Legal Study বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ভিডিও লেকচার-১০ - Legal Study
Saturday , March 23 2019

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ভিডিও লেকচার-১০

52-BBC SR Act Header

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
(১৮৭৭ সালের ১নং আইন)
[ফ্রী ভার্সন]
আপনি ফ্রী ভার্সন ব্যবহার করছেন। প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করতে চাইলে 01716409127, 01729820646, 01703924452, 01688107393 (সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা) এই নাম্বারগুলোতে কল দিয়ে প্রিমিয়াম ভার্সনে নিবন্ধন করে নিন।
ধারা ৫৪ থেকে ৫৭ পর্যন্ত

35-BBC Sectional Analysis Directions

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নির্দেশনাঃ প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই অংশে সংশ্লিষ্ট আইনের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি নিবন্ধিত ফ্রী মেম্বার বা নিবন্ধিত না হয়ে থাকেন তাহলে ধারাগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম মেম্বারদের জন্য বিশ্লেষণাত্মক অংশটুকু ধারাগুলোর নিচে প্রদর্শিত হবে। মনে রাখা ভাল, “আইন হচ্ছে বুঝার বিষয়, মুখস্তের বিষয় নয়”।

সংশ্লিষ্ট ভিডিও লেকচার

1421-YouTube Subscribe

বিঃ দ্রঃ ইউটিউবের মাধ্যমে ভিডিও লেকচার পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিকে Subscribe করুন। Subscribe না করলে ভিডিও লেকচারের Notifications পাবেন না। Subscribe করতে নিচের SUBSCRIBE NOW বাটনটিতে ক্লিক করে Active থাকুন।

SUBSCRIBE NOW

<<< পূর্ববর্তী

ধারা-৫৪। চিরস্থায়ী ইনজাংশন যখন মঞ্জর করা হয়ঃ এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ের উল্লিখিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা তা প্রকাশ্য হােক অথবা অনুমিত হােক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জর করা যেতে পারে।

যখন তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, তখন আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানাবলী ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।

যখন প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে অথবা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে অথবা হস্তক্ষেপ করার হুমকি দেয় তখন আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্ৰসমূহে চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জর করতে পারেনঃ

(ক) যেখানে প্রতিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;

(খ) যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরুপণের কোন মানদণ্ড নেই;

(গ) যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা উহার পর্যাপ্ত প্ৰতিকার করা যাবে না;

(ঘ) যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;

(ঙ) যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য অনুযায়ী ট্রেড মার্ক সম্পত্তি বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ

(ক) ক, খ-কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া দেয় এবং খ সেখান হতে বালি বা নুড়ি পাথর খনন বা উত্তোলন না করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। খ-কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য কি মামলা দায়ের করতে পারে।

(খ) একজন জিন্মাদার জিম্মা ভঙ্গ করার হুমকি দেয়। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(গ) একটি পাবলিক কোম্পানীর ডিরেক্টরগণ মূলধন অথবা ঋণ করা অর্থ হতে লভ্যাংশ প্রদানে উদ্যোগী হয়। যে কোন অংশীদার তাদিগকে তা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন।

(ঘ) একটি অগ্নি ও জীবন বীমা কোম্পানীর ডিরেক্টরগণ নৌ-বীমা করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাদিগকে তা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য যে কোন অংশীদারই মামলা দায়ের করতে পারেন।

(ঙ) একজন কার্যনির্বাহী ক অসদাচরণ বা দেউলিয়া অবস্থার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। আদালত তাকে উহার আয় পাওয়া হতে নিবৃত্ত রাখার জন্য ইনজাংশন মঞ্জর করতে পারেন।

(চ) খ-র জিম্মাদার ক জিন্ম সম্পত্তির একটি ক্ষুদ্র অংশের অযৌক্তিক বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খ বিক্রয় হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে যদিও আর্থিক ক্ষতিপূরণ তার পর্যাপ্ত প্ৰতিকার বিধান করে ।

(ছ) ক, খ ও তার সন্তানদের নামে একটি সম্পত্তির পত্তন করে। কি তারপর উক্ত সম্পত্তি গ-এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় হতে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ অথবা তার যে কোন সন্তান মামলা দায়ের করতে পারে।

(জ) উকিল হিসাবে ক-র নিয়ােজিত থাকার সময় তার মক্কেল খ-র কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। কি উক্ত দলিলসমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা উহার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট ফাঁস করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। ক-কে তেমন কোন কাজ করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঝ) ক, খ-এর চিকিৎসা উপদেষ্টা। ক টাকা দাবি করল যা ‘খ’ প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। কি তারপর রোগী হিসাবে খ যে সব তথ্য তার কাছে প্রকাশ করেছে। তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। ইহা কি-র কর্তব্যের বিপরীত এবং ক-কে তেমন কোন কাজ করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঞ) দুইটি সংলগ্ন বাড়ির মালিক ক, খ-র নিকট একটি বাড়ি ভাড়া দেয় এবং পরবর্তী সময়ে গ-এর নিকট অপর বাড়িটি ভাড়া দেয়। তারপর ‘ক’ ও ‘গ’ গ-কে ভাড়া দেওয়া বাড়ির পরিবর্তন শুরু করল, যা খ-কে ভাড়া দেওয়া বাড়ির স্বচ্ছন্দ্যমূলক উপভোগকে বিঘ্নিত করবে। তাদেরকে তেমন কাজ করা হতে নিবৃত্ত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পারে।

(ট) ক নির্দিষ্ট চাষযোগ্য জমি চাষাবাদের উদ্দেশ্যে, কিন্তু চাষাবাদের ধরন

সম্পর্কে সুস্পষ্ট চুক্তি ছাড়াই খ-এর নিকট ইজারা পত্তন দিল। জিলার প্রথাগত চাষাবাদের রীতির বিপরীতভাবে খ জমিতে এমন বীজ বপনের হুমকি দিল, যা জমির জন্য ক্ষতিকারক এবং যা নির্মূল করার জন্য বহু বছর সময় প্রয়োজন হবে। ক মালিক হিসেবে জমি চায় করার ইঙ্গিত বোখক চুক্তি লঙ্ঘন করে জমিতে বীজ বপন করা হতে খ কে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করেতে পারে।

(ঠ) ক, খ ও গ অংশীদার এবং অংশীদারিত্বের মেয়াদ অংশীদারগণের ইচ্ছাধীনে সীমাবদ্ধ। অংশীদারী সম্পত্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে কি একটি কাজ করার হুমকি প্ৰদান করে। খ ও গ অংশীদারিত্ব ভেঙ্গে দেওয়ার আবেদন না করেও ক-কে উক্ত কাজ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(ড) একজন হিন্দু বিধবা ক তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি দখল করেছে। সে সম্পত্তির বিনাশমূলক এমন কাজ করল যা করার কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ নাই। সম্পত্তির ভাবী উত্তরাধিকারী তেমন কাজ হতে তাকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঢ) ক, খ ও গ একটি হিন্দু একান্নাবতী পরিবারের সদস্য। কি পরিবারের সম্পত্তির উপর বর্ধমান বৃক্ষের গুড়ি কেটে ফেলল, এবং পারিবারিক বাড়ির অংশবিশেষ ধ্বংস এবং কতক পারিবারিক তৈজসপত্র বিক্রয় করার হুমকি প্রদান করল। খ ও গ তাকে তেমন কাজ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে ।

(ণ) চট্টগ্রামে কতিপয় নির্দিষ্ট বাড়ির মালিক ক দেউলিয়া হয়ে পড়ল। খি সেগুলি তার সরকারি স্বত্নিয়োগীর কাছ হতে ক্রয় এবং দখল-ভোগ প্রতিষ্ঠা করল। কি বাড়িতে ক্রমাগত অনধিকার প্রবেশ এবং বাড়ির ক্ষতিসাধন করতে লাগল এবং যার ফলে খ বাধ্য হয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থের বিনিময়ে তার দখল সংরক্ষণ করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করল। আরও অনধিকার প্রবেশ হতে ক-কে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পারে।

(ত) একটি গ্রামের অধিকারীরা কি-র জমির উপর দিয়া যাতায়াত করার অধিকার দাবি করে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় কি এই ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভ করে যে, জমি তেমন কোন অধিকারের অধীন নয়। এরপর গ্রামের অবশিষ্টদের প্রত্যেকেই ক-এর জমির উপর দিয়ে তাদের যাতায়াতের অধিকারের বাধা প্ৰদান করেছে বলে অভিযোগ করে মামলা দায়ের করল । ক তাদেরকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(থ) ক একটি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মামলায় পাওনাদার খ যাতে কোন পক্ষ নয়, গা-র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য ডিক্ৰি পেল। খ, গা-র সম্পত্তির বিরুদ্ধে তার ঋণের জন্য মামলা দায়ের করল। ক, খ-কে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(দ) ক ও খ পরস্পর সংলগ্ন জমি এবং ভূ-গর্ভস্থ খনি দখলের অধিকারী। কি তার খনিতে খ-র খনির খনিজ সীমার নিচ পর্যন্ত খনন করেছে এবং কতিপয় খুঁটি অপসারণের হুমকি প্ৰদান করেছে যা খাঁ’র খনিকে ধারণ করেছে। তেমন কাজ করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পাৱে।

(ধ) ক একটি বাড়ির এত নিকটে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘন্টা বাজায় বা শোরগোল করে যে, তা বাড়ির অধিবাসী, খ-র দৈহিক আরাম আয়েশ্যে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক-কে শোরগোল হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ মামলা দায়ের করতে পারে।

(ন) ক ধুয়া দ্বারা বাতাসকে এত দূষিত করে যে, তা পার্শ্ববতী বাড়িতে বসবাসরত খ ও গ-র দৈহিক আরাম-আয়েশে উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বাতাস দূষিত করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য খ ও গ মামলা

(প) ক, খ-এর পেটেন্টে অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছে। যদি আদালত নিশ্চিত হন যে, পেটেন্ট বৈধ এবং তাতে অনধিকার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে তা হলে খ অনধিকার হস্তক্ষেপ হতে বিরত রাখার জন্য ইনজাংশন পাওয়ার অধিকারী হবে।

(ফ) ক, খ-র গ্রন্থকার স্বত্ব ট্রেডমার্ক ব্যবহার করেছে। খ ব্যবহারকারীকে তা হতে নিবৃত্ত রাখার জন্য ইনজাংশন পেতে পারে, যদি খ কর্তৃক উক্ত ট্রেডমার্ক ব্যবহার যথাযথ হয় ।

(ভ) একজন ব্যবসায়ী ক, খ-কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং খ-র প্রাধিকার ছাড়াই তার অংশীদার হিসাবে প্রচার করে। ক-কে তেমন কাজ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে খ ইনজাংশন পেতে পারে।

(ম) একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি কি পারিবারিক বিষয়ে খ-এর নিকট একটা চিঠি লিখে। ক ও খ-এর মৃত্যুর পর খ-র উত্তরদায় গ্রাহক গ, খ-র চিঠি প্রকাশ করে কিছু অর্থ প্ৰাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ক-র কার্যনির্বাহী ঘ-র উক্ত চিঠিতে স্বত্ব রয়েছে এবং সে গ-কে তা প্ৰকাশ করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(য) ক একটি কারখানা পরিচালনা করে এবং খ সহকারী। তার ব্যবসা চলাকালে ক, খ একটি মূল্যবান গুপ্ত পদ্ধতি জ্ঞাত করে। খ পরবতী সময়ে ক-র নিকট হতে টাকা দাবি করে এবং এই হুমকি প্ৰদান করে যে, তার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে সে উক্ত পদ্ধতি প্ৰতিদ্বন্ধী উৎপাদনকারীর নিকট তা ফাস করে দিবে। খ – কে পদ্ধতি ফাস করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশন জারির জন্য ক মামলা দায়ের করতে পারে।

ধারা ৫৫। বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞাঃ যখন একটি বাধ্যবাধকতা (Obligation) ভঙ্গ রোধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আবশ্যক হয়; যা আদালত কার্যকরী করার যোগ্য, তখন আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তা রোধ করা সেই সাথে প্রয়ােজনীয় কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্যে ইনজাংশন মঞ্জর করতে পারেন ।

উদাহরণ

(১) “ক” একটি নতুন দালানের দ্বারা আলোর গমনাগমন ও ব্যবহারের পথে এমন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, যার উপর ‘খ’ তামাদি আইনের (৪র্থ খণ্ড) বিধান অনুসারে অধিকার অর্জন করেছে। ‘খ’ আলোর পথে যতখানি বাধা স্থাপন করেছে, তা ভেঙ্গে ফেলার জন্যেও ইনজাংশন পেতে পারে।

(২) রহিম একটি বাড়ি নির্মাণ করল, যার ছাদের প্রান্তভাগ করিমের জমির উপর পড়েছে। করিম তার জমির উপর ছাদের যতখানি প্রান্তভাগ পড়েছে তা ভেঙ্গে ফেলাৱ জন্যে ইনজাংশন পাবার উদ্দেশ্যে মামলা রুজু করতে পারে।

(৩) ৫৪ নং ধারা “ঝ’ উদাহরণে যে মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে আদালত আরও আদেশ প্ৰদান করতে পারেন যে, রোগী হিসেবে ‘খ’ চিকিৎসা উপদেষ্টা ‘ক’-এর নিকট যত পত্রালাপ করেছে, তা নিশ্চিহ্ন করা হােক ।

(৪) ৫৪ নং ধারাতে বর্ণিত ‘মা’ উদাহরণে উল্লেখিত মামলায় আদালত ‘ক’-এর চিঠি ধ্বংস করে ফেলার আদেশ প্ৰদান করতে পারেন।

(৫) করিম রহিমের সম্পর্কে এমন বিবৃতি প্রকাশ করার হুমকি দেয় যে, তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একাদশ অধ্যায়ের অধীন শাস্তিযোগ্য। আদালত তা প্রকাশ থেকে বিরত রাখার জন্যে ইনজাংশন মঞ্জর করতে পারেন, এমনকি যদিও এটা দেখানো যেতে পারে যে, তা রহিমের সম্পত্তির জন্য ক্ষতিকর নয়।

(৬) ক, খ-এর চিকিৎসা উপদেষ্ট হিসেবে তার নিকট প্রেরিত ‘খ’-এর লিখিত চিঠিপত্র প্রকাশ করার হুমকি দেয়, যার মাধ্যমে এটা দেখানাে যেতে পারে যে, ‘খ’ নৈতিকতাবিহীন জীবন যাপন করছে। তাকে তা প্ৰকাশ করা থেকে বিরত রাখার জন্যেও ইনজাংশন দেয়া যেতে পারে।

(৭) ৫৪ নং ধারার ফ ও ব এবং ঙ ও চ উদাহরণের ক্ষেত্রে আদালত যথাক্রমে উল্লেখিত গ্রন্থস্বত্ব অপহরণ দ্বারা প্ৰস্তৃত গ্রন্থ ও ট্রেডমার্ক বিবৃতি এবং চিঠিপত্র প্রত্যার্পণ বা ধ্বংস করে ফেলার আদেশ প্ৰদান করতে পারেন ।

ধারা ৫৬। নিষেধাজ্ঞা যখন প্রত্যাখ্যান করা হয়ঃ ইনজাংশন মঞ্জর করা হয় না যখন-

(ক) যে মামলায় ইনজাংশন চাওয়া হয়, সে মামলার দ্বারা একটি বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্যে যদি না কার্যধারার পুনঃপৌনিকতা রোধ করার , জন্যে তেমন নিবৃত্তি আবশ্যক হয়;

(খ) যে আদালতে ইনজাংশন চাওয়া হচ্ছে সে আদালতের অধীনস্থ হন এমন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্যে;

(গ) কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্যে;

(ঘ) সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে অথবা বিদেশী সরকারের কোন সার্বভৌম কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্যে;

(ঙ) কোন ফৌজদারী বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্যে;

(চ) যে চুক্তির কার্য সম্পাদন সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না, তেমন চুক্তি ভঙ্গ রোধের উদ্দেশ্যে;

(ছ) উৎপাতের অজুহাতে এমন কোন কাজ নিরোধ করার জন্যে যা

(জ) এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্যে যাতে বাদীর মৌনী সম্মতি রয়েছে।

(ঝ) যখন জিম্মা ভঙ্গের মামলা ছাড়া সমপরিমাণ। ফলোৎপাদন প্ৰতিকার নিশ্চিতভাবেই অন্য কোন সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়;

(ঞ) যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন হয় যে, তা তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে;

(ট) যেখানে মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোন ব্যক্তিগত স্বাৰ্থ নেই।

উপরে উল্লিখিত ১১টি অবস্থাতে আদালত কোনক্রমেই ইনজাংশন মঞ্জর করেন। না। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে অবস্থার প্রেক্ষিতে বিপরীতও হতে পারে।

উদাহরণ

‘ক’ তার ব্যবসায়ে অংশীদার খ-কে অংশীদারিত্ব দেনা ও লাভ গ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্যে ইনজাংশন প্রার্থনা করল। কিন্তু দেখা গেল যে, ‘ক’ অনুচিৎভাবে প্রতিষ্ঠানের বহিসমূহ দখল করে রেখেছে এবং “খ”-কে তা দেখতে দিতে অস্বীকার করছে। এ অবস্থায় আদালত কখনও ইনজাংশন মঞ্জর করবেন না।

২। ‘ক’ ক্রুসিবল তৈরি ও বিক্রি করে। সেগুলো সে পেটেন্ট প্লাম্বাগো ক্রসিবল নামে বাজারে চালু করল, যদিও সেগুলো কার্যত কখনও পেটেন্ট করা হয়নি। ‘খ’ নাম অপহরণ করল। ‘ক’ এই অপহরণ রোধকল্পে কোন ইনজাংশন পেতে পারে না।

৩ । ‘ক’ মেক্সিকান বাম নামে একটি জিনিস বেচত এবং বলত যে এটা দুস্থপ্রাপ্য নির্যাস মিশ্রিত করে প্রস্তুত এবং তার সার্বভৌম ঔষধ মান রয়েছে। ‘খ’ একই ধরনের মাল বিক্রি করা শুরু করল এবং তার এমন নাম ও বিবরণ প্ৰদান করল যে, জনগণ এই বিশ্বাসেই তা কিনতে লাগল যে, তারা ‘ক’-র মেক্সিকান বাম কিনছে। সেই মাল বিক্রি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইনজাংশনের জন্যে “ক” “খ”-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েল করল, “খ” দেখালো যে ‘ক’-এর মেক্সিকান বাম সুগন্ধি মিশ্ৰিত শুকরের গলিত চর্বি ছাড়া কিছুই না। “ক” যে বিবরণ প্ৰদান করেছিল তা অসৎ তথা সত্য নয় বিধায় সে ইনজাংশন পেতে পারে না।

ধারা ৫৭। নেতিবাচক চুক্তি পালন করার জন্যে ইনজাংশনঃ ৫৬ ধারার (চ) অনুচ্ছেদ “যে চুক্তির কার্য সম্পাদন সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না, তেমন চুক্তি নিরোধের উদ্দেশ্যে”- বিধান থাকা সত্ত্বেও যেখানে একটি চুক্তি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করার সম্মতির সমন্বয় যেখানে হ্যা সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কার্যসম্পাদনের ব্যাপারে ইনজাংশন মঞ্জর করা থেকে নিবারণ করবে না। তবে শর্ত হচ্ছে বাদী দার উপর যতটুকু অবশ্য পালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালন করতে ব্যর্থ হয়নি।

উদাহরণ

(ক) “ক” বাসস্থান ছাড়া একটি নির্দিষ্ট ব্যবসার ‘সুনাম’। ‘খ’-র নিকট ১০০০ টাকায় বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হলো এবং আরও সম্মতি প্রকাশ করলো যে, সে চট্টগ্রামে ব্যবসা চালাবে না। ‘খ’ ‘ক’-কে ১০০০ টাকা প্ৰদান করল। কিন্তু ‘ক’ চট্টগ্রামে তার ব্যবসা চালায়ে যেতে লাগল। আদালত ‘ক-কে তার খরিদারদের ‘খ-র নিকট পাঠাতে বাধ্য করতে পারে না, কিন্তু ‘ক’-কে চট্টগ্রামে ব্যবসা চালনা থেকে বিরত রাখার জন্যে ইনজাংশন পেতে পারে।

(খ) ক একটি নির্দিষ্ট ব্যবসার ‘সুনাম’ খ-র নিকট বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হল। কি তারপর খ-র দোকানের নিকটেই একই ধরনের ব্যবসা শুরু করল এবং পুরাতন খরিদারদের পাওয়ার চেষ্টা চালাতে লাগলো। এটা তার অনুমিত চুক্তির বিপরীত এবং ক-কে পুরাতন খরিদারদের পাওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত রাখা এবং এমন কোন কাজ যার ফলে খ-র নিকট থেকে ‘সুনাম’ প্রত্যাহৃত হয়, ক থেকে বিরত রাখার জন্যে খর একটি ইনজাংশন পেতে পারে।

(গ) ক, খ-র সাথে ১২ মাসের জন্যে খ-র থিয়েটারে গান গাওয়া এবং অন্য কোন জনসমাগম স্থানে গান না গাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হল। খ গান গাওয়া সংক্রান্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরীকরণ পেতে পারে না, কিন্তু সে জনসমাগম স্থানে গান গাওয়া । থেকে কি-কে বিরত রাখার জন্যে ইনজাংশন পাওয়ার অধিকারী।

(ঘ) ক, খ-র সাথে চুক্তিবদ্ধ হল যে, বিশ্বস্ততার সাথে কেরানী হিসেবে ১২ মাসের জন্যে তার কাজ করবে। কি এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়। কিন্তু সে খ-কে কোন প্রতিদ্বন্ধী প্রতিষ্ঠানে কেরানী হিসেবে চাকুরী করা থেকে বিরত রাখার জন্যে ইনজাংশন পাওয়ার অধিকারী।

(ঙ) ক, খ-র সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হল যে খ কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট দিনে ১,০০০ টাকা প্রদানের বিনিময়ে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে সে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসা শুরু করবে না। খ অর্থ প্রদানে ব্যৰ্থ হয়। ক-কে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ব্যবসা চালানো থেকে বিরত রাখা যাবে না।

<<< পূর্ববর্তী

Check Also

বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ভিডিও লেকচার-১০

ধারা ৫৪ থেকে ৫৭ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভিডিও লেকচার ধারা-৫৪। চিরস্থায়ী ইনজাংশন যখন মঞ্জর করা হয়ঃ এই …

Messenger icon