুতর আঘাত বা দাসত্ব বা কোন ব্যক্তির কাম লালসার বশে আনা হতে পারে কিংবা তার এইরূপ ব্যবস্থাই করা হতে পারে যে, তার খুন হওয়ার বা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার বা দাসত্ব বা কোন ব্যক্তির কাম লালসার বশীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সে মুত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে, যা সাত বৎসরের কম হবে না, দণ্ডিত হবে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৫। কোন ব্যক্তিকে গোপনভাবে ও অবৈধভাবে অবরোধ করিবার উদ্দেশ্যে অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে গোপনে ও অন্যায়ভাবে অবরোধ করানোর জন্য অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৬। কোন নারীকে বিবাহ ইত্যাদিতে বাধ্য করিবার নিমিত্তে অপহরণ প্রতারণাপূর্বক হরণ বা প্রলুব্ধকরণ: কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীকে অপহরণ করে এবং অপহরণ করার উদ্দেশ্য হয় অথবা অপহরণ করার ফলে এইরূপ হবে জানে যে, সে নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা অথবা তাকে জোরপূর্বক, বা ফুসলিয়ে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অপহরণ করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; এবং কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিতে বর্ণিত অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন দ্বারা অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা অথবা বাধ্যতা সাধনের অপর কোন পদ্ধতি দ্বারা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে অথবা সে নারীকে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তাকে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তিও পূর্বোক্তরূপে দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৬ক। অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকা সংগ্রহকরণ: কোন ব্যক্তি যদি যে কোন প্রকারেই হোক আঠারো বৎসরের কম বয়সী কোন অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকাকে কোন স্থান হতে গমনে বা কোন কাজ সম্পাদনে বাধ্য করে এবং যদি তা করার উদ্দেশ্য হয়, বালিকাটিকে অপর কোন ব্যক্তির সাথে যৌন-অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা, অথবা তাকে অন্যভাবে অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌন-সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তাকে কোনস্থান হতে গমনে বা কোন কাজ সম্পাদন বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৬খ। বিদেশ হইতে বালিকা আমদানি: কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের বাহিরের কোন দেশ হতে একুশ বৎসরের কোন বালিকাকে আমদানি করে এবং বালিকাটিকে যাতে অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে বল প্রয়োগের ফলে বা ফুসলাবার ফলে বাধ্য হয়, সে উদ্দেশ্যেই বা তা জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অন্যভাবে আমদানি করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৭। কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত বা দাসত্বাধীন করিবার উদ্দেশ্যে অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অপহরণ করে এবং অপহৃত ব্যক্তি যাতে গুরুতর আঘাতের, দাস বৃত্তির বা কারো অস্বাভাবিক কামনার ইন্ধন হওয়ার সম্মুখীন হয় বা যাতে এইরূপ অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় সেভাবে তার সম্পর্কে ব্যবস্থা করা হয়, অথবা সে ব্যক্তি সেরূপ অবস্থার সম্মুখীন হতে পারে বা তার সম্পর্কে সেভাবেই ব্যবস্থা হতে পারে জানা সত্ত্বেও তাকে অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৬৮। অপহৃত বা প্রতারণাপূর্বক হরণকৃত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে গোপন বা অবরোধ করা: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অপহরণ করা হয়েছে জানা সত্ত্বেও তাকে অন্যায়ভাবে গোপন করে রাখে বা আটক করে রাখে, তবে যেন সে ব্যক্তি নিজেই একই উদ্দেশ্যে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও অপহরণ করেছে অথবা যেন সে যে উদ্দেশ্যেই বা যা জানা সত্ত্বেও অপহৃত ব্যক্তিকে গোপন করে বা আটক করে রেখেছে সে উদ্দেশ্যেই বা তা জানা সত্ত্বেও উক্ত ব্যক্তি অপহরণ করেছে এইরূপ ধরে নিয়ে সেভাবেই তাকে দণ্ডিত করা হবে।

ধারা ৩৬৯। দেহাবরণ চুরি করিবার অভিপ্রায় দশ বৎসরের কম বয়স্ক শিশু অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ করা: কোন ব্যাক্তি যদি দশ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক শিশুর দেহ হতে অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি চুরি বা অপসারণ করার উদ্দেশ্যে উহাকে অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৭০। দাসরূপে কোন ব্যক্তিকে ক্রয় বা হস্তান্তর করা: কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দাসরূপে আমদানি করে, রপ্তানি করে, অপসারণ করে, ক্রয় করে, বিক্রয় করে বা হস্তান্তর করে, অথবা কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাস রূপে গ্রহণ করে রাখে বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৭১। অভ্যাসদহ দাস ব্যবসায় পরিচালনা করা: কোন ব্যক্তি যদি অভ্যাসগতভাবে দাসদের আমদানি করে, রপ্তানি করে, অপসারণ করে, ক্রয় করে, বিক্রয় করে, বা ব্যবসায় পরিচালনা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা অনধিক ১০ বৎসরের যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৭২। বেশ্যাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিক্রয়: কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে, ভাড়া দেয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করে এই উদ্দেশ্যে যে অথবা এটা জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ১: যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন নারীকে কোন বেশ্যার কাছে অথবা এমন কোন ব্যক্তি, যে কোন পতিতালয় রাখে বা পরিচালনা করে, তার কাছে বিক্রয় করা হয় বা ভাড়া দেওয়া হয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করা হয়, তবে যে পর্যন্ত না বিপরীত প্রমাণিত হয় সে পর্যন্ত যে ব্যক্তি অনুরূপ নারীর বিলিব্যবস্থা করেছে। সে ব্যক্তি যাতে সে নারী পতিতাবৃত্তিতে ব্যবহৃত হয় সে উদ্দেশ্যেই তাকে বিলিব্যবস্থা করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

ব্যাখ্যা ২: এই ধারার উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অবৈধ সহবাস বলতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যৌনসঙ্গম বুঝাবে; কিন্তু নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ইহার ব্যতিক্রম হবে যথাঃ এমন কোন মিলন বা বন্ধন যা ঠিক বিবাহ নয় কিন্তু ব্যক্তিগত আইন অথবা তারা যে সম্প্রদায়ভুক্ত বা যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত সে সব সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে বিবাতুল্য সম্পর্ক বলে স্বীকৃত।

ধারা ৩৭৩। বেশ্যাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্রয়করণ: কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে ক্রয় করে, ভাড়া করে অথবা অপর কোনভাবে তাকে হস্তগত করে এই উদ্দেশ্যে কিংবা এইরূপ আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ১: কোন বেশ্যা বা কোন বেশ্যালয়-মালিক বা বেশ্যালয় পরিচালক আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন নারীকে ক্রয়, ভাড়া বা অপর কোনভাবে হস্তগত করলে সে অন্যথা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত নারী যাতে বেশ্যাবৃত্তিতে ব্যবহৃত হতে পারে সে উদ্দেশ্যেই তাকে হস্তগত করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

ব্যাখ্যা ২: অবৈধ সহবাস এর অর্থ ৩৭২ ধারার অনুরূপ।

ধারা ৩৭৪। বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা: (১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই যুদ্ধবন্দী এবং আশ্রিত ব্যক্তি অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

ধারা ৩৭৫। নারী ধর্ষণ: কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাচটি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

প্রথমত: স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ।

দ্বিতীয়ত: স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।

তৃতীয়ত: স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।

চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে ।

পঞ্চমত: স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

ব্যাখ্যা: ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম: কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।

ধারা ৩৭৬। নারী ধর্ষণের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রুপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩৭৭। অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ: কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌন সঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট হবে।

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

Check Also

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, দন্ডবিধির ভিডিও লেকচার-২৫

ধারা ৫১১ সংশ্লিষ্ট ভিডিও লেকচার ধারা ৫১১। যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যেগের …