Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Thursday , November 15 2018

মোট আয় নিরুপণ ও কর পরিগণনার উদাহরণ, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯

আয়কর নির্দেশিকা, ২০১৮
আমরা স্বাবলম্বী হবো, সকলে কর দিব
মোট আয় নিরুপণ ও কর পরিগণনার উদাহরণ
সহজ ভাষায় আইন শিক্ষা
আমাদের ই-লার্নিং পোর্টালটি শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক পোর্টাল, অত্র পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনি যদি বিজ্ঞ আইনজীবীদের নিকট থেকে আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত কোন আইনগত সহায়তা / পরামর্শ / প্রেক্টিকেল ট্রেনিং নিতে চান তাহলে 01786265921, 01716409127, 01611234520 নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। 

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি-করদাতার মোট আয় ও করদায়ের পরিমাণ কিভাবে পরিগণনা করা হবে তা কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যেমে নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

১। সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের আয় এবং কর পরিগণনাঃ

(ক) শুধু বেতন খাতের আয় থাকলেঃ

জনাব রহমান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন কর্মচারী। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে তিনি নিম্নোক্ত হারে বেতন ভাতদি পেয়েছেনঃ

মাসিক বেতনঃ ২২,০০০/-

উৎসব বেনাস ২টিঃ (২২,০০/- × ২) = ৪৪,০০০/-

চিকিৎসা ভাতাঃ ১,৫০০/-

শিক্ষা সহায়ক ভাতাঃ ৫০০/-

বাংলা নববর্ষ ভাতাঃ ৪,৪০০/-

তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত বাসায় থাকেন। ভবিষ্যৎ তহবিলে তিনি প্রতি মাসে ৩,২০০ টাকা জমা রাখেন। হিসাব রক্ষণ অফিস হতে প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র হতে দেখা যায় যে, ৩০/০৬/২০১৮ তারিখে ভবিষ্য তহবিলে অর্জিত সুদের পরিমাণ ছিল ২৯,৫০০ টাকা। কল্যাণ তহবিলে ও গেষ্ঠি বীমা তহবিলে চাঁদা প্রদান বাবদ প্রতি মাসে বেতন হতে কর্তন ছিল যথাক্রমে ৫০ ও ৪০ টাকা।

২০১৮-২০১৯ করবছরে জনাব রহমান এর মোট আয় এবং কারদায় কত হবে তা নিম্নে পরিগণনা হরা হলোঃ

বেতন খাতে আয়ঃ

মূল বেতনঃ (২২,০০০×১২ মাস) = ২,৬৪,০০০/-

উৎসব বোনাসঃ (২২,০০০×২) = ৪৪,০০০/-

মোট আয় = ৩,০৮,০০০/-

জনাব রহমান ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত আয়বছরে যে চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা পেয়েছেন তা তার জন্য প্রযোজ্য চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতদি) আদেশ, ২০১৫ এর অন্তর্ভূক্ত। ফলে এসব ভাতার জন্য তাকে আয়কর প্রদান করতে হবে না।

কর দায় পরিগণনাঃ

প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত “শূন্য’’ হারে শূন্য

অবশিষ্ট ৫৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০% হারে ৫,৮০০/-

মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর =৫,৮০০/-

বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াত পরিগণনাঃ

বিনিয়োগের পরিমাণঃ

ভবিষ্যৎ তহবিলে চাঁদাঃ (৩,২০০×১২ মাস) = ৩৮,৪০০/-

কল্যাণ তহবিলে চাঁদাঃ (৫০×১২ মাস) = ৬০০/-

গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদাঃ (৪০×১২মাস) = ৪৮০/-

মোট বিনিয়োগ = ৩৯,৪৮০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ৩৯,৪৮০/-
(খ)মোট আয় ৩,০৮,০০০/- টাকার ২৫%৭৭,০০০/-
(গ১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [ (ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]৩৯,৪৮০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ হবে সরাসরি অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ৩৯,৪৮০ এর ১৫% অর্থাৎ (৩৯,৪৮০×১৫%) = ৫,৯২২/ টাকা।

মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর ৫,৮০০/-

কর রেয়াত ৫,৯২২/-

রেয়াত বাদে পরিগণিত প্রদেয় কর (১২২/-)

উপরের কর পরিগণনা অনুযায়ী প্রদেয় কর ঋণাত্মক হলেও করদাতার করমুক্ত সীমার অতিরিক্ত আয় থাকায় এক্ষেত্রে করদাতার অবস্থান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হলে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হলে ন্যূনতম ৪,০০০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় হলে ৩,০০০ টাকা আয়কর প্রদান করতে হবে।

একই আয় যদি কোন প্রতিবন্ধী অথবা গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ৪,০০,০০০ টাকা এবং ৪,২৫,০০০ টাকা হওয়ায় তাকে কোন কর প্রদান করতে হবে না। এছাড়াও একই আয় একজন মহিলা কার্মকর্তার থাকলে, যার প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এবং তার স্বামী প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য কোন অব্যাহতির সীমা গ্রহণ করেন না, তার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,২৫,০০০ টাকা হওয়ায় তাকে কোন কর প্রদান করতে হবে না।

(খ) বেতনসহ অন্য খাতের আয় থাকলেঃ

একজন সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর বেতন খাত ছাড়াও ব্যাংক সুদ, গৃহ সম্পত্তি, লভ্যাংশ, ব্যাংক সুদ, ইত্যাদি খাতে আয় থাকতে পারে।

ধরা যাক, জনাব অর্নব রহমান স্ব-শাসিত (Public Bodies) এর একজন কর্মচারী। তিনি ১ জুলাই ২০১৭ হতে ৩০ জুন, ২০১৮ সময়কালে নিম্নোক্ত বেতন ও ভাতা পেয়েছেনঃ

(ক) মূল বেতনঃ (৫৮,৭৬০ ×১২) = ৭,০৫,১২০/-

(খ) বাড়ী ভাড়া ভাতাঃ (২৯,৩৮০×১২) = ৩,৫২,৫৬০/-

(গ) ২টি উৎসব বেনাসঃ (৫৮,৭৬০×২) = ১,১৭,৫২০/-

(ঘ) চিকিৎসা ভাতাঃ (১,৫০০×১২) = ১৮,০০০/-

(ঙ) শিক্ষা সহায়ক ভাতাঃ (৫০০×১২) = ৬,০০০/-

(চ) বাংলা নববর্ষ ভাতাঃ ১১,৭৫২/-

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হতে গাড়ী বরাদ্দ পেয়েছেন। গাড়ী ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসের বেতন হতে ৬০০ টাকা করে কর্তন করা হয়। এছাড়াও তিনি নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ একাডেমীতে খন্ডকালীন প্রশিক্ষক বা রিসোর্স পার্সন (resource person) হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সম্মনী বাবদ ৩৫,০০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের খাতা দেখা ফি বাবদ ১০,০০০ টাকা পেয়েছেন। উক্ত সম্মনী ও ফি প্রদানকালে ১০% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়েছে।

এছাড়া জনাব অর্নব রহমান এর গৃহ-সম্পত্তি খাতে ৫০,০০০ টাকা, কৃষি খাতে ১০,০০০ টাকা, আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে লভ্যাংশ প্রাপ্তি ১,৩৫,০০০ টাকা এবং ব্যাংক সুদ খাতে ১০,০০০ টাকা আয় রয়েছে। লভ্যাংশ ও ব্যাংক সুদের উপর ১০% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়েছে।

জনাব অর্নব রহমান মোট আয় ও করদায় পরিগণনা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

(ক) বেতন খাতে আয়ঃ

মূল বেতনঃ (৫৮,৭৬০×১২) = ৭,০৫,১২০/-

উৎসব ভাতাঃ (৫৮,৭৬০×২) = ১,১৭,৫২০/-

(খ) গৃহ-সম্পত্তি আয়ঃ ৫০,০০০/-

(গ) কৃষি আয়ঃ ১০,০০০/-

(ঘ) অন্যান্য সূত্রের আয়ঃ

পেশাগত আয় (সম্মানী ৩৫,০০০ + ফি ১০,০০০) = ৪৫,০০০/-

(আ) লভ্যাংশঃ

আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে লভ্যাংশ প্রাপ্তি ১,৩৫,০০০ টাকা যার মধ্যে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর মুক্ত । ২৫,০০০ টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য হবে। তাই লভ্যাংশ অয় (১,৩৫,০০০-২৫,০০০) = ১,১০,০০০/-

ব্যাংক সুদ ১০,০০০/-

অন্যান্য সূত্রের আয় ১,৬৫,০০০/-

মোট আয় ১০,৪৭,৬৪০/-

জনাব অর্নব রহমান ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তার জন্য প্রযোজ্য চাকরি [স্ব-শাসিত (Public Bodies) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ] (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এ উল্লেখিত চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা সহয়ক ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা পেয়েছেন। ফলে উক্ত ভাতাসমূহের জন্য তাকে আয়কর প্রদান করতে হবে না।

জনাব অর্নব রহমানের নিরূপিত মোট আয় ১০,৪৭,৬৪০ টাকার বিপরীতে প্রদেয় করের পরিমাণ হবে নিম্নরুপঃ

প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য

পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ১০% হারে ৪০,০০০/-

অবশিষ্ট ৩,৯৭,৬৪০ টাকা আয়ের উপর ১৫% হারে ৫৯,৬৪৬/-

মোট ৯৯,৬৪৬/-

জনাব করিম প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ভান্ডে ৮,০০০ টাকা, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা বাবদ মাসিক যথাক্রমে ৫০ টাকা এবং ৪০ টাকা চাঁদা দিয়ে থাকেন। তিনি ১,০০,০০০ টাকার তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন এবং জীবন বীমার প্রিমিয়াম বাবদ বাৎসরিক ১৫,০০০ টাকা দিয়েছেন।

বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াত পরিগণনাঃ

(ক) প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদাঃ (৮,০০০×১২ মাস) = ৯৬,০০০/-

(খ) কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিল চাঁদাঃ ১,০৮০/-

(৫০+৪০) ×১২ মাস

(গ) সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ১,০০,০০০/-

(ঘ) জীবন বীমার প্রিমিয়াম প্রদান ১৫,০০০/-

মোট বিনিয়োগ ২,১২,০৮০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ২,১২,০৮০/-
(খ)মোট আয় ১০,৪৭,৬৪০/- টাকার ২৫%২,৬১,৯১০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]২,১২,০৮০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার কর রেয়াতের পরিমাণ হবে ২,১২,০৮০ টাকার ১৫% অর্থাৎ, (২,১২,০৮০×১৫%) = ৩১,৮১২ টাকা।

প্রদেয় করঃ

মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য কর৯৯,৪৬৪/-
বাদঃ কর রেয়াত৩১,৮১২/-
 ৬৭,৮৩৪/-

বাদঃ উৎসে কর্তিত কর

(ক) পেশাগত সেবার বিপরীতে প্রাপ্য সম্মনী ও ফী ৪৫,০০০/- এর ১০%= ৪,৫০০/-

(খ) ব্যাংক সুদ ১০,০০০/- এর ১০% = ১,০০০/-

(গ) লভ্যাংশ ১,৩৫,০০০/- এর ১০% = ১৩,৫০০/-

মোট উৎসে কর্তিত কর = ১৯,০০০/-

নীট প্রদেয় কর = ৪৮,৮৩৪/-

অর্থাৎ করদাতাকে অবশিষ্ট প্রদেয় কর ৪৮,৮৩৪ টাকা রিটার্ন দাখিলের পূর্বে বা সময় পরিশোধ করতে হবে।

২। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তার আয় এবং কর পরিগণনাঃ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনাব হোসেন ২০১৮-২০১৯ কর বছরে নিম্নরূপ বেতন ও ভাতা পেয়েছেনঃ

(ক) মাসিক মূল বেতন = ১৯,৩০০/- টাকা

(খ) ২টি উৎসব বোনাস (১৯,৩০০×২) = ৩৮,৬০০/- টাকা

(গ) চিকিৎসা ভাতা = ২,০০০/- টাকা

(ঘ) আপ্যায়ন ভাতা = ৩০০/- টাকা

(ঙ) বাড়ী ভাড়া ভাতা = ৭,৭২০/- টাকা

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি অফিস হতে একটি গাড়ী বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া জনাব হোসেন গৃহ সম্পত্তি খাতে ৫০,০০০ টাকা, কৃষি খাতে ১০,০০০ টাকা আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে লভ্যাংশ প্রাপ্তি ১,৩৫,০০০ টাকা এবং ব্যাংক সুদ খাতে ১০,০০০ টাকা আয় রয়েছে। লভ্যাংশ ও ব্যাংক সুদের উপর ১০% হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হয়েছে। ৩০/০৬/২০১৮ তারিখে তার নীট সম্পদের পরিমাণ ২,৩০,০০,০০০ টাকা।

জনাব হোসেনর মোট আয় নিম্নরূপভাবে নিরূপণ করতে হবেঃ

(ক) বেতন খাতে আয়ঃ

মূল বেতন (১৯৩০০×১২) =২,৩১,৬০০/-

উৎসব বেনাস (১৯,৩০০×২) = ৩৮,৬০০/-

চিকিৎসা ভাতা (২০০০×১২) = ২৪,০০০/-

বাদঃ মূল বেতনের ১০% (২,৩১,৬০০×১০%) = ২৩১৬০/-

অথবা বার্ষিক ১,২০,০০০/- যেটি কম = ৮৪০/-

আপ্যায়ন ভাতা (৩০০×১২) = ৩,৬০০/-

বাড়ী ভাড়া ভাতা (৭,৭২০×১২) =৯২৬৪০/-

বাদঃ করমুক্ত ভাতাঃ

বার্ষিক ৩,০০,০০০/- বা মূল বেতনের ৫০%

(২,৩১,৬০০×৫০%)= ১,১৫,৮০০/-এ দুটির মধ্যে যেটি কম = ১,১৫,৮০০/-

প্রাপ্ত বাড়ী ভাড়া ভাতা করমুক্ত সীমার অতিরিক্ত না হওয়ায় এখাতে কোন আয় নিরূপিত হবে না। শূন্য

যাতায়াত সুবিধা (মূল বেতনের ৫% হিসেবে ১১,৫৮০/- অথবা ৬০,০০০ এর মধ্যে যেটি বেশি) = ৬০,০০০

বেতন খাতে আয়ঃ ৩, ৩৪,৬৪০/-

(খ) গৃহ-সম্পত্তি আয়ঃ ৫০,০০০/-

(গ) কৃষি আয়ঃ ১০,০০০/-

(ঘ) লভ্যাংশঃ

(অ) আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে লভ্যাংশ প্রাপ্তি ১,৩৫,০০০ টাকা যার মধ্যে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর মুক্ত। ২৫,০০০ টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে। তাই লভ্যাংশ আয় (১,৩৫,০০০-২৫,০০০) = ১,১০,০০০/-

(আ) ব্যাংক সুদ = ১০,০০০/-

অন্যান্য সূত্রের আয় = ১,২০,০০০/-

মোট আয় = ৫,১৪,৬৪০/-

করদাতার করদায়ের পরিমাণ হবেঃ

প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ‘শূন্য’

অবশিষ্ট ২,৬৪,৬৪০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০% হারে ২৬,৪৬৪/-

মোট আয়ের উপর আয়কর ২৬,৪৬৪/-

তিনি ৪০,০০০ টাকার তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন এবং জীবন বীমার প্রিমিয়াম বাবদ বাৎসরিক ৫০০০ টাকা দিয়েছেন।

বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াত পরিগণনাঃ

(ক)সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ৪০,০০০ টাকা

(খ) জীবন বীমার প্রিমিয়াম প্রদান ৫০০০ টাকা

(গ) মোট ৪৫,০০০ হাজার টাকা

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ৪৫,০০০/-
(খ)মোট আয় 5,14,640 টাকার 25% ১,২৮,৬৬০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ) এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]৪৫,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

৪৫,০০০ এর ১৫% অর্থাৎ (৪৫,০০০×১৫%) = ৬৭৫০ টাকা।

মোট আরোপযোগ্য কর ২৬৪৬৪/-

বাদঃ কর রেয়াত ৬৭৫০/-

প্রদেয় কর ১৯৭১৪/- টাকা

সারচার্জের পরিমাণঃ

করদাতার নীট সম্পদের পরিমাণ ২,৩০,০০,০০০/-

যা ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার অধিক হওয়ায় প্রদেয়।

আয়করের ১০% হারে সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।

সারচার্জের পরিমাণ দাঁড়ায় (১৯৭১৪ টাকার ১০% অর্থাৎ ১৯৭১ টাকা। তবে ন্যূনতম সারচার্জের পরিমাণঃ ৩০০০/-

ফলে মোট প্রদেয় করঃ ২২,৭১৪/-

বাদঃ উৎসে কর্তিত কর

ক) ব্যাংক সুদ ১০,০০০/- টাকা এর ১০%১০০০/-
খ) লভ্যাংশ ১,৩৫,০০০/- এর ১০%১৩৫০০/-
 ১৪,৫০০/-

 নীট প্রদেয় করঃ ৮২১৪/-

৩। একজন শিক্ষকের আয় এবং কর পরিগণনাঃ

জনাব মাহমুদুন্নবী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার একজন প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী করদাতা নন। ১ জুলাই ২০১৭ হতে ৩০ জুন ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে তার আয় ছিল নিম্নরূপঃ

বেতন খাতঃ

মাসিক মূল বেতন ৩০,০০০/-

বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫,০০০/-

চিকিৎসা ভাতা ১০০০/-

উৎসব বোনাসঃ দুটি মূল বেতনের সমান।

জনাব মাহমুদুন্নবী প্রাইভেট টিউশনী থেকেও উপার্জন করে থাকেন। তিনি মাসে মোট ০৬ (ছয়) ব্যাচে ছাত্র পড়ান। প্রতি ব্যাচে ছাত্র সংখ্যা ০৬ (ছয়) জন। প্রতি ছাত্র থেকে তিনি সম্মানী গ্রহণ করেন মাসিক ৪০০০ টাকা। তিনি নিজের বাসাতেই ছাত্র পড়ান।

তিনি আয় বছরে ২,০০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে করদাতার নীট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২,৩০,০০,০০০ টাকা।

২০১৮-২০১৯ করবছরে করদাতার মোট আয় ও প্রদেয় করের পরিমাণ নিম্নরূপঃ

বেতন খাতঃ

মাসিক মূল বেতন (৩০,০০০×১২) = ৩,৬০,০০০/-

বাড়ি ভাড়া ভাতা (১৫,০০০×১২) = ১,৮০,০০০/-

বাদঃ করমুক্ত (মূল বেতনের ৫০%) = ১,৮০,০০০/- শূন্য

চিকিৎসা ভাতা (১০০০×১২) = ১২,০০০/-

বাদঃ মূল বেতনের ১০% অথবা বার্ষিক ১,২০,০০০/- যেটি কম ৩৬,০০০/- শূন্য

উৎসব বোনাস (৩০,০০০×২) = ৬০,০০০/-

বেতন খাতে আয় = ৪,২০,০০০/-

অন্যান্য উৎস খাতে আয়ঃ

টিউশনী থেকে প্রাপ্ত আয় (৬ব্যাচ × ৬ জন ×৪০০০×১২ মাস) = ১৭,২৮,০০০/-

মোট আয় = ২১,৪৮,০০০/-

করদায় পরিগণনাঃ

ক) প্রথম ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য

খ) পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০% = ৪০,০০০/-

গ) পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫% = ৭৫,০০০/-

ঘ) পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০% = ১,২০,০০০/-

ঙ) অবশিষ্ট ৩,৪৮,০০০ টাকা মোট আয়ের উপর 25% = ৮৭,০০০/-

প্রদেয় কর = ৩,২২,০০০/-

* প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা হিসেবে করমুক্ত আয় সীমা (২,৫০,০০০ + ৫০,০০০) = ৩,০০,০০০ টাকা।

কর রেয়াতঃ

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ২,০০,০০০/-
(খ)মোট আয়ের ২৫% (২১,৪৮,০০০×২৫%)৫,৩৭,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [ (ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]২,০০,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ২,০০,০০০/- এর ১৫% অর্থাৎ (২,০০,০০০×১৫%) = ৩০,০০০ টাকা

নীট প্রদেয করঃ

ফলে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (৩,২২,০০০-৩০,০০০) = ২,৯২,০০০ টাকা।

করদাতার নীট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা যা সারচার্জ আরোপের লক্ষ্যে নীট সম্পদের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার অধিক হওয়ায় নীট প্রদেয় কর ২,৯২,০০০ টাকার উপর ১০% হারে সারচার্জ বাবদ (২,৯২,০০০×১০%) = ২৯,২০০ টাকা প্রদেয় হবে। অর্থাৎ আয়কর ও সারচার্জ বাবদ করদাতার মোট করদায় হবে (২,৯২,০০০+২৯,২০০) = ৩,২১,২০০ টাকা।

৪। একজন শিল্পীর আয় এবং কর পরিগণনাঃ

সেলিনা মমতাজ একজন কণ্ঠশিল্পী। তার নিজস্ব একটি গানের দল রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি তার দল নিয়ে গান পরিবেশনের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। ১ জুলাই ২০১৭ হতে ৩০ জুন ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে তার আয় ও ব্যয়ের পরিসংখ্যান ছিল এ রকমঃ

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রাপ্তি ছিল ১০,০০,০০০ টাকা।

তার নিজস্ব দলে ৩ জন সহশিল্পী, ৩ জন যন্ত্রশিল্পী, ২ জন তবলচি রয়েছে। তাদেরকে বেতন বাবদ প্রদান করা হয়েছিলঃ

বেতন খরচঃ

৩ জন সহশিল্পী ৩×৬০০০×১২ মাস = ২,১৬,০০০/-

৩ জন যন্ত্রশিল্পী ও অন্যান্য ৩×৫০০০×১২ মাস = ১,৮০,০০০/-

২ জন তবলচি ২×৩০০০×১২ মাস = ৭২,০০০/-

শিল্পীদের ড্রেস ও যাতায়াত বাবদ খরচ ছিল যথাক্রমে ১৫,০০০ টাকা ও ২,০০০ টাকা।

২০১৮-২০১৯ করবছরে সেলিনা মমতাজের মোট আয় ও প্রদেয় আয়কর হবে নিম্নরূপঃ

সংগীত পরিবেশন হতে গ্রস প্রাপ্তি = ১০,০০,০০০/-

বাদঃ ব্যয়সমূহ (যাচাইযোগ্য প্রমাণাদি দাখিল সাপেক্ষে)

১। বেতন বাবদঃ

সহশিল্পী = ২,১৬,০০০/-

তবলচি = ৭২,০০০/-

যন্ত্রশিল্পী ও অন্যান্য = ১,৮০,০০০/-

২। ড্রেস ও যাতায়াত- ১৭,০০০/-

মোট আয় = ৫,১৫,০০০/-

করদায় পরিগণনাঃ

প্রথম ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর = শূন্য

পরবর্তী ২,১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০% হারে = ২১,৫০০/-

মোট প্রদেয় কর = ২১,৫০০/-

৫। একজন চিকিৎসকের আয় এবং কর পরিগণনাঃ

জনাব আব্দুল কাদের খান একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। তিনি ৩০/০৬/২০১৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে হাসপাতাল থেকে নিম্নরূপ বেতন-ভাতা পেয়েছেনঃ

বেতন খাতঃ

মূল বেতন (৫০,০০০×১২) = ৬,০০,০০০/-

বাড়ি ভাড়া ভাতা = ৩,০০,০০০/-

চিকিৎসা ভাতা (২,০০০×১২) = ২৪,০০০/-

উৎসব ভাতা দুটি মূল বেতনের সমপরিমাণ = ১,০০,০০০/-

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে আয় বছরে তিনি মাসে ৫,০০০ টাকা চাঁদা দিয়েছেন। তার নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ চাঁদা জমা দিয়েছেন।

করদাতা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে থাকেন। তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০ জন নতুন রোগী ও ৩০ জন পুরাতন রোগী দেখেন। নতুন রোগীর ফি ৫০০ টাকা ও পুরাতন রোগীর ফি ৩০০ টাকা। তিনি বছরে ৩০০ দিন রোগী দেখেন। করদাতা পেশা খাতের জন্য কোন খাতাপত্র সংরক্ষন করেন না।

তিনি আয় বছরে একটি ব্যাংকের ডিপোজিট পেনশন স্কিমে মাসিক ৬,০০০ টাকা হিসেবে জমা প্রদান করেছেন। তিনি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে ১০,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া তিনি ৫,০০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন।

২০১৮-২০১৯ করবছরে জনাব আব্দুল কাদের এর মোট আয় ও আয়কর পরিগণনা নিচে দেখানো হলোঃ

বেতন আয়ঃ

বার্ষিক মূল বেতন = ৬,০০,০০০/-

বাড়ি ভাড়া ভাতা ৩,০০,০০০/-

বাদঃ বার্ষিক ৩,০০,০০০/- বা মূল বেতনের ৫০% (৬,০০,০০০×৫০%) = ৩,০০,০০০/- এ দুটির মধ্যে যেটি কম = ৩,০০,০০০/- শূন্য

উৎসব ভাতা = ১,০০,০০০/-

চিকিৎসা ভাতা = ২৪,০০০/-

বাদঃ মূল বেতনের ১০% (৬,০০,০০০×১০%) = ৬০,০০০/- অথবা, বার্ষিক ১,২০,০০০/- যেটি কম = ৬০,০০০/- শূন্য

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা (৫০০০×১২ মাস) = ৬০,০০০/-

বেতন খাতে আয় = ৭,৬০,০০০/-

পেশা খাতে আয়ঃ

নতুন রোগী = ১৫,০০,০০০/- (১০জন × ৩০০ দিনে × ৫০০ টাকা)

পুরাতন রোগী = ২৭,০০,০০০/- (৩০ জন× ৩০০ দিনে× ৩০০ টাকা)

মোট প্রাপ্তি = ৪২,০০,০০০/-

বাদঃ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট খরচ (হিসাব সংরক্ষন করেন না বিবেচনায় আনুমানিক ১/৩ অংশ) = ১৪,০০,০০০/-

পেশা খাতে নীট আয় = ২৮,০০,০০০/-

মোট আয় = ৩৫,৬০,০০০/-

করদায় পরিগননাঃ

(ক) প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য

(খ) পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০% হারে ৪০,০০০/-

(গ) পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫% হারে ৭৫,০০০/-

(ঘ) পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০% হারে ১,২০,০০০/-

(ঙ) অবশিষ্ট ১৮,১০,০০০ টাকা আয়ের উপর ২৫% হারে ৪,৫২,৫০০/-

প্রদেয় করঃ ৬,৮৭,৫০০/-

কর রেয়াতঃ

রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণঃ

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিজের ও নিয়োগকর্তার বার্ষিক চাঁদা (৫০০০ × ১২মাস) × ২১,২০,০০০/-
ডিপিএস- এ বার্ষিক জমা (৬,০০০×১২) = ৭২,০০০/-, কিন্তু সর্বোচ্চ অনুমোদনযোগ্য সীমা ৬০,০০০/-৬০,০০০/-
সঞ্চয়পত্র ক্রয়৫,০০,০০০/-
স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ১০,০০,০০০/-
মোট প্রকৃত বিনিয়োগ১৬,৮০,০০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ১৬,৮০,০০০/-
(খ)মোট আয় ৩৫,৬০,০০০/- টাকার ২৫%৮,৯০,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [ (ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]৮,৯০,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার মোট আয় ৩০ লক্ষ টাকার অধিক হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপে পরিগণনা করতে হবে।

(ক) অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২,৫০,০০০ টাকার ১৫% ৩৭,৫০০/-

(খ) অনুমোদনযোগ্য অংকের পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকার ১২% ৬০,০০০/-

(গ) অনুমোদনযোগ্য আংকের অবশিষ্ট (৮,৯০,০০০-৭,৫০,০০০) = ১,৪০,০০০ টাকার ১০% ১৪,০০০/-
কর রেয়াত ১,১১,৫০০/-

ফলে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (৬,৮৭,৫০০-১,১১,৫০০) = ৫,৭৬,০০০ টাকা।

৬। একজন ব্যবসায়ীর আয় এবং কর পরিগণনাঃ

জনাব রশিদ মাহমুদ একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক। ৩০/০৬/২০১৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরের হিসাব বিবরণীতে তিনি আয়ের নিম্নরূপ তথ্য প্রদান করেনঃ

বিক্রয় ১,২০,০০,০০০/-

গ্রস মুনফা ১৮,০০,০০০/-

লাভ-ক্ষতি হিসাবের বিভিন্ন খাতে খরচ দাবী ১০,০০,০০০/-

নীট মুনফা ৮,০০,০০০/-

এ বছরে তিনি ৩০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করেছেন এবং ১,২০,০০০ টাকার সঞ্চায়পত্র ক্রয় করেছেন।

৩০ জুন ২০১৮ তারিখে করদাতার বয়স ছিল ৬৬ বছর ২মাস।

২০১৮-২০১৯ কর বছরে করদাতার ৮,০০,০০০ টাকা মোট আয়ের উপর প্রদেয় করের পরিমাণ নিম্নরূপে পরিগণনা করা হলোঃ

করদায় পরিগণনাঃ

(ক) প্রথম ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য

(খ) পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০% হারে ৪০,০০০/-

(গ) অবশিষ্ট ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫ % হাওে ১৫,০০০/-

মোট আয়ের উপর আয়কর ৫৫,০০০/-

*করদাতার বয়স ৬৫ বছরের উর্ধ্বে বলে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,০০,০০০ টাকা।

কর রেয়াতঃ

বিনিয়োগঃ

সঞ্চায়পত্র ক্রয় ১,২০,০০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ১,২০,০০০/-
(খ)মোট আয় ৮,০০,০০০/- টাকার ২৫%২,০০,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [ (ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]১,২০,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

অনুমোদনযোগ্য অংকের ১৫% অর্থাৎ (১,২০,০০০×১৫%)=১৮,০০০/-

প্রদেয় করঃ

মোট আয়ের উপর আয়করঃ ৫৫,০০০/-

কর রেয়াতঃ ১৮,০০০/-

প্রদেয় করঃ ৩৭,০০০/-

বাদঃ অগ্রিম আয়কর পরিশোধ ৩০,০০০/-

নীট প্রদেয় করঃ রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য ৭,০০০/-



Check Also

পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯