Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Wednesday , January 23 2019

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ভিডিও লেকচার-০৩

52-BBC SR Act Header

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
(১৮৭৭ সালের ১নং আইন)
[ফ্রী ভার্সন]
আপনি ফ্রী ভার্সন ব্যবহার করছেন। প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে চাইলে 01716409127, 01729820646, 01703924452, 01688107393 (সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা) এই নাম্বারগুলোতে কল দিয়ে প্রিমিয়াম ভার্সনে নিবন্ধন করে নিন।
ধারা ১২ থেকে ৩০ পর্যন্ত

35-BBC Sectional Analysis Directions

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নির্দেশনাঃ প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই অংশে সংশ্লিষ্ট আইনের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি নিবন্ধিত ফ্রী মেম্বার বা নিবন্ধিত না হয়ে থাকেন তাহলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম মেম্বারদের জন্য বিশ্লেষণাত্মক অংশটুকু ধারাগুলোর নিচে প্রদর্শিত হবে। মনে রাখা ভাল, “আইন হচ্ছে বুঝার বিষয়, মুখস্তের বিষয় নয়”।

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

(ক) যে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারেঃ

ধারা ১২। যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন আদায়যোগ্যঃ যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে-কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যাস আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারেঃ-

(ক) যখন সম্মতিভূক্ত কার্যসম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;

(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কার্যসম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;

(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তাহা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্ৰতিকার লাভ করা যায় না; অথবা

(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কার্যসম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যাঃ যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত ইহা অবশ্যই ধরে লাইবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।

উদাহরণঃ

দফা-(ক) বাতিল

দফা-(খ)

খ একজন মৃত চিত্রকারের একটি চিত্র এবং একজোড়া কারুকার্যখচিত দুপ্তপ্রাপ্য চীনামাটির পাত্র বিক্রয় করতে সম্মত হয় এবং ক তা ক্ৰয় করতে সম্মত হয়। ক খকে এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বাধ্য করতে পারে; কারণ এই কাৰ্য সম্পাদন না করার ফলে কাৰ্যত যেই ক্ষতি হবে তাহা নির্ণয় করার কোন মানদণ্ড নাই।

দফা-(গ)

ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি ১০০০ টাকায় বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। খ ক্রিয়মূল্য প্রদান করলে তার নিকট বাড়ি হস্তান্তর করার জন্য ক-এর প্রতি নির্দেশসম্বলিত একটি ডিক্রীর অধিকারী।

অ্যাক্ট অব ইনকরপোরেশনের দ্বারা আরোপিত কতিপয় বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত হওয়ার জন্য একটি রেলওয়ে কোম্পানী খ-এর সাথে রেলপথ দ্বারা বিচ্ছিন্ন খ-এর জমির সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য রেলপথের মধ্য দিয়া একটি আর্চওয়ে নির্মাণ, কতিপয় নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে একটি রাস্তা নির্মাণ, এই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বার্ষিক অর্থ প্ৰদান এবং চুক্তিতে যেমনভাবে নির্দেশ রয়েছে তেমনভাবে একটি সাইডিং এবং একটি প্ল্যাট ফরম নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। খ এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণের অধিকারী; কারণ, ইহার সুনির্দিষ্ট সম্পাদনে তার স্বার্থ শুধু টাকা দ্বারা পর্যাপ্তভাবে ক্ষতিপূরণ করা যায় না, এবং আদালত আর্চওয়ে, রাস্তা সাইডিং এবং প্ল্যাট ফরম নির্মাণ তদারক করার জন্য একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন।

ক বিশেষ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যক রেলওয়ে শেয়ার বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং খ তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। ক বিক্রি সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং খ তাহা ক্ৰয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় । ক বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে, খ, কী-কে এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের বাধ্য করতে পারে, কারণ শেয়ার সংখ্যার দিক হতে সীমাবদ্ধ এবং তাহা সব সময় বাজারে পাওয়া যাবে না এবং সেগুলির দখল একজন শেয়ার হােল্ডারের মর্যাদা বহন করে, যা অন্য কোনভাবে করা যায় না।

ক, খ-এর জন্য ছবি আঁকার ব্যাপারে খ-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং খ তিনটি ছবির জন্য ১,০০০ টাকা প্রদানে সম্মত হয়। ছবি আঁকা হয়েছে ১,০০০ টাকা প্রদানের বিনিময়ে খ উক্ত ছবিগুলি পাওয়ার অধিকারী।

দফা-(ঘ)

ক পৃষ্ঠাংকন ছাড়াই কিন্তু মূল্যবান প্রতিদানের বিনিময়ে খ এর নিকট একটি প্ৰমিসরি নোট হস্তান্তর করে । ক দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং গ-কে স্বত্ব নিয়োগী নিযুক্ত করে, খ, গ-কে উক্ত নােটে পৃষ্ঠাংকন করতে বাধ্য করতে পারে, কারণ গ, ক-এর দীয় দায়িত্বেরও উত্তরাধিকারী হয়েছে এবং নােটে পৃষ্ঠাঙ্কন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য প্রদত্ত ডিক্ৰীও অর্থহীন হবে।

ধারা ১৩। যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছেঃ চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণঃ

(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘুর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ-কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।

ধারা ১৪। চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন, যেখানে অসম্পাদিত অংশ হচ্ছে ছোটঃ যেখানে চুক্তিবদ্ধ একটি পক্ষ তার নিজের অংশের সম্পূর্ণ কার্য সম্পাদন করতে অসমর্থ কিন্তু যে অংশ অসম্পাদিত অবস্থায় পরিত্যক্ত হবে সম্পূর্ণ অংশের তুলনায় তা মূল্যের দিক হতে ক্ষুদ্র এবং এ জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে স্বীকৃত হয়, সেখানে আদালত যে কোন পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে চুক্তির যতটুকু সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের নির্দেশ দিয়ে বাকিটুকুর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করবেন।

উদাহরণঃ

(ক) ক, খ-এর নিকট ১০০ বিঘার একটি জমি বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। কিন্তু পরে দেখা গেল। ৯৮ বিঘা জমি ক-এর মালিকানাধীন আর বাকি ২ বিঘা জমি একজন অপরিচিত ব্যক্তির, যে তাদের সাথে অংশ নিতে অস্বীকার করল। এ ২ বিঘা ৯৮ বিঘা জমির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নয়, তাতে ব্যবহার বা ভোগের জন্য এমন আবশ্যক নয় যে, ইহার ফলে সাধারণ ক্ষতির প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে করা যাবে না। খ-এর মামলাক্রমে ক-কে উক্ত ৯৮ বিঘা জমি খ-এর নিকট হস্তান্তর করার এবং বাকি দুই বিঘা হস্তান্তর না করার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়া যেতে পারে । অথবা ক-এর আবেদনক্রমে খ-কে উক্ত জমির দখল গ্রহণ করে বাকি জমির জন্য মঞ্জরকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাদ দিয়ে চুক্তি অনুসারে ক্রয়মূল্য ক-কে অর্পণ করার নির্দেশ প্ৰদান করা যেতে পারে।

(খ) ২ লক্ষ টাকায় একটি বাড়ি ও জমি ক্ৰয়-বিক্রয়ের একটি চুক্তিতে দুই পক্ষই সম্মত হয় যে, আসবাবপত্রের অংশবিশেষের মূল্য নির্ধারণ করে নেয়া হবে। আসবাবপত্রের মূল্যায়নের ব্যাপারে পক্ষগণ একমত হতে অসমর্থ হওয়া স্বত্ত্বেও আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের নির্দেশ প্ৰদান করতে পারেন এবং মামলায় আসবাবপত্রের মূল্যায়ন করে তা সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্ৰী সীমিত রাখতে পারেন।

ধারা ১৫। চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন, যে ক্ষেত্রে অংশবিশেষ সম্পাদিত অংশ বড়ঃ যেখানে চুক্তিবদ্ধ একটি পক্ষ চুক্তিতে তার অংশের সম্পূর্ণ কার্যসম্পাদন করতে ব্যর্থ হয় এবং অসম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত অংশ সম্পূর্ণ কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয় কিংবা আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট না হয়; তাহা হলে সে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য একটি ডিক্ৰী পাওয়ার অধিকারী হবে না। কিন্তু আদালত অপর পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষকে তার পক্ষে যতটুকু সম্পাদন করা সম্ভব চুক্তির ততটুকু অংশ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ প্ৰদান করতে পারেন, যদি বাদী পক্ষ আরও কার্যসম্পাদনের দাবি পরিত্যাগ করে এবং কাজে ক্রটির জন্য অথবা প্রতিবাদী কর্তৃক চুক্তিভঙ্গের দরুণ সাধিত ক্ষতির জন্য প্রাপ্য  সকল ক্ষতিপূরণের অধিকার পরিহার করে।

উদাহরণঃ

(ক) ক, খ-এর নিকট ১০০ বিঘার একটি জমি বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় যে, মাত্র ৫০ বিঘা জমি ক-এর মালিকানাধীন রয়েছে এবং অন্য ৫০ বিঘার মালিক একজন অপরিচিত ব্যক্তি, যে তাদের সহিত অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। ক, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্ৰী পেতে পারে না, কিন্তু যদি খ সম্মতিকৃত মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক হয় এবং ক-এর অবহেলা বা চুক্তিভঙ্গের জন্য তাকে যে ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সকল অধিকার পরিত্যাগ করে ক-এর মালিকানাধীন ৫০ বিঘা জমি গ্রহণ করতে চায়, তবে খ ক্রয়মূল্য পরিশোধের প্রেক্ষিতে ৫০ বিঘা জমি তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য ক-এর নির্দেশ-সম্বলিত ডিক্ৰী পাবার অধিকারী।

(খ) ক, ১ লক্ষ টাকায় বাড়ি ও বাগানসহ একটি সম্পত্তি খ-এর নিকট বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বাড়ির ব্যবহার বা উপভােগের জন্য বাগানটি গুরুত্বপূর্ণ। পরে দেখা যায় যে, কি বাগান হস্তান্তর করতে সক্ষম নয়। ক, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্ৰী পেতে পারে না; কিন্তু যদি খ সম্মতিকৃত মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক হয় এবং ক-এর অবহেলা বা ক্রটির জন্য তাকে যে ক্ষতি বহন করতে হবে অথবা যে অভাব বোধ করতে হবে তার ক্ষতিপূরণ পাবার সকল অধিকার পরিত্যাগ করে বাগান ছাড়াই বাড়ি এবং সম্পত্তি গ্রহণ করতে সম্মত হয় তবে খ ক্রয়মূল্য পরিশোধের প্রেক্ষিতে বাড়ি এবং সম্পত্তি তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য কএর প্রতি নির্দেশ-সম্বলিত ডিক্ৰী পাবার অধিকারী।

ধারা ১৬। কোন চুক্তির স্বতন্ত্র অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনঃ যখন চুক্তির একটি অংশের স্বতন্ত্রভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন করা যায় অথবা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

ধারা ১৭। অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতাঃ পূর্ববতী তিনটি ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্ৰদান করবেন না।

ধারা ১৮। ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকারঃ যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যাতে তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্ৰদান করা হয়) নিম্নোক্ত অধিকার রয়েছেঃ

(ক) যদি বিক্রেতা অথবা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পরপরই সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারে;

(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়ােজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্ৰহ করতে বাধ্য করতে পারে;

(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং কার্যত বিক্রেতার শুধু তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্ৰহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারে;

(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাবার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত হয়েছিল তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।

ধারা ১৯। কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জরের ক্ষমতাঃ কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কার্যসম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্ৰদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করবেন।

এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়ােগকে বাধাগ্রস্ত করে না।

উদাহরণঃ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

ক, খ-এর নিকট ১০০ মান চাউল বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। খ, কী-কে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনে বাধ্য করার জন্য অথবা ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য করার জন্য মামলা দায়ের করল। আদালত এ মত প্ৰকাশ করে যে, ক একটি বৈধ চুক্তি সম্পন্ন করেছিল, এবং কোন ওজর ছাড়াই তা ভঙ্গ করে খ-এর ক্ষতি করেছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনই ইহার উপযুক্ত প্ৰতিকার নয়। তখন আদালতের নিকট যা ন্যায্য বলে মনে হবে, তেমন ক্ষতিপূরণই খ-এর জন্য মঞ্জর করবেন।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি ১০০০ টাকায় বিক্রি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। ঠিক হল যে, ১৮৭৭ সালের ১ জানুয়ারি মূল্য পরিশোধ এবং বাড়ির দখল প্ৰদান করা হবে।

ক চুক্তির নিজ অংশের কার্যসম্পাদনে ব্যর্থ হল এবং খ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন এবং ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করল, যা ১৮৭৮ সালের ১ জানুয়ারি তার পক্ষে নিষ্পত্তি হল। ডিক্রিতে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ ছাড়াও ক-এর অস্বীকৃতির ফলে খ-কে যে ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণও মঞ্জর করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে

ক্রেতা ক বিক্রেতা খ-এর বিরুদ্ধে একটি পেটেন্ট বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাৰ্যসম্পাদনের মামলা দায়ের করল। মামলার শুনানির আগেই পেটেন্ট অবসান ঘটিল। আদালত চুক্তি অনুযায়ী কার্য সম্পাদন না করার জন্য ক-কে ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করতে পারেন এবং প্রয়োজনবোধে সে উদ্দেশ্যে আরজি সংশোধন করতে পারে।

ক একটি পাবলিক কোম্পানীর ডিরেক্টরগণ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবের সে অনুসারে সে তার জন্য বরাদ্দকৃত নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ারের অধিকারী সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন এবং প্রস্তাব অনুযায়ী কার্য সম্পাদন না করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করল। মামলার শুনানির আগেই সকল শেয়ার বরাদ্দ করা হল। এই ধারা অনুসারে আদালত কাৰ্যসম্পাদন না করার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করতে পারেন।

ধারা ২০। খেসারত পরিশোধ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা নহেঃ চুক্তি যদি অন্যথায় সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণের জন্য যথাযথ হয় তবে তা সেভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদানের কথা থাকে এবং চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষ তা প্রদানেও ইচ্ছুক হয়।

উদাহরণঃ

ক, খ-কে গ-এর অধীন কী কর্তৃক দখলীকৃত সম্পত্তি অধীনস্থ ইজারা অনুমোদন করে চুক্তি সম্পাদন করল, এবং তাতে শর্ত হল যে, কি অধীনস্থ ইজারার বৈধতার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য গ-এর কাছে আবেদন জানাবে এবং যদি লাইসেন্স সংগ্রহ করা না যায়, ক, খ-কে ১০,০০০ টাকা প্ৰদান করবে। ক, খ-এর নিকট লাইসেন্সের আবেদন জানাতে অস্বীকৃতি জানাল এবং খ-কে ১০,০০০ টাকা প্রদান করতে চাইলো। তথাপিও যদি লাইসেন্স প্রদানে সম্মত হয়, তবে খ উক্ত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণের অধিকারী।

(খ) যাদের বেলায় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায়

ধারা ২১। যে চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণযোগ্য নয়ঃ নিম্নোক্ত চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যাবে নাঃ

(ক) যে চুক্তির কার্যসম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয়;

(খ) যে চুক্তি এত জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি অথবা তা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা অথবা সংকল্পের উপর এত নির্ভরশীল অথবা অন্য কোন ভাবে উহার প্রকৃতিই এমন যে, আদালত উক্ত চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তাবলীর সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করতে পারেন না;

(গ) যে চুক্তির শর্তাবলী আদালত যুক্তিসঙ্গত নিশ্চয়তার সাথে নির্ণয় করতে পারেন না;

(ঘ) যে চুক্তি তার প্রকৃতির কারণেই বাতিলযোগ্য;

(ঙ) জিম্মাদারগণ কর্তৃক কৃতচুক্তি যা তাদের ক্ষমতা লংঘন করে করা হয়েছে অথবা তাদের জিম্মাদারি চুক্তি ভঙ্গ করে করা হয়েছে;

(চ) বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত করপোরেশন বা পাবলিক কোম্পানীর পক্ষে অথবা তেমন কোম্পানীর উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ কর্তৃক কৃত চুক্তি যা তাদের ক্ষমতার অতিরিক্ত;

(ছ) যে চুক্তির কার্যসম্পাদন করতে হলে শুরু করার তারিখ হতে তিন বৎসরের বেশি সময় ক্রমাগত কাজ করে যেতে হবে;

(জ) যে চুক্তির বিষয়বস্তু উল্লেখযোগ্য অংশ উভয় পক্ষ বর্তমান ধরে নিলেও চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার আগেই তার বিলুপ্তি ঘটেছে।

১৯৪০ সালের সালিসী আইনে যেমন বিধান আছে তা ব্যতিরেকে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ মতানৈক্যের সালিসীর জন্য প্রেরণ করার কোন চুক্তিই সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যাবে না, কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি সালিসী চুক্তি ছাড়া এমন কোন চুক্তি করে, যার উপর পূর্বোক্ত আইনের বিধান প্রযোজ্য এবং তা সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে এবং এমন কোন বিষয়ে মামলা দায়ের করে, যা সে সালিসীর জন্য প্ৰেৱণ করতে চুক্তিবদ্ধ, তেমন চুক্তির অস্তিত্ব মামলার পথে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

উদাহরণঃ

অনুচ্ছেদ (ক) তে

‘ক’ সরকারের শতকরা চার টাকা হারে একলক্ষ টাকার ঋণপত্ৰ বিক্রয় কাঁৱতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং ‘খ’ তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

“ক” প্রতি বাক্স নীল ১,০০০ টাকা দরে ৪০ বাক্স নীল বিক্রয় করতে এবং ‘খ’ তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

খ-এর নিকট “ক” কর্তৃক কিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করার বিনিময়ে ‘খ’ ক-এর অনুকূলে ১০,০০০.০০ টাকা পর্যন্ত একটি ক্রেডিট খোলা এবং সে অংক পর্যন্ত টাকার জন্য ক-এর ড্রাফট পরিশোধ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ঃ

উপরোক্ত চুক্তিসমূহে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না, কারণ প্রথম এবং দ্বিতীয় ক ও খ উভয়েই এবং তৃতীয়টিতে ক-এর ক্ষতি আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

অনুচ্ছেদ (খ) তে

‘ক’ খ-এর ব্যক্তিগত কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হল;

‘ক’ খ-কে তার ব্যক্তিগত কাজে নিয়োগ করতে চুক্তিবদ্ধ হল;

একজন গ্রন্থকার ‘ক’ একজন প্রকাশক খ-এর সহিত একটি সাহিত্য গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত করতে চুক্তিবদ্ধ হল;

‘খ’ এসব চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন আদায় করতে পারে না।

‘ক’ খ-এর ব্যবসা এমন মূল্যে ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল, যা দু’জন মূল্য নির্ণয়কারী ঠিক করবেন এবং মূল্য নির্ণয়কারীর একজনের নাম করবে ‘ক’ ও অপরজনের নাম করবে। ‘খ’ । ক এবং খ উভয়েই একজন করে মূল্য নির্ণয়কারীর নাম প্রদান করল, কিন্তু মূল্য নিরুপিত হবার আগেই ‘ক’ তার মূল্য নিরূপণকারীকে অগ্রসর না হবার জন্য নির্দেশ প্রদান করল;

জাহাজ মালিক ‘ক’ এবং ভাড়াকারী খ-এর মধ্যে চট্টগ্রামে সম্পাদিত এক জাহাজ ভাড়া চুক্তিতে এ মর্মে সম্মতি প্ৰকাশ করা হয় যে, জাহাজ করাচির দিকে অগ্রসর হবে। এবং সেখানে চাউল উঠাবে এবং তার পর লণ্ডনের পথে অগ্রসর হবে এবং এক তৃতীয়াংশ ভাড়া জাহাজ রেঙ্গুনে আসলে প্রদান করা হবে এবং বাকি দু’ তৃতীয়াংশ লণ্ডনে মাল অৰ্পন করার পর প্রদান করা হবে;

ক, খ-এর নিকট জমি ইজারা প্রদান করল এবং খ ইজারার পরদিন হতে তিন বৎসরের জন্য বিশেষ পন্থায় তা চাষাবাদ করতে চুক্তিবদ্ধ হল;

ক ও খ চুক্তিবদ্ধ হয় যে, কি কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক দাদনের বিনিময়ে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার তিন বৎসর পর খ তার নিজ জমিতে বিশেষ ফসল উৎপন্ন করবে এবং তা যখন কাটার উপযুক্ত হবে তখন তা কেটে এবং প্রস্তুত করে ক-এর নিকট অর্পণ করবে’

ক, খ-এর সহিত চুক্তিবদ্ধ হয় যে, খ কর্তৃক ১,০০০/= টাকা প্রদানের বিনিময়ে সে খ-এর জন্য একটি ছবি আঁকবে;

ক, খ-এর সহিত এমন কতিপয় কাজ সম্পাদন করতে চুক্তিবদ্ধ হয়, যা আদালত তদারক করতে পারবে না;

ক, খ-এর সহিত খ-এর প্রয়োজন হতে পারে এমন কতিপয় ধরনের প্রয়োজনীয় মাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়;

ক, খ-এর সহিত চুক্তিবদ্ধ হল যে, সে খ-এর নিকট হতে একটি নির্দিষ্ট বাড়ি নির্দিষ্ট শর্তে এবং নির্দিষ্ট ভাড়ায় ইজারা লইবে যদি ড্রইংরুম সুন্দরভাবে সজ্জিত থাকে, এমনকি যদি এ মত প্ৰকাশ করা হয় যে, এ চুক্তি ভঙ্গের জন্য নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে;

ক, খ-কে বিয়ে করার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়;

উপরোক্ত চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে না।

অনুচ্ছেদ (গ) তে

একটি রিফ্রেসমেন্ট রুমের মালিক ক ও খ-এর সাথে এ চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, সে খ-কে সেখানে তার মালামাল বিক্রয় করার জন্য জায়গা এবং প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম প্রদান করবে। কি তার চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জানায়। এ মামলা হবে ক্ষতিপূরণের জন্য, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য নয়, কারণ জায়গা এবং সাজসরঞ্জামের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্দিষ্ট করা হয়নি।

অনুচ্ছেদ (ঘ) তে

চুক্তিতে প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বের সময়কাল নির্দিষ্ট না করেই ক ও খ একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ে অংশীদার হওয়ার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হল। এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাৰ্যসম্পাদন করা যায় না। কারণ যদি তা তেমনভাবে সম্পাদন করা হয়, তবুও কি বা খ সাথে সাথেই, অংশীদারিত্ব ভেঙ্গে দিতে পারে।

অনুচ্ছেদ (ঙ) তে

ক একটি জমির জিম্মাদার এবং উক্ত জমি ৭ বৎসরের জন্য ইজারা দেবার অধিকার তার রয়েছে। সে খ-এর সহিত উক্ত জমি ৭ বৎসরের জন্য ইজারা প্ৰদান এবং এ সময়কাল শেষে ইজারার মেয়াদ বর্ধিত করার অঙ্গীকার করে চুক্তি সম্পাদন করে। এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যায় না।

একটি কোম্পানীর পরিচালকদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহােল্ডারদের সাধারণ সবার মঞ্জরী সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠান বিক্রয় করে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তার তেমন মঞ্জরী ব্যতিরেকেই তা বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না ।

দু’জন জিম্মাদার ক ও খ একলক্ষ টাকা মূল্যের জিম্মা সম্পত্তি বিক্রয় করার অধিকারী। তারা উক্ত সম্পত্তি গ-এর নিকট ৩০,০০০ টাকায় বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এ চুক্তি এতই ক্ষতিকারক যে, তা বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। গ এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন আদায় করতে পারে না।

খনিতে কাজ করার জন্য একটি কোম্পানীর উদ্যোক্তা ব্যক্তিরা চুক্তিবদ্ধ হল যে, কোম্পানী যখন গঠিত হবে, তখন তা নির্দিষ্ট খনিজ সম্পত্তি ক্ৰয় করবে। তারা তেমন সম্পত্তির মূল্য নিরূপনের ব্যাপারে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে নাই, কাৰ্যত তারা তার অতিরিক্ত মূল্য প্রদানেই সম্মত হয়। তারা আরও শর্ত লিপিবদ্ধ করে যে, বিক্রেতা তাদিগকে ক্রয়মূল্যের উপর একটি বোনাস প্রদান করবে। এ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।

অনুচ্ছেদ (চ) তে

রেলপথ নির্মাণ ও চালু রাখার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানী একটি কটন মিল নির্মাণের উদ্দেশ্যে একখণ্ড জমি ক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।

অনুচ্ছেদ (ছ) তে

ক, খ-কে ২১ বৎসরের জন্য একটি রেলপথের এমন নির্দিষ্ট অংশ ভাড়া দেবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল, যাহা কি কর্তৃক খ-এর জমির উপর নির্মিত হয়েছে এবং একই চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে সমগ্র রেলপথেই গাড়ি চালানাের অধিকার খ-এর থাকবে এবং ক কর্তৃক প্রয়ােজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ ও আবশ্যক হতে পারে এবং ক এই সমগ্র সময়কালে সমগ্র রেলপথকে ভাল অবস্থায় রাখবে। এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য খ-এর আবেদন অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে।

অনুচ্ছেদ (জ) তে

গ ও ঘ। এর জীবন কালের জন্য খ-কে একটি বার্ষিক বৃত্তি দেবার জন্য কি চুক্তিবদ্ধ হল। কিন্তু পরে দেখা গেল যে, যদিও ক ও খ গ-কে জীবিত ধরে নিয়েছে তবুও চুক্তির তারিখে সে মৃত ছিল। এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করা যাবে না।

ধারা ২১ক। অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃ এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-

(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং

(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

ধারা ২২ । সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে ডিক্রি প্রদান প্রসঙ্গে বিবেচনামূলক ক্ষমতাঃ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পদানের ব্যাপারে ডিক্রি পদানের এখতিয়ার হচ্ছে ইচ্ছাধীন এবং শুধুমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত তেমন প্রতিকার মঞ্জর করতে বাধ্য নয়। কিন্তু আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নয়, বরং তা হচ্ছে নিখুত ও যুক্তিসঙ্গত, বিচার বিভাগীয় মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আপীল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য।

নিম্নোক্ত ক্ষেত্ৰসমূহে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান না করার ব্যাপারে যথাযথভাবে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনঃ-

(১) যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে প্রতিবাদীর উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্ৰদান করেছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।

উদাহরণঃ

(ক) একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তির সারা জীবনের প্রজা কি সম্পত্তিতে তার স্বত্বের ব্যাপারে খ-কে স্বত্ব নিয়োগী নিযুক্ত করল। খ উক্ত স্বত্ব বিক্রয় করতে এবং গ তা ক্রিয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন হবার আগেই কি মারাত্মকভাবে আহত হল এবং পরিণামে চুক্তি সম্পাদন করার একদিন পর সে মারা গেল। যদি খ ও গ সমভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকে অথবা জ্ঞাত থাকে, তবে খ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের অধিকারী হবে। কিন্তু যদি খ তথ্য সম্পর্কে অবহিত থাকে, েএবং গ সে সম্পর্কে অবহিত না থাকে, তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের দাবি খ এর বেলায় প্রত্যাখ্যাত হবে।

খ) ক, খ-এর কাছে কতিপয় সুনির্দিষ্ট মওজুদ পণ্যে গ-এর স্বত্ব বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তিতে এ শর্তও লিপিবদ্ধ করা হল যে, এমনকি যদি দেখা যায় যে, গ-এর স্বত্ব একেবারেই মূল্যহীন তবুও এ চুক্তি সঠিকভাবে বলবত থাকবে। কার্যত গ-এর স্বত্বের মূল্য নির্ভলশীল কতিপয় অংশীদারীত্রে হিসাব-নিকাশের ফলাফলের উপর, যে ব্যাপারে গ তার অংশীদারের নিকট অত্যাধিক ঋণগ্রস্ত ছিল। এ ঋণের কথা ক-এর জানা ছিল, কিন্তু খ তা জানত না। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ক-এর বেলায় অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে ।

(গ) ক একটি নির্দিষ্ট জমি বিক্রয় করতে এবং খ তা ক্ৰয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। কিন্তু বন্যার হাত হতে উক্ত জমি রক্ষা করার জন্য উহার মালিক কর্তৃক ব্যয়বহুল বঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করা আবশ্যক। খ এ পরিস্থিতির কথা জানত না এবং কি তা তার নিকট হতে গোপন রেখেছিল। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ক-এর বেলায় অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে।

(ঘ) ক-এর সম্পত্তি নিলামে উঠানো হয়েছে। খ, ক-এর এটর্ণি গ-কে তার পক্ষে নিলাম ডাকার অনুরোধ জানাল। গা সরল বিশ্বাসে এক অসাবধানতাবশত নিলাম ডাকিল। বিক্রেতার এটৰ্ণিকে নিলাম ডাকতে দেখে উপস্থিত ব্যক্তিরা মনে করল যে, সে ডাক বাড়াচ্ছে এবং তারা প্রতিদ্বন্ধিতা হতে বিরত রইল। সম্পত্তির মূল্যের চাইতে অত্যন্ত কম ডাকা সত্ত্বেও ডাক গৃহীত হল। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন খ-এর বেলায় অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে।

(২) যেখানে চুক্তির কার্য সম্পাদন প্রতিবাদীকে অত্যন্ত ক্লেশে জড়িয়ে ফেলবে, যা সে পূর্ণ হতে বুঝতে পারেনি, অপরদিকে, উহার কার্য সম্পাদন না করলে বাদীকে তা তেমন কোন ক্লেশে বিজড়িত করবে না।

উদাহরণঃ

(ঙ) ক তার পিতার উইল অনুসারে এ শর্তে কতক জমির অধিকারী হয় যে, যদি সেগুলি ২৫ বছরের মধ্যে বিক্রয় করে, তবে বিক্রয়-মূল্যের অর্ধেক খ-এর প্রাপ্য হবে। কি উক্ত শর্ত ভুলে গিয়ে ২৫ বছর অতিক্রান্ত হবার পূর্বেই উক্ত জমি গ-এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। এখানে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ক-এর উপর এত কঠোরতা আরোপ করবে যে, আদালত গ-এর পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন । করতে বাধ্য করবে না।

(চ) দুইজন জিম্মাদার ক ও খ জিম্ম সম্পত্তির বৃত্তিভোগী গ-এর সাথে উক্ত জিম্মা সম্পত্তি ঘ-এর নিকট বিক্রয় করার চুক্তিতে যোগদান করার জন্য ঐক্যমত্যে পৌছায়। কিন্তু বিক্রয়-মূল্য এই দায়-দায়িত্ব হতে মুক্ত হবার জন্য যথেষ্ট নয়, যদিও চুক্তি করার দিন বিক্রেতাদের বিশ্বাস ছিল যে, তা পর্যাপ্ত হবে । চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন খএর বেলায় অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে।

(ছ) একটি সম্পত্তির মালিক কি তা খ-এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় এবং চুক্তিতে শর্ত আরোপ করে যে, সে অর্থাৎ ক উহার সীমা নির্দিষ্ট করতে বাধ্য হবে না। সম্পত্তিটি সত্যি সত্যিই মূল্যবান ছিল যা সে জানত না। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন খ-এর বেলায় অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে, যদি না সে অজ্ঞাত সম্পত্তিতে তার দাবি পরিত্যাগ করে।

(জ) ক, খ-এর নিকট নির্দিষ্ট জমি বিক্রয় এবং একটি নির্দিষ্ট রেলওয়ে স্টেশন হতে সেখান পর্যন্ত রাস্তা করে দেবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তী সময় দেখা যায় যে, মামলার সম্মুখীন না হয়ে কি রাস্তা প্ৰস্তুত করতে সক্ষম নয়। খ-এর বেলায় চুক্তির রাস্তা সংক্রান্ত অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে, এমনকি যদিও এ মত প্রকাশ করা হয় যে, সে রাস্তার জন্য ক্ষতিপূরণসহ চুক্তির বাকি অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের অধিকারী।

(ঝ) একটি খনির ইজারাদার কি তার ইজারাদাতা খ-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, ইজারা চলাকালীন যে কোন সময়ে খ খনির ব্যাপারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সাজ – সরঞ্জাম গ্রহণের ইচ্ছা প্ৰকাশ করে নোটিশ প্ৰদান করতে পারবে এবং ইজারা সম্পত্তির উপর নিরূপনীয় মূল্যে নোটিশে বর্ণিত যন্ত্রপাতি ও সাজ-সরঞ্জাম তাকে প্ৰদান করা হবে। তেমন চুক্তি ইজারাদারের ব্যবসায়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, এবং তেমন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন খ-এর বেলায় অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে।

(ঞ) ক, খ-এর নিকট নির্দিষ্ট জমি কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু জমির প্ৰবেশ পথের ব্যাপারে চুক্তিতে কিছু উল্লেখ করা হয় না। জমিতে প্রবেশের জন্য কোন পথের অস্তিত্ব নেই বলে দেখানাে যেতে পারে। খ-এর বেলায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাৰ্য সম্পাদন অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে।

(ট) ক, খ-এর সাথে খ-এর কারখানা হতে এবং অন্য কোন কারখানা হতে নয়, তার ব্যবসায়ে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট শ্রেণীর সকল মাল ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। আদালত খ-কে মাল সরবরাহ করতে বাধ্য করতে পারে না। কিন্তু সে যদি ঐ সব মাল সরবরাহ না করে এবং যদি না তাকে অন্য কোথাও হতে সে মাল ক্ৰয়ের অনুমতি প্রদান করা হয় তবে ক ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে। খ-এর বেলায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন অবশ্যই প্ৰত্যাখ্যাত হবে।

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদানের ব্যাপারে যথাযথভাবে তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

(৩) যেখানে বাদী সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনযোগ্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে অথবা চুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদাহরণঃ

ক একটি রেল কোম্পানির নিকট জমি বিক্রয় করে। কোম্পানি তাঁর সুবিধার জন্য কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। কোম্পানি জমি গ্রহণ এবং তা তাদের রেলপথের জন্য ব্যবহার করে। ক-এর পক্ষে কাজ সম্পন্ন করার চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে পালনের ডিক্রি অবশ্যই প্ৰদান করা হবে।

ঘ. যাদের বেলায় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়

ধারা ২৩। সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যে পেতে পারেঃ যদি এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন পেতে পারেঃ

(ক) চুক্তির যে কোন পক্ষ;

(খ) চুক্তির যে কোন পক্ষের প্রধান অথবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিঃ

তবে শর্ত এই যে, যেখানে তেমন পক্ষের শিক্ষা, দক্ষতা, সচ্ছলতা অথবা কোন ব্যক্তিগত গুণাগুণ চুক্তির উল্লেখযোগ্য উপাদান হয় অথবা যেখানে চুক্তিতে বিধান থাকে যে, তার স্বার্থের স্বত্ব নিয়োগ করা যাবে না, সেখানে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি অথবা তার প্রধান চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের অধিকারী হবেন না, যদি না চুক্তিতে তার অংশ ইতিপূর্বেই সম্পাদিত থাকে।

(গ) যেখানে চুক্তি হয়েছে একটি বিবাহের ব্যাপারে নিম্পত্তি অথবা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সন্দেহপূর্ণ অধিকারের আপোষ মীমাংসা সেখানে চুক্তি অনুসারে হিতকরভাবে অধিকারী যে কোন ব্যক্তি;

(ঘ) যেখানে একজন আজীবন প্ৰজা তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেখানে অবশিষ্ট ব্যক্তি;

(ঙ) যেখানে চুক্তিপত্র এমন যা সম্পন্ন করা হয়েছিল তার পূর্বাধিকারীর সহিত এবং যেখানে তেমন চুক্তিপত্রের লাভ উত্তরাধিকারী পাওয়ার অধিকারী, সেখানে অধিকার ভোগের উত্তরাধিকারী:

(চ) যেখানে চুক্তি হচ্ছে এমন উত্তরাধিকারী যা হতে উদ্ভুত মুনাফা লাভের অধিকারী এবং তা ভঙ্গ হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতি ভোগ করবে, সেখানে অবশিষ্ট ভাগের উত্তরাধিকারী:

(ছ) যখন পাবলিক কোম্পানী চুক্তি করে এবং তার পর পরই তা অপর একটি পাবলিক কোম্পানীর সহিত একত্রিত হয়ে যায়, সেখানে একত্রিত হয়ে যাওয়ার ফলে গঠিত নতুন কোম্পানি;

(জ) যখন একটি পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ কোম্পানি গঠিত হওয়ার আগেই কোম্পানির প্রয়োজনবশত চুক্তি করে এবং কোম্পানি গঠনের শর্তাবলীতে তেমন চুক্তিকে নির্বিগ্ন করা হয়, সেখানে কোম্পানি।

(ঙ) যাদের ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।

ধারা ২৪। প্ৰতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতাঃ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-

(ক) যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;

(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়ােজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কার্যসম্পাদন বাকী থাকে;

(গ) যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; অথবা

(ঘ) যে চুক্তির পূর্বেই অবগত ছিল যে, উহার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দােবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।

উদাহরণঃ

অনুচ্ছেদ (ক) তে

খ-এর এজেন্ট চরিত্রসম্পন্ন ক, গ-এর ঘর ক্রয় করার জন্য গ-এর সহিত একটি চুক্তি সম্পন্ন করল। কিন্তু কার্যত ক, গ-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করে নাই বরং সে নিজস্ব ক্ষমতায়ই তা করেছে। কী এ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে পারে না।

অনুচ্ছেদ (খ) তে

ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি বিক্রি করে এবং বিক্রয়ের তারিখ হতে সুনির্দিষ্ট বার্ষিক ভাড়ায় ১৩ বছরের জন্য উক্ত বাড়ির ভাড়াটিয়া হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। সে অথবা তার স্বত্ব নিয়োগী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারবে না।

ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এবং এমন একটি বাগান বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল যাতে সুশোভিত বৃক্ষরাজি রয়েছে, যা বাসস্থান হিসেবে উক্ত সম্পত্তির একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। ক, খ-এর সম্মতি ছাড়াই বৃক্ষরাজি কেটে ফেলল, ক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারবে না।

খ-এর সহিত একটি ইজারা চুক্তি অনুসারে কি একটি জমি দখল-ভোগ করেছে। ক জমির অপচয় অথবা জমির প্রতি অস্বামীত্বমূলক আচরণ করল। কি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে না।

ক, খ-এর নিকট একটি অসমাপ্ত বাড়ি ভাড়া দিতে চুক্তিবদ্ধ হল। খ বাড়িটি সম্পূর্ণ করার এবং ইজারা নেওয়ার চুক্তিপত্রে এই শর্ত সন্নিবেশ করল যে, ক বাড়িটিকে সব সময় মেরামত করা অবস্থায় রাখবে। খ অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণভাবে বাড়িটিকে সম্পূর্ণ করল। খ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে পারবে না, যদিও ক ও খ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

অনুচ্ছেদ (গ) তে

ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং ভাড়ায় ভাড়া দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। খ চুক্তির কাজ সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানায়। ক এরপর খ-এর চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। ক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাৰ্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না।

ধারা ২৫। স্বত্ব নেই এমন ব্যক্তি কর্তৃক অথবা অনুমতিক্রমে পত্তন দাতা। কর্তৃক সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তিঃ সম্পত্তি বিক্রয় অথবা ইজারা প্রদানের চুক্তি তা সেই সম্পত্তি স্থাবর হউক কি অস্থাবর, তেমন বিক্রেতা বা ইজারাদাতার পক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না-

(ক) যে ব্যক্তি সম্পত্তিতে তার কোন স্বত্ব নাই জেনেও তা বিক্রয় করার বা ভাড়া প্রদানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে;

(খ) যে ব্যক্তি সম্পত্তিতে তার সঠিক স্বত্ব রয়েছে এই বিধানে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তবুও বিক্রয় বা ইজারা প্রদান সম্পন্ন করার জন্য পক্ষসমূহ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ক্রেতা বা ইজারাদারকে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহমুক্ত স্বত্ব প্ৰদান করতে পারে না;

(গ) যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হবার আগেই চুক্তির বিষয়বস্তুর ব্যাপারে বন্দােবস্ত (যদিও তা কোন বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নাও হতে পারে) করেছে।

উদাহরণঃ

(ক) ক, গ-এর নির্দেশ ছাড়াই এমন একটি সম্পত্তি খ-এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়, যে সম্পর্কে কি জানে যে, তা গ-এর মালিকানাধীন।

ক এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে না, এমনকি যদি গ তা অনুমোদন করতে ইচ্ছুকও থাকে।

(খ) ক উইল করে জিম্মাদারের নিকট তার জমি প্ৰদান করল । উইলে এই ঘোষণা প্ৰদান করা হয় যে, তারা খ-এর নিকট হতে লিখিত সম্মতি গ্ৰহণ করে জমি বিক্রয় করতে পারে। খ নিম্নলিখিতভাবে জিম্মাদার কর্তৃক কৃত যে কোন বিক্রির ব্যাপারে। সাধারণ সম্মতি প্ৰদান করল। জিম্মাদারগণ তার পরে জমি বিক্রয় করার জন্য গ-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হল। গ চুক্তি কার্য সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল। জিম্মাদারগণ এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে পারে না। কারণ, এই বিশেষ বিক্রির ব্যাপারে খ-এর সম্মতি না থাকায় তারা গ-কে যে স্বত্ব প্রদান করবে। আইন অনুযায়ী তা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহমুক্ত নয়।

(গ) ক কতিপয় জমির অধিকার ভোেগরত থাকায় তা খ-এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। তদন্তের পর দেখা গেল যে, ক, খ-এর উত্তরাধিকারী হিসেবে জমি দাবি করছে এবং খ বহু বৎসর আগে দেশত্যাগ করেছে এবং সাধারণভাবে তাকে মৃত বলে ধারণা করা হয়, কিন্তু তার মৃত্যু সম্পর্কে পর্যাপ্ত কোন প্রমাণ নাই। ক, খ-কে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে বাধ্য করতে পারে না।

(ঘ) ক স্বাভাবিক স্নেহ-গ্ৰীতির বশবতী হয়ে তার ভাই ও তাদের সন্তান-সন্ততির সহিত কতিপয় নির্দিষ্ট সম্পত্তি পত্তন করে এবং পরে সে একই সম্পত্তি একজন আগন্তুকের নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ক এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে পারে না, কারণ তা করতে গেলে পূর্বের পত্তন বাতিল করে দিতে হয় এবং এভাবে তদানুসারে দাবিদার ব্যক্তিদের স্বাৰ্থ ক্ষতিগ্ৰস্ত করতে হয়।

(চ) পরিবর্তন ব্যতীত যাদের বেলায় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।

ধারা ২৬। পরিবর্তন ছাড়া কার্যকরীকরণ না করাঃ যেখানে বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন দাবি করে এবং প্রতিবাদী সে ব্যাপারে একটি পরিবর্তন খাড়া করে সেখানে বাদী নিম্নোক্ত ক্ষেত্ৰসমূহ তেমন পরিবর্তন ব্যতীত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে পারবে না-

(ক) যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে বা তথ্যের ভুলের কারণে যে চুক্তির কার্য সম্পাদন দাবি করা হচ্ছে তার শর্ত প্রতিবাদী চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় যেমন ভেবেছিল তা হতে ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করেছে;

(খ) যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে বা তথ্যগত ভুলের দরুণ যা অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিবাদী তার এবং বাদীর মধ্যে চুক্তির ফলাফল সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত ভুল ধারণার বশবতী হয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে,

(গ) যেখানে প্রতিবাদী চুক্তির শর্তাবলী জেনে এবং উহার ফলাফল উপলব্ধি করেও বাদীর কতিপয় ভুল বিবরণের উপর বিশ্বাস করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে অথবা বাদীর তরফ হতে এমন কতিপয় শর্তের প্রেক্ষিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে যা চুক্তিতে যুক্ত করা হয়েছে কিন্তু তা সে পালন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে;

(ঘ) যেখানে পক্ষসমূহের লক্ষ্য হচ্ছে নির্দিষ্ট আইনগত ফলাফল লাভ করা, কিন্তু চুক্তি যেভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে তা তেমন ফলদায়ী হয় না;

(ঙ) যেখানে পক্ষসমূহ চুক্তিনামা সম্পাদনের সাথে সাথেই, তা পরিবর্তন করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

উদাহরণঃ

(ক) ক, খ ও গ একটি দলিলে স্বাক্ষর করে যার মর্মার্থ হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই ১,০০০ টাকার খাতের জন্য ঘ-এর সহিত চুক্তিবদ্ধ হবে। ক, খ ও গ প্রত্যেকেই পৃথকভাবে ১,০০০টাকার জন্যে দায়ী করে ঘ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় তারা প্রমাণ করে যে, প্রত্যেকেই শব্দটা ভুল করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা ১,০০০ টাকার জন্য যুক্ত খত প্ৰদান করবে। ঘ এইভাবে দাঁড় করানো পরিবর্তন মেনে নিলে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন পেতে পারে।

(খ) ক, খ-কে একটি বাসাবাড়ি ক্রয় করার লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করার জন্যে মামলা দায়ের করল। খ এই কথা প্রমাণ করে যে, সে মনে করেছিল যে, চুক্তিতে বাড়ির সংলগ্ন উঠানের কথাও অন্তর্ভুক্ত না বহির্ভূত সেই সম্পর্কে সন্দেহ থেকে যায়। আদালত খ কর্তৃক দাঁড় করানাে পরিবর্তন ব্যতিরেকে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করবেন।

(গ) ক লিখিতভাবে খ-কে একটি ঘাট এবং সে সাথে নকশায় চিহ্নিত ক-এর জমি খণ্ড ভাড়া দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে খ মৌখিকভাবে প্ৰস্তাব করে যে, নকশার চিহ্নিত জমির পরিবর্তে ক-এর একই আয়তনের অন্য জমি খণ্ড ব্যবহার করার ব্যাপারে তার স্বাধীনতা থাকবে এবং এই ব্যাপারে কি সুস্পষ্টভাবে সম্মতি প্ৰদান করে। খ তার পরে লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর করে। ক, খ কর্তৃক দাঁড় করানো পরিবর্তন মেনে না লইলে, সে লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারবে না।

(ঘ) ক ও খ একটি জমি খ-এর সারা জীবনের জন্য এবং জমির স্বত্বের অবশিষ্ট ভাগ অপর জনের জন্য নিশ্চিত করার জন্য চুক্তিপূর্ব আলোচনায় মিলিত হল। তারা একটি চুক্তি সম্পন্ন করল যার শর্তে দেখা গেল যে, খ-এর উপর চূড়ান্ত মালিকানা অর্পণ করা হয়েছে। এভাবে কৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যাবে না।

(ঙ) ক নির্দিষ্ট শর্তে এবং প্রতিমাসে ১০০ টাকা ভাড়ায় খ-কে একটি বাড়ি ভাড়া প্ৰদান করার কথা মেনে নিল। পরে দেখা গেল বাড়িটি মেরামতের যোগ্য নয়, তাই খ-এর সম্মতিক্রমে কি তা ভেঙ্গে ফেলল এবং সে জায়গায় একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করল; খ মৌখিকভাবে ১২০ টাকা প্ৰতি মাসে ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হল। খ তারপরে লিখিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার জন্য মামলা দায়ের করল। সে পরবতী মৌখিক চুক্তি দ্বারা কৃত পরিবর্তনকে মেনে না নিয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে পারে না।

(ছ) যাহাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায়

ধারা ২৭। পক্ষগণ ও তাঁহাদের নিকট প্রাপ্ত পরবতীর্ণ স্বত্বাধীনে দাবিদার ব্যক্তি এবং পক্ষসমূহের বিরুদ্ধে প্ৰতিকারঃ যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করা যেতে পারেঃ-

(ক) যে কোন পক্ষের বিরুদ্ধে;

(খ) চুক্তির পরবতী সময়ে উদ্ভূত স্বত্ব দ্বারা তার অধীনে দাবিরত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যদি না সে মূল্যের বিনিময়ে এমন একজন হস্তান্তর গ্ৰহীত হয়, যে সরল বিশ্বাসে মূল চুক্তি সম্পর্কে অবহিত থেকে তার অর্থ প্ৰদান করেছিল;

(গ) এমন স্বত্বের অধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে যা যদিও চুক্তির পূর্ববতী ছিল এবং বাদীর জানা ছিল, তবুও তা প্রতিবাদী স্থানচ্যুত করে থাকবে;

(ঘ) যখন পাবলিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তার পর পরই তা অন্য পাবলিক কোম্পানির সাথে একত্রিত হয়, তখন একত্রিত হবার ফলে উদ্ভূত নূতন কোম্পানির বিরুদ্ধে;

(ঙ) যখন পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিরা, কোম্পানি গঠিত হওয়ার আগেই চুক্তি করে, তখন কোম্পানির বিরুদ্ধে; যদি কোম্পানি চুক্তি অনুমােদন ও গ্রহণ করে থাকে এবং কোম্পানি গঠনের শর্ত দ্বারা চুক্তি সমর্থিত হয়ে থাকে।

উদাহরণঃ

অনুচ্ছেদ (খ) তে

ক নির্দিষ্ট জমি একটি বিশেষ দিনের মধ্যে খ-এর নিকট অর্পণ করার জন্য ইক্তিবদ্ধ হয়। কি উক্ত জমি অর্পণ না করেই নির্দিষ্ট দিনের আগে উইল করা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করে। খ, ক-এর উত্তরাধিকারী বা স্বাৰ্থ সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিনিধিকে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে বাধ্য করতে পারে।

ক নির্দিষ্ট জমি খ-এর নিকট ৫,০০০ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। কি পরবতী সময়ে ৬,০০০ টাকার বিনিময়ে উক্ত জমি গ-কে প্ৰদান করল, যে মূল চুক্তি সম্পর্কে অবহিত ছিল। খ, গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে ।

ক, খ-এর নিকট ৫,০০০ টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট জমি বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। খ জমির দখল গ্রহণ করল। পরবর্তী সময়ে কি উক্ত জমিই গ-এর নিকট ৬,০০০ টাকায় বিক্রয় করল। গ উক্ত জমিতে খ-এর স্বতন্ত্ৰ সম্পর্কে কোন অনুসন্ধান করল না। খ-এর দখলই গ-কে তার স্বত্ব সম্পর্কে অবহিত করার জন্য যথেষ্ট এবং খ, গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে।

ক, ১০০০ টাকার বিনিময়ে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি উইল করে যেতে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির পরপরই কি উইল না করে মারা যায় এবং গ তার সম্পত্তির শাসনভার গ্রহণ করে। খ গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে।

ক কতক নির্দিষ্ট জমি খ-এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি সম্পাদন করার আগেই কি পাগল হয়ে যায় এবং গ-কে তার কার্যনির্বাহক নিযুক্ত করা হয়। খ গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে পারে।

অনুচ্ছেদ (গ) তে

ক একটি সম্পত্তির আজীবন প্ৰজা, যার স্বত্বের অবশিষ্ট ভাগের অধিকারী খাঁ। যে পখনি অনুসারে আজীবন প্ৰজা সে পত্তনি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ করে ক সম্পত্তি গ-এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। গ এই পত্তনির বিষয়টি জানত। বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কি মারা গেল। গ, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে।

ক ও খ একটি জমির যৌথ প্ৰজা, যার অর্ধাশ দুইজনের যে কেহই জীবদ্দশায় হস্তান্তর করতে পারবে, কিন্তু তাহা একই স্বত্ব অনুসারে উত্তরজীবির উপর বর্তবে। ক তার অর্ধাংশ গ-এর নিকট বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল এবং মারা গেল। গী, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারে।

ধারা ২৭ক। ইজারা সংক্রান্ত চুক্তির আংশিক সম্পাদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনঃ এ অধ্যায়ের বিধান সমূহ অনুসারে, যেখানে স্থাবর সম্পত্তির ইজারা প্রদানের লিখিত চুক্তির পক্ষসমূহ কর্তৃক অথবা তাদের পক্ষে স্বাক্ষরিত হয়, সেখানে চুক্তির যে কোন পক্ষ চুক্তি রেজিস্ট্রিকৃত না হওয়া সত্ত্বেও যদি তা রেজিস্ট্রিকৃত হওয়া আবশ্যক অপর পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করতে পারবে, যদি-

(ক) যেখানে ইজারাদাতা কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন দাবি করা হচ্ছে এবং সে চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদন হিসেবে সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেছে অথবা ইতিমধ্যেই দখলকৃত থাকায় চুক্তির আংশিক কাৰ্যসম্পাদন হিসেবে দখল অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তির বাস্তবায়ন করে কিছু কাজ করেছে;

(খ) যেখানে ইজারাদার কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন দাবী করা হচ্ছে এবং সে চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদন হিসেবে সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেছে অথবা ইতিমধ্যেই দখলরত থাকায় চুক্তির আংশিক কাৰ্য সম্পাদন হিসেবে দখল অব্যাহত রয়েছে এবং টুক্তির বাস্তবায়ন করে কিছু কাজ করেছেঃ

তবে শর্ত হচ্ছে যে, এ ধারার কোন কিছুই প্রতিদান স্বরূপ হস্তান্তর গ্রহীতার অধিকারকে প্রভাবিত করবে না, যে চুক্তি সম্পর্কে অথবা তার আংশিক কাৰ্য সম্পাদন সম্পর্কে অবহিত নয়।

১৯৩০ সালের ১লা এপ্রিলের পর সম্পাদিত ইজারা চুক্তি সমূহের উপরই এ ধারা প্ৰযোজ্য।

জ. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।

ধারা ২৮। সে পক্ষগণের কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যাবে নাঃ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না-

(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজেই কিংবা অত্র ধারায় পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা অথবা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের  সাক্ষ্য হয়ে দাড়ায়।

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কার্য সম্পাদন করা কর্তব্য হয়। সে পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হােক বা অনিচ্ছাকৃত) গােপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে অথবা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অথবা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে অথবা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্মতি প্ৰদান করা হয়ে থাকেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয়; তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

উদাহরণঃ

অনুচ্ছেদ (গ) তে

দুইজন কাৰ্যনির্বাহীর একজন ক-সহ কাৰ্যনির্বাহীর প্রাধিকারও তার রয়েছে এই ভুল বিশ্বাসের বশবতী হয়ে উইলপূর্বক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি খ-র নিকট বিক্রয় করার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হয়। খ বিক্রয় সম্পূর্ণ করার জন্য পীড়াপীড়ি করতে পারবে না।

ক একজন নিলামকারীকে নির্দিষ্ট জমি বিক্রয় করার নির্দেশ প্ৰদান করে। কা পরবর্তী সময়ে এই জমির ২০ বিঘার ব্যাপারে নিলামকারীর প্রাধিকার বাতিল করে, কিন্তু নিলামকারী অসাবধানতাবশত সমগ্র জমিটাই খ-এর নিকট বিক্রয় করে, সে বাতিলের ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত ছিল না। খ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন কার্যকরী করতে পারবে না।

(ঝ) সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল।

ধারা ২৯। খারিজের পর চুক্তিভঙ্গের মামলা দায়েরে প্রতিবন্ধকতাঃ একটি চুক্তির অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি অথবা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারের প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

(ঞ) বন্দােবস্ত সম্পাদন করার রায় ও নির্দেশাবলী

ধারা  ৩০। পত্তনি সম্পাদন করার জন্য রায় ও উইল প্রদত্ত নির্দেশনাবলীর ক্ষেত্রে পূর্ববতী ধারাসমূহের প্রয়োগঃ চুক্তি সম্পর্কে এ অধ্যায়ের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হলে রায়ের ব্যাপারে প্রযোজ্য এবং তা বিশেষ পত্তনি কার্যকরী করার জন্য উইলের বা উইলে পরিশিষ্টের নির্দেশনাবলীর ব্যাপারেও প্রযোজ্য হবে।

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

Check Also

দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মোকদ্দমার জন্য একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং

ড্রাফটিং এর বিষয়ঃ দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের মোকদ্দমার জন্য একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা …