Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Saturday , October 19 2019

যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারা মোতাবেক একটি মামলার ড্রাফটিং

বিঃদ্রঃ নিম্নে ড্রাফটিং এর কাল্পনিক তথ্য পর্যাক্রমিকভাবে উপস্থাপন করা হল এবং এই তথ্যগুলো কিভাবে সাজিয়ে লিখতে হয় তা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হল। আশাকরি সকলেই উপকৃত হবেন।

হেতুবাদসমূহঃ

১। অত্র মোকদ্দমায় দরখাস্তকারী/বাদীনি একজন সহজ, সরল, গরীব, শ্রমজীবি ও আইন মান্যকারী মহিলা বটে। পক্ষান্তরে আসামীগণ একজন হামার্দ, বদ মেজাজী, যৌতুকলোভী, প্রতারক, পরধনলোভী, নারী নির্যাতনকারী ও আইন অমান্যকারী প্রকৃতির লোক বটে।

২। অত্র মোকদ্দমায় দরখাস্তকারী/বাদীনির সহিত বিগত ১২/১০/২০০০ ইং তারিখে ইসালামী শরা শরীয়ত মোতাবেক ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা দেনমোহর ধার্য্যে বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় বাদীনির পিত্রালয় হইতে নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং ঘরের যাবতীয় ফার্নিচার আসামীকে প্রদান করা হয়। বিবাহের সময় দেনমোহরানার কোন অংশ ওয়াসিল করা হয় নাই।

৩। উপরোক্ত মোকদ্দমায় আসামী বিবাহের পর দাম্পত্য জীবন চলাকালীন ১নং আসামীর ঔরষে এবং বাদীনির গর্ভে দুইটি কন্যা সন্তান যথাক্রমেঃ (১) ———, বয়সঃ ৮ (আট) বৎসর, (২) ———, বয়সঃ ৩ (তিন) বৎসর এবং একটি ছেলে সন্তান জম্ম গ্রহণ করে। ছেলে সন্তানটি পরবর্তীতে মারা যায়। ১নং আসামী বিগত ২২/১২/২০০৬ইং তারিখে যৌতুক দাবী করে মারধর করে। যাহার ফলে বাদীনি কোতয়ালী থানায় সাধারন ডাইরী নং———-, তারিখ ২২/১২/২০০৬ দায়ের করেন।

৪। অত্র মোকদ্দমার ১নং আসামী বিবাহের পর হইতেই বাদীনির নিকট যৌতুক দাবী করিয়া বাদীনিকে নির্যাতন করিয়া আসিতেছে। এই বিষয়ে বাদীনি বিগত ১৭/১২/২০০৯ ইং তারিখে বংশাল থানায় সাধারণ ডায়রী নং——–, তারিখ ২৭/১২/২০০৯ইং দায়ের করেন এবং বাদীনি গরীবের মেয়ে বিধায় ১নং আসামী সহ অন্যান্য আসামীদের সকল অত্যাচার মুখ বুঝিয়া সহ্য করিয়া আসিতে থাকা অবস্থায় বিগত ২ (দুই) বৎসর আগে মারধর করে তিনটি কন্যা সন্তানসহ আসামীদের বাড়ী হইতে এক কাপড়ে মারধর করে বাদীনিকে তাড়িয়ে দেয়। বাদীনি তখন উপায়ন্ত না দেখে তাহার পিতার কেরানীগঞ্জের ঠিকানায় আসিয়া বসবাস করাকালীন ১নং আসামী আসিয়া বাদীনির নিকট যৌতুক দাবী করে বাদীনি তখন আসামীর নিকট তাহারসহ তাহার ২টি কন্যা সন্তানের ভরনপোষণ দাবী করে। কিন্তু আসামী দিবে না বলিয়া অস্বীকার করিয়া যৌতুক দাবী করিয়া বিগত ১০/০২/২০১০ইং ও ১০/০৬/২০১০ইং তারিখে বাদীনিকে মারধর করিয়া চলিয়া যায়। বাদীনি এই বিষয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গিয়া থানা পুলিশের পরামর্শে কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়রী নং——-, তাং- ১৪/০৬/২০১০ইং দায়ের করেন এবং বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১নং আসামী বাদীনিকে বিগত ১০/০২/২০১০ ইং তারিখে মারধর করে বাদীনি পিতার বাড়ীতে। যাহার ফলে বাদীনি রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডাক্তারী চিকিৎসা করায় চিকিৎসার সনদপত্র সংযুক্ত।

৫। অত্র মোকদ্দমায় ১নং আসামী বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাদীনিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসিতেছে যৌতুকের টাকা রেডী রাখার জন্য। নইলে বাদীনিকে দুই সন্তানসহ তালাক দিয়ে অন্যত্র বিবাহ করিবে।

৬। অত্র মোকদ্দমার ১নং আসামী অন্যান্য আসামীদের নিয়া বিগত ২০/১২/২০১০ ইং তারিখে বাদীনির বর্তমান ———————– ঠিকানায় সকাল ৯.০০ ঘটিকার সময় আসিয়া ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবী করে। বাদীনি দিবে না বলিয়া অস্বীকার করায় ১নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীগণ বাদীনিসহ বাদীনির পিতাকে গালিগালাজ শুরু করিলে বাদীনি তাহার প্রতিবাদ করায় ১নং আসামী অন্যান্য আসামীদের সহযোগীতায় বাদীনিকে মারধর শুরু করে। তখন বাদীনির ডাক চিৎকারে বাদীনির দুই কন্যা সন্তানসহ বাদীনির পিতা ও আশেপাশের লোকজন চলিয়া আসিলে আসামীগণ দ্রæত গতিতে চলিয়া যাবার সময় এই বলিয়া হুমকি প্রদান করিয়া যায় যে, ১নং আসামীর দাবীকৃত যৌতুকের ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা ছাড়া বাদীনিকে নিয়া আর ঘর সংসার করিবে না এবং কোন প্রকার ভরনপোষণ দিবে না। বাদীনিকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করিবে বিধায় বাদীনি এই বিষয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, মানবাধিকারে গিয়েছেন এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় গিয়াছেন। থানা পুলিশ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মানবাধিকারের পরামর্শে আদালতে আসিয়া বাদীনি আসামীগণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিলেন।

৭। অত্র মোকদ্দমার কারণ ও ঘটনাস্থল অত্র আদালতের এলাকাধীন লালবাগ থানাধীন উদ্ভব হইয়া বর্তমানেও বিদ্যমান রহিয়াছে বিধায় অত্র আসামীগণের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনের ৪ ধারায় অত্র মোকদ্দমা দায়ের করা হইল।

প্রার্থনাঃ

অতএব, প্রার্থনা, উপরোক্ত অবস্থা ও কারণাধীনে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে অত্র দরখাস্তটি যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় আমলে নিয়া আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করিয়া জেল হাজতে আটক রাখিয়া বাদীনির প্রতি সুবিচার করিতে বিজ্ঞ আদালতের মর্জি হয়।
ইতি তাং——-।


Check Also

দন্ডবিধির ৪০৬, ৪১৭ এবং ৫০৬ ধারা মোতাবেক একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং

ড্রাফটিং এর বিষয়ঃ দন্ডবিধির ৪০৬, ৪১৭ এবং ৫০৬ ধারা মোতাবেক একটি লিগ্যাল ড্রাফটিং সাবলীলভাবে উপস্থাপন …