Wednesday , December 11 2019

যৌতুক দাবি করলে কি করবেন? (পর্ব-০১)

যৌতুক কি?

সাধারণ অর্থে যৌতুক বলতে বিয়ের সময় কিংবা বিয়ের আগে-পরে পাত্র বা বর পক্ষ কর্তৃক কনে পক্ষের কাছে কৃত দাবি-দাওয়াকে বুঝায়। অর্থাত্‍ পাত্র পক্ষ কনে পক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে যে সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদায় করে তাই যৌতুক৷ ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী পক্ষের দ্বারা বিয়ের পণ হিসাবে বিয়ে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় বিয়ে স্থির থাকার শর্তে অর্থ, বিলাস সামগ্রী বা অন্যবিধ দাবিকে যৌতুক বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনঃ যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০

সংজ্ঞাঃ যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০ এর ২ ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে –

(ক) বিবাহে একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে; অথবা

(খ) বিবাহে কোন এক পক্ষের পিতা মাতা কর্তৃক বা অন্য যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোন ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যে কোন কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহে পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করিতে সম্মত যে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়, তবে যে সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রযোজ্য সে সকল ব্যক্তির দেনমোহর বা মোহর অন্তর্ভূক্ত করে না৷

ব্যাখ্যাঃ সন্দেহ নিরসনের জন্য এতদ্বারা ঘোষণা করা হইলে যে, কোন বিবাহের সময় বিবাহের কোন পক্ষকে বিবাহের পক্ষ নয় এমন যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক অনধিক পাঁচশত টাকা মূল্যের দ্রব্য সামগ্রীর আকারে প্রদত্ত কোন উপহার এই ধারার অর্থানুসারে যৌতুক বলিয়া গণ্য হইবে না, যদি তাহা উক্ত পক্ষের বিবাহের পণ হিসেবে প্রদত্ত না হয়৷

যৌতুক প্রদান বা গ্রহনের শাস্তিঃ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ধারা ৩ এ বলা হয়েছে, এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে প্ররোচনা দেয়, তাহা হইলে সে ৫ বছর পর্যন্ত এবং এক বছরের কম নহে কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে৷

ব্যাখ্যাঃ এই ধারায় যৌতুক দেয়া বা নেয়া এ দুটির মধ্যে যে কোন একটি করলেই তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে৷ বর পক্ষ বা কনে পক্ষ, কোন পক্ষই যৌতুক দাবী করতে পারবে না৷ তেমনিভাবে যদি কেউ যৌতুক নেয়া বা দেয়ার জন্য উৎসাহ বা প্ররোচনা দেয় তাহলে সে ব্যক্তিও আলোচ্য ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে বলে বিবেচিত হবে৷

২য় পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন >>>

Check Also

বর্গা চাষ, পর্ব-০৭

জমি বর্গা নেয়ার সীমাবদ্ধতাঃ কোন বর্গাদারই ১৫ বিঘার বেশী জমি বর্গাচাষের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন না। (১৯৮৪ …