দেওয়ানী কার্যবিধির সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে ক্লিক করুন।
Section 15. Court in which suits to be instituted:
Every suit shall be instituted in the Court of the lowest grade competent to try it.
ধারা ১৫। যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে হইবেঃ
প্রত্যেক মোকদ্দমা বিচার করিবার উপযুক্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে।
বিশ্লেষণাত্মক আলোচনাঃ
ধারা ১৫ দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের একটি খুব ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা ‘যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে হইবে’ এই নীতি নিয়ে আলোচনা করে। এর মূল কথা হলো, যেকোনো দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচার করার জন্য উপযুক্ত, কিন্তু নিম্নতম পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে।
ধারাটির মূল অংশঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা বিচার করিবার উপযুক্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে।”
চলুন, এটাকে সহজ করে বুঝিঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা”: বলতে বোঝানো হচ্ছে সকল প্রকার দেওয়ানি মোকদ্দমা।
“বিচার করিবার উপযুক্ত”: এর মানে হলো, যে আদালতের সেই মোকদ্দমাটি বিচার করার ক্ষমতা বা এখতিয়ার (Jurisdiction) রয়েছে। এই এখতিয়ার আর্থিক (Pecuniary), আঞ্চলিক (Territorial) এবং বিষয়বস্তুগত (Subject-matter) হতে পারে। অর্থাৎ, আদালতকে অবশ্যই মোকদ্দমার আর্থিক মূল্য, মোকদ্দমার বিষয়বস্তু এবং যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকার এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে।
“সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে”: এটিই এই ধারার মূল নির্দেশ। এর মানে হলো, যদি একটি মোকদ্দমা বিচার করার ক্ষমতা একাধিক আদালতের থাকে (যেমনঃ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং জেলা জজ আদালত), তাহলে মোকদ্দমাটি সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যার ক্ষমতা সবচেয়ে কম বা যা সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত।
উদাহরণঃ ধরুন, আপনি একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা করতে চান যার বিষয়বস্তুর আর্থিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। মনে করুন, বাংলাদেশে একটি ‘সহকারী জজ আদালত’ এর আর্থিক এখতিয়ার ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং একটি ‘সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’-এর আর্থিক এখতিয়ার ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আবার, একটি ‘যুগ্ম জেলা জজ আদালত’-এর আর্থিক এখতিয়ার অসীম। আপনার ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমাটি এই তিনটি আদালতেরই বিচার করার ক্ষমতা আছে (কারণ ৫ লক্ষ টাকা তাদের প্রত্যেকের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্যে পড়ে)। কিন্তু ধারা ১৫ অনুযায়ী, আপনাকে মোকদ্দমাটি সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত, অর্থাৎ সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হবে, কারণ এই আদালতটিই ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমা বিচার করার জন্য উপযুক্ত এবং একইসাথে এটি ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত’ যা এই এখতিয়ার রাখে। আপনি সরাসরি সিনিয়র সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এই মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবেন না, যদিও তাদের আরও বেশি এখতিয়ার আছে।
কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?
- ১) আদালতের কাজের সুষম বন্টন (Proper Distribution of Work): এই ধারাটি উচ্চতর আদালতগুলোর ওপর মোকদ্দমার চাপ কমায়। যদি ছোট ছোট মোকদ্দমাগুলোও উচ্চ আদালতে দায়ের করা হয়, তাহলে উচ্চ আদালতগুলো বড় ও জটিল মোকদ্দমাগুলো নিষ্পত্তিতে বেশি সময় দিতে পারবে না।
- ২) সময় ও খরচ বাঁচানোঃ সাধারণত, নিম্ন আদালতগুলোতে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত হতে পারে এবং ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
- ৩) বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিঃ এটি সামগ্রিকভাবে বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
- ৪) অপব্যবহার রোধঃ এটি নিশ্চিত করে যে, বিচারপ্রার্থীরা অযাচিতভাবে তাদের পছন্দের আদালতে মোকদ্দমা করে আদালতের ক্রম বা এখতিয়ারের অপব্যবহার করবে না।
সংক্ষেপে, ধারা ১৫ হলো একটি নির্দেশমূলক বিধান। এটি বলে যে, একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যার সেটি বিচার করার এখতিয়ার আছে এবং একইসাথে সেটি সকল আদালতের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের আদালত।
প্রশ্নঃ ধারা ১৫ দেওয়ানী কার্যবিধির মূল কথা কী?
প্রশ্নঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্নঃ “বিচার করিবার উপযুক্ত” বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্নঃ আর্থিক এখতিয়ার বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্নঃ আঞ্চলিক এখতিয়ার কী?
প্রশ্নঃ বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার বলতে কী বোঝানো হয়?
প্রশ্নঃ “সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে” কথার মানে কী?
প্রশ্নঃ একটি ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমা কোন আদালতে দায়ের হবে?
প্রশ্নঃ কেন সরাসরি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা করা যাবে না?
প্রশ্নঃ ধারা ১৫ আদালতের কাজের ওপর কী প্রভাব ফেলে?
প্রশ্নঃ এই ধারা সময় ও খরচ বাঁচাতে কীভাবে সাহায্য করে?
প্রশ্নঃ বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই ধারার ভূমিকা কী?
প্রশ্নঃ ধারা ১৫ কিভাবে অপব্যবহার রোধ করে?
প্রশ্নঃ ধারা ১৫ কি নির্দেশমূলক নাকি বাধ্যতামূলক?
প্রশ্নঃ ধারা ১৫ এর উদ্দেশ্য কী?
প্রশ্নঃ কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?
প্রশ্নঃ একাধিক আদালতের এখতিয়ার থাকলে কোন আদালত বেছে নেওয়া হবে?
প্রশ্নঃ সংক্ষেপে ধারা ১৫ এর মূল বার্তা কী?
আরও জানুন →
- কোনও পোস্ট পাওয়া যায়নি।
Legal Study A True Art of Learning
