Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Thursday , November 15 2018

বিভিন্ন খাতের আয় নিরুপণ, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯

আয়কর নির্দেশিকা, ২০১৮
আমরা স্বাবলম্বী হবো, সকলে কর দিব
বিভিন্ন খাতের আয় নিরুপণ
সহজ ভাষায় আইন শিক্ষা

71. Tax Guideline-2018-Front Page Menu

আমাদের ই-লার্নিং পোর্টালটি শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক পোর্টাল, অত্র পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনি যদি বিজ্ঞ আইনজীবীদের নিকট থেকে আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত কোন আইনগত সহায়তা / পরামর্শ / প্রেক্টিক্যাল ট্রেনিং নিতে চান তাহলে 01786265921, 01716409127, 01611234520 নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। 

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

১। বেতনাদি ( আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধার ২১ এবং আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিধি ৩৩ অনুযায়ী)

সাধারণভাবে একজন চাকুরিজীবী করদাতার প্রাপ্ত মুল বেতন, উৎসব ভাতা, পরিচারক ভাতা, সম্মানী ভতা, ওভারটাইম ভাতা, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তার প্রদত্ত চাঁদা এবং বিভিন্ন পারকুইজিট (সুবিধা) বেতন খাতের করযোগ্য আয়। বেতনখাতে করযোগ্য আয় নিরুপণের জন্য পৃথক তফসিল রয়েছে। আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধনের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ কর বছরে নতুন রিটার্ন ফরমের সাথে নতুন তফসিল ২৪এ প্রবর্তন করা হয়েছে। উল্লিখিত নতুন রিটার্ন ফরমের ক্রমিক নং-২৪ এ বেতন খাতে করযোগ্য আয় নির্ণয়ের জন্য তফসিল ২৪এ পূরণ পূর্বক মূল রিটার্নের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। তফসিল ২৪এ পূরণের পদ্ধতি নীচে আলোচনা করা হলো-


তফসিল-২৪এ (বেতন আয়ের বিবরণসমূহ)

আয়কর অধ্যাদেশের বিদ্যমান বিধান অনুসারে তফসিল ২৪এ অনুযায়ী বেতন খাতের করযোগ্য/করমুক্ত আয় পরিগণনার (সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্র ব্যতীত) একটি উদাহরণ নিচে প্রদান করা হলোঃ

মূল বেতন
ক) পরিমান৩,৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৩,৬০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

বিশেষ বেতন
ক) পরিমান২৪,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)২৪,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

বকেয়া বেতন (যা পূর্বে করযোগ্য আয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই)
ক) পরিমান৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৬০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

মহার্ঘ ভাতা
ক) পরিমান৭২,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৭২,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

বাড়ী ভাড়া ভাতা (নগদ)
ক) পরিমান২,৪০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত১,৮০,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৬০,০০০/-
মন্তব্যমূল বেতনের ৫০% অথবা মাসিক ২৫,০০০/- এ দুটির মধ্যে যেটি কম সে অংক করমুক্ত।

চিকিৎসা ভাতা (নগদ)
ক) পরিমান৪৮,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত৩৬,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)১২,০০০/-
মন্তব্যমূল বেতনের ১০% অথবা বার্ষিক ১,২০,০০০/- টাকা (প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা) এ দুটির মধ্যে যেটি কম সে অংক করমুক্ত।

হার্ট, কিডনি, চক্ষু, লিভার ও ক্যান্সার সার্জারি খরচের জন্য প্রাপ্ত অংক
ক) পরিমান১,০০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত১,০০,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করমুক্ত তবে শেয়ারহোল্ডার পরিচালকগন এ কর অব্যাহতির সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

যাতায়াত ভাতা (নগদ)
ক) পরিমান৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত৩০,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৩০,০০০/-
মন্তব্যবার্ষিক ৩০,০০০/- টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

উৎসব ভাতা
ক) পরিমান৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৬০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

পরিচারক ভাতা
ক) পরিমান১৮,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)১৮,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

সম্মানী/পুরষ্কার/ফি
ক) পরিমান৫০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৫০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

ওভার টাইম ভাতা
ক) পরিমান৪৮,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৪৮,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

বোনাস/এক্সগ্রেসিয়া
ক) পরিমান৩০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৩০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তার প্রদত্ত চাঁদা
ক) পরিমান৩৬,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৩৬,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে অর্জিত সুদ
ক) পরিমান৩০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত৩০,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)
মন্তব্যমূল বেতনের ১/৩ অংশ পর্যন্ত প্রাপ্ত সুদ (এখানে বেতন বলতে মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতা বুঝাবে) অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হার ১৪.৫০%, এ দুয়ের মধ্যে যেটি কম সে পরিমান অংক করমুক্ত।

যানবাহন সুবিধার জন্য বিবেচিত আয়
ক) পরিমান
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৬০,০০০/-
মন্তব্যযদি করদাতা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়োগকর্তার নিকট থেকে গাড়ী পান তাহলে মূল বেতনের ৫% বা বার্ষিক ৬০,০০০/- টাকা (দুই এর মধ্যে যেটি বেশি) সরাসরি নীট করযোগ্য আয় হবে।

বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রাপ্ত বাসস্থানের জন্য বিবেচিত আয়
ক) পরিমান
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৯০,০০০/-
মন্তব্য

(ক) যদি করদাতা নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বিনা ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত বাসস্থানে বাস করেন তাহলে সাধারণভাবে মূল বেতনের ২৫% করযোগ্য আয় হিসেবে গন্য হবে।

(খ) যদি করদাতা নিয়োগকর্তা থেকে হ্রাসকৃত ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত বাসস্থান প্রাপ্ত হন সে ক্ষেত্রে সাধারণভাবে মূল বেতনের ২৫% হতে প্রকৃত পরিশোধিত ভাড়া বাদ দিয়ে পার্থক্য করযোগ্য আয় হিসেবে গন্য হবে।

অন্যান্য, যদি থাকে (বিবরণ দিন)
ক) পরিমান
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)
মন্তব্যকরদাতা যদি নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বাসস্থানে দারোয়ান, মালি, বাবুর্চি কিংবা অন্য কোন সুবিধা পেয়ে থাকেন তবে প্রাপ্ত সুবিধার সমপরিমাণ আর্থিক মূল্য করযোগ্য আয় হিসেবে দেখাতে হবে।

ছুটি নগদায়ন
ক) পরিমান৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)৬০,০০০/-
মন্তব্যসম্পূর্ণ অংক করযোগ্য

গ্রাচুইটি
ক) পরিমান৩.৫ কোটি
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত২.৫ কোটি
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)১.০০ কোটি
মন্তব্য২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য।

Worker’s Participation Fund
ক) পরিমান৬০,০০০/-
খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত৫০,০০০/-
গ) নীট করযোগ্য (ক-খ)১০,০০০/-
মন্তব্যবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত  Worker’s Participation Fund  থেকে কোন ব্যক্তি কর্তৃক ৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত।

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর বেতনখাতে আয় নিরুপণঃ

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর বেতন-ভাতাদির ক্ষেত্রে আয় গণনার জন্য ইতিপূর্বে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন এস, আর, ও নং ১৯৮-আইন/আয়কর/২০১৫, তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ রহিতক্রমে এস, আর ও নং ২১১-আইন/আয়কর/২০১৭, তারিখঃ ২১ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ জারি করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপন  অনুযায়ী, সরকারি বেতন আদেশভুক্ত একজন কর্মচারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। অবসরকালে প্রদত্ত লাম্প গ্রান্টসহ সরকারি বেতন আদেশে উল্লিখিত অন্যান্য ভাতা ও সুবিধাদি যেমনঃ বাড়ী ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা ইত্যাদি করমুক্ত থাকবে। সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের বেতন খাতে আয় নিরুপণ পর্যায়ে আয়কর আইনের বিধি-৩৩ প্রযোজ্য হবে না।

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারী বলতে নিম্নবর্ণিত কর্মচারী বা ব্যক্তিকে বুঝাবে, যথাঃ

(ক) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত-

(১) চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(২) চাকরি [স্ব-শাসিত (Public Bodies) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমুহ] (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(৩) চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ১ এ উপ-অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(৪) চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(৫) চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(৬) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৬ এর অনুচ্ছেদ ১ এর উপ অনুচ্ছেদ (৪) অনুযায়ী যে সকল কর্মচারীর জন্য উক্ত আদেশ প্রযোজ্য;

(খ) জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এর আলোকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলী (Joint Services Instructions) নম্বর ০১/২০১৬ এর অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী যে সকল ব্যক্তিবর্গের জন্য উক্ত নিদেশাবলী প্রযাজ্য; এবং

(গ) কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন কোন পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরাসরি সরকারি কোষাগার হতে বেতন বা আর্থিক সুবিধা, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন , প্রাপ্ত হন।

সরকারি বেতন আদেশ বলতে নিম্নবর্ণিত আদেশ বা, ক্ষেত্রমত, নির্দেশাবলীকে বুঝাবে, যথাঃ

(১) উপরোক্ত অনুচ্ছেদ (ক) তে উল্লিখিত বেতন স্কেল সংক্রান্ত আদেশ;

(২) উপরোক্ত অনুচ্ছেদ (খ) তে উল্লিখিত বেতন স্কেল সংক্রান্ত নির্দেশাবলী;  এবং

(৩) কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন কোন পদে নিয়োজিত  কর্মচারীর জন্য জারীকৃত বেতন বা আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত আদেশ।


উদাহরণের সাহায্যে সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর আয় এবং কর পরিগণনা নিম্নে দেখানো হল-

উদাহরণ-১

জনাব লিয়াকত চৌধুরী বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত একজন সরকারি কর্মচারী এবং তার জন্য চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ প্রযোজ্য। ফলে বেতন আয়ের ক্ষেত্রে এ, আর, ও নং ২১১-আইন/আয়কর/২০১৭, তারিখঃ ২১ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ এর বিধান প্রযোজ্য হবে।

ধরা যাক, ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত অর্থ বছরে তিনি নিম্নোক্ত হারে বেতন ভাতাদি পেয়েছেনঃ

লিয়াকত চৌধুরী একজন সরকারি কর্মচারী
মাসিক  মূল বেতন৩৫,৫০০/-
মাসিক চিকিৎসা ভাতা৭০০/-
উৎসব ভাতা৭১,০০০/-
বাংলা নববর্ষ ভাতা৭,১০০/-

তিনি সরকারি বাসায় থাকেন, ভবিষ্য তহবিলে তিনি প্রতি মাসে ৭,০০০ টাকা জমা রাখেন। হিসাব রক্ষণ অফিস হতে প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র হতে দেখা যায় যে, ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে ভবিষ্যত তহবিলে অর্জিত সুদের পরিমাণ ছিল ৩৮,৫০০ টাকা। কল্যাণ তহবিলে ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা প্রদান বাবদ প্রতি মাসে বেতন হতে কর্তন ছিল যথাক্রমে ৫০ ও ৪০ টাকা। এছাড়াও তিনি একটি তফসিলি ব্যাংকের ডিপোজিট পেনশন স্কীমে মাসিক ৩,০০০ টাকার কিস্তি জমা করেন।

২০১৮-২০১৯ কর বছরে জনাব লিয়াকত চৌধুরীর মোট আয় এবং করদায় কত হবে তা নিম্নে পরিগণনা করা হলোঃ

বেতন খাতে আয়
মূল বেতন (৩৫,৫০০×১২ মাস) =৪,২৬,০০০/-
উৎসব ভাতা (৩৫,৫০০ × ২)=৭১,০০০/-
চিকিৎসা ভাতা (৭০০ × ১২)=৮,৪০০/- (সমুদয় অংক ব্যয়ের কারণে করমুক্ত)
বাংলা নববর্ষ ভাতাকরমুক্ত
মোট আয় =৪,৯৭,০০০/-

কর দায় পরিগণনা
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত =‘শূন্য’ হার
অবশিষ্ট ২,৪৭,০০০ টাকার উপর ১০% হারে =২৪,৭০০/-
মোট কর দায় =২৪,৭০০/-

বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াত পরিগণনা  
বিনিয়োগের পরিমাণটাকা
ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা (৭,০০০×১২) =৮৪,০০০/-
কল্যাণ তহবিলে চাঁদা (৫০×১২) =৬০০/-
গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা (৪০×১২) =৪৮০/-
ডিপোজিট পেনশন স্কীমের কিস্তি (৩,০০০×১২) =৩৬,০০০/-
মোট বিনিয়োগ =১,২১,০৮০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)
ক) মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ১,২১,০৮০/-
খ) মোট আয় ৪,৯৭,০০০/- টাকার ২৫%১,২৪,২৫০/-
গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এই তিনটির মধ্যে যেটি কম]১,২১,০৮০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ হবে অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ১,২১,০৮০/- এর ১৫% অর্থাৎ (১,২১,০৮০×১৫%)=১৮,১৬২ টাকা। ফলে প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (২৪,৭০০-১৮,১৬২) = ৬,৫৩৮ টাকা।

উদাহরণ-২

ধরা যাক, উদাহরণ-১ এ  বর্ণিত করদাতা জনাব লিয়াকত চৌধুরী একটি সরকারী একাডেমিতে ক্লাস নিয়ে লেকচার প্রদান বাবদ ২০,০০০ টাকা আয় করেছেন। উক্ত লেকচার প্রদান বাবদ প্রাপ্ত আয় যেহেতু জনাব লিয়াকত এর জন্য প্রযোজ্য সরকারি বেতন আদেশভুক্ত নয়, তাই এ আয় করমুক্ত প্রাপ্তি/সুবিধা বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ এ আয় করযোগ্য হবে।


উদাহরণ-৩

উদাহরণ-১ এ উল্লিখিত আয় ও বিনিয়োগ যদি কোন প্রতিবন্ধী কর্মচারীর থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা হবে ৪,০০,০০০ টাকা। ফলে ২০১৮-২০১৯ কর বছরে তার মোট আয় এবং করদায়ের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ

বেতন খাতে আয়
মূল বেতন ( ৩৫,৫০০×১২) =৪,২৬,০০০/-
উৎসব ভাতা ( ৩৫,৫০০×২) =৭১,০০০/-
চিকিৎসা ভাতা ( ৭০০×১২)=৮,৪০০/- (সমূদয় অংক ব্যয়ের কারণে করমুক্ত)
বাংলা নববর্ষ ভাতা =৭১০০/- (করমুক্ত)
মোট আয় =৪,৯৭,০০০/-

কর দায় পরিগণনা
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত শূন্য হার =০/-
অবশিষ্ট ৯৭,০০০ উপর ১০% =৯,৭০০/-
মোট আয়ের উপর আয়কর =৯,৭০০/-
বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াতঃ  পূর্ববতী উদাহরণ অনুসারে = ১৮,১৬২/-
পরিগণিত প্রদেয় কর =-৮,৪৬২/-

তবে করদাতার কর্মস্থল বাংলাদেশ সচিবালয় এর অবস্থান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হওয়ায় তার জন্য সর্বনিম্ন প্রদেয় করের পরিমাণ হবে ৫,০০০ টাকা। করদাতা যদি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বা চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থান করেন তবে তার জন্যও সর্বনিম্ন প্রদেয় করের পরিমাণ হবে ৫,০০০ টাকা। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন প্রদেয় করের পরিমান ৪,০০০/- টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্য এলাকার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন প্রদেয় করের পরিমাণ ৩,০০০ টাকা।

২। নিরাপত্তা জামানতের উপর সুদ (আয়েরকর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২২ অনুযায়ী)

সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ড বা সিকিউরিটিজ (যেমন টিএন্ডটি বন্ড, ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ট্রেজারী বন্ড/বিল, ইত্যাদি) ডিবেঞ্চার হতে অর্জিত সুদ এবং জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টসের সুদ এ খাতের আয় হিসেবে রিটার্নে দেখাতে হবে। সাধারণভাবে, সিকিউরিটিজ বা ডিবেঞ্জার কেনার জন্য ব্যাংক থেকে  ঋণ নেয়া হলে ঋণের সুদ সিকিউরিটিজ হতে অর্জিত সুদ আয় থেকে খরচ হিসেবে বাদ দেয়া যাবে। তবে ৮২সি ধারার আওতাধীন কোন ধরনের সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টসের সুদের ক্ষেত্রে খরচ বাদ যাবে না। ২০১৮-২০১৯ কর বছরে যে কোন ধরনের সঞ্চয়পত্রের অর্জিত সুদের উপর উৎসে কর্তিত কর উক্ত খাতের বিপরীতে চূড়ান্ত করদায়ের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ন্যূনতম করদায় (Minimum Tax) পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে।

৩। গৃহ-সম্পত্তি আয় (আয়কর অথ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২৪ অনুযায়ী)

কোন করদাতা তার বাড়ী আবাসিক বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দিলে, সে আয় রিটার্নের গৃহ সম্পত্তির আয়ের ঘরে দেখাতে হবে। গৃহ-সম্পত্তির করযোগ্য আয় নিরুপনের জন্য পৃথক তফসিল রয়েছে। আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধনের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ কর বছরে নতুন রিটার্ন ফরমের সাথে নতুন তফসিল ২৪বি প্রবর্তন করা হয়েছে। উল্লিখিত নতুন রিটার্ন ফরমের ক্রমিক নং ২৬এ গৃহ সম্পত্তি খাতে করযোগ্য আয় নির্ণয়ের জন্য তফসিল ২৪বি পূরণপূর্বক মূল রিটার্নের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। এই তফসিল পূরণের নিয়ম নীচে দেয়া হলঃ

তফসিল-২৪বি (গৃহ সম্পত্তির আয়ের বিবরণীসমূহ)

০৩গৃহ-সম্পত্তির বিবরণ
০৩কগৃহ-সম্পত্তির ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে০৩খমোট আয়তন: বাড়ীর মোট আয়তন (Plinth Area),  কত তলা, ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।
০৩গকরদাতার অংশঃ করদাতা যদি অংশীদারিত্বের শতকরা পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

গৃহ-সম্পত্তির আয়টাকার পরিমাণ
০৪বার্ষিক আয়ঃ গৃহ-সম্পত্তি ভাড়া দেয়া হলে ১২ মাসের ভাড়া দেখাতে হবে। যদি এক বা একাধিক মাস বাড়ী খালি থাকে সেক্ষেত্রে ও ১২ মাসের বার্ষিক ভাড়া মূল্য দেখাতে হবে। তবে খালি মাসের ভাড়া নীচের আর একটি ঘরে খরচ হিসেবে দাবী করা যাবে।
০৫অনুমোদিত খরচ হিসেবে বিয়োজনসমূহ (ক্রমিক ০৫ক হতে ০৫ছ এর সমষ্টি)
০৫ক

মেরামত, আদায়, ইত্যাদিঃ

* আবাসিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া হলে ভাড়ার উপর ২৫%; অথবা

* বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া হলে ভাড়ার উপর ৩০%।

এ খরচের জন্য কোন প্রমাণ দাখিলের প্রয়োজন নেই

০৫খপৌর কর অথবা স্থানীয় কর
০৫গভূমি রাজস্ব
০৫ঘ

ঋণের উপর সুদ/বন্ধকি/মূলধনী চার্জঃ

সংশ্লিষ্ট গৃহ-সম্পত্তি নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য ঋণ গ্রহণ করা হলে উক্ত ঋণের সুদ

০৫ঙবীমা কিস্তিঃ সংশ্লিষ্ট গৃহ-সম্পত্তি বীমা করা হলে
০৫চগৃহ-সম্পত্তি খালি থাকার কারণে দাবিকৃত রেয়াত
০৫ছঅন্যান্য, যদি থাকে
০৬গৃহ-সম্পত্তির নীট আয় (০৪-০৫)
০৭করদাতা আংশিক মালিক হলে

করদাতার একাধিক গৃহ-সম্পত্তি হতে আয় থাকলে প্রতিটি গৃহ সম্পত্তির জন্য একই তফসিলে পৃথকভাবে ক্রমিক নং-০৩ হতে ০৭ পর্যন্ত তথ্য আলাদাভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতঃপর নিচের ছকের মাধ্যমে সকল গৃহ-সম্পত্তি আয়ের সমষ্টি নির্ণয় করতে হবেঃ

০৮সকল গৃহ সম্পত্তির আয়ের সমষ্টি (১+২+৩+—) (প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজ ব্যবহার করতে হবে)টাকা
(গৃহ সম্পত্তির ১ এর আয়)টাকা
(গৃহ সম্পত্তির ২ এর আয়)টাকা
(গৃহ সম্পত্তির ৩ এর আয়)টাকা

নামস্বাক্ষর ও তারিখ

সর্বশেষে করদাতা তার নাম উল্লেখপূর্বক স্বাক্ষর করবেন। করদাতার গৃহ-সম্পত্তি খাতে আয় না থাকলে মূল রিটার্নের সাথে তফসিল ২৪বি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই।


গৃহ-সম্পত্তি খাতে আয় নিরূপণ এবং কর পরিঘণনা নিম্নে উদাহরণের সাহয্যে দেখানো হলঃ

উদাহরণ-৪

ধরা যাক, জনাব হাসান মাহমুদের একটি চার তলা আবাসিক বাড়ী বয়েছে। ঐ বাড়ীর নীচতলায় তিনি সপরিবারে বসবাস করেন। বাকী তিনটি তলার প্রতিটি আবাসিক ব্যবহারের জন্য মাসিক ভাড়া ১৫,০০০ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। এ সংশ্লিষ্ট আয় বছরে পৌরকর বাবদ ১৬,০০০ টাকা, ভুমির খাজনা বাবদ ৫০০ টাকা এবং গৃহ নির্মাণ ঋণের ব্যাংক সুদ বাবদ ২০,০০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। জনাব হাসানের গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের হিসাব হবে নিম্নরূপঃ

মাসিক ভাড়া ১৫,০০০ × ৬ টি  তলা × ১২ মাস =৫,৪০,০০০/-
বাদঃ অনুমোদনযোগ্য খরচ
১। মেরামত ব্যয় (ভাড়ার ২৫%) =১,৩৫,০০০/-
২। পৌর কর (১৬,০০০×৩/৪) =১২,০০০/-
৩। ভুমি রাজস্ব (৫০০×৩/৪) =৩৭৫/-
৪। গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদ (২০,০০০×৩/৪)=১৫,০০০/-
* স্বনিবাস ১/৪ অংশ, ভাড়া ৩/৪ অংশ =১,৬২,৩৭৫/-
গৃহ-সম্পত্তি থেকে নীট আয়=৩,৭৭,৬২৫/-

জনাব হাসানের নিরূপিত মোট আয় ৩,৭৭,৬২৫ টাকার বিপরীতে ধার্য্যকৃত করের পরিমাণ হবে-

মোট আয়কর হারকরের পরিমাণ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্যশূন্য
অবশিষ্ট ১,২৭,৬২৫ টাকা আয়ের উপর-১০%১২,৭৬৩/-
মোট১২,৭৬৩/-

অর্থাৎ করদাতাকে প্রদয় কর ১২,৭৬৩ টাকা রিটার্ন দাখিলের সময় বা পূর্বে পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত গৃহ-সম্পত্তি ভাড়ার ক্ষেত্রে মেরামত ব্যয় হবে ৩০%। এস, আর , ও নং ২১৬-আইন/ আয়কর/২০১৪, তারিখঃ ১৮ আগস্ট, ২০১৪ এর মাধ্যমে বিধি ৮ এ সংযোজন করে। আয়কর অধ্যাদেশে হিসাব রক্ষণের পদ্ধতি বিষয়ক ধারা-৩৫ সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে এক বা একাধিক ভাড়টিয়ার নিকট থেকে বাড়ী/ভাড়া বাবদ মাসিক সর্বমোট ২৫ হাজার টাকার বেশী প্রাপ্ত হলে বাড়ীর মালিককে  (ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানি বা অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠন) কর্তৃক এ বিধান পপিালন করা না হলে গৃহ সম্পত্তি বাবদ অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের ৫০% অথবা নুন্যতম ৫,০০০ টাকা ( যেটি বেশি ) হারে জরিমানা আরোপযোগ্য হবে। কোন করদাতার ব্যবসা বা পেশা আয় থাকলে তাকে ব্যবসা / পেশা সংশ্লিষ্ট বাড়ী, অফিস বা দোকান বাড়া বাবদ প্রদেয় অর্থ অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোদ করতে হবে। অন্যথায়, প্রদত্ত ভাড়া তার ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

৪। কৃষি আয়  ( আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২৬ অনুযায়ী)

কৃষি খাতে আয়ের জন্য হিসাবের খাতাপত্র রাখা না হলে নীচের উদাহরণ অনুযায়ী কৃষি আয় হিসাব করতে হবে।

উদাহরণ-৫

ধরা যাক, জনাব রফিকের কৃষি জমির পরিমাণ ২ একর। একর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ৪৫ মণ। প্রতি মণ ধানের বাজারমুল্য ৮০০ টাকা হলে নীট করযোগ্য কৃষি আয়ের পরিমাণ হবেঃ

কৃষি আয়
২ একর × ৪৫ মণ × বাজার মূল্য ৮০০ টাকা =৭২,০০০ টাকা
বাদঃ উৎপাদন ব্যয় ৬০% =৪৩,২০০ টাকা
নীট কৃষি আয় =২৮,৮০০ টাকা

কোন করদাতার আয়ের উৎস যদি শুধুমাত্র কৃষি খাত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে কৃষি খাতের আয় ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ যদি কোন করদাতার কৃষি খাতের আয় ব্যতীত আর কোনো খাতে আয় না থাকে তা হলে তার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা হবে-

(ক) ৬৫ বছরের নীচে পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রেঃ (২,৫০,০০০ + ২,০০,০০০) = ৪,৫০,০০০ টাকা।

(খ) মহিলা করদাতা বা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব  বয়সের পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রেঃ (৩,০০,০০০+২,০০,০০০)=৫,০০,০০ টাকা।

(গ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রেঃ (৪,০০,০০০ + ২,০০,০০০) = ৬,০০,০০০ টাকা।

(ঘ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার ক্ষেত্রেঃ (৪,২৫,০০০ + ২,০০,০০০) = ৬,২৫,০০০ টাকা।


৫। ব্যবসা বা পেশার আয় (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২৮ অনুযায়ী)

ব্যক্তি করদাতার ব্যবসা বা পেশা খাতে সহজে আয় নিরূপণের জন্য ২০১৬-১৭ কর বছরে প্রবর্তিত নতুন রিটার্ন ফরমে তফসিল ২৪সি প্রবর্তন করা হয়েছে। উল্লিখিত নতুন আয়কর ‍রিটার্ন ফরম ব্যবহারকারীগণ রিটার্নের ২৮ ক্রমিকে ব্যবসা বা পেশা খাতে করযোগ্য আয় থাকলে তফসিল ২৪সি পূরণপূর্বক মূল রিটার্নের সাথে সংযুক্ত করবেন।

তফসিল ২৪সি এর ক্রমিক  নং-০৩ এ ব্যবসা বা পেশার ধরণ (যেমনঃ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে গ্রোসারী ব্যবসা, কমিশন ব্যবসা, জুয়েলারী ব্যবসা ইত্যাদি এবং পেশার ক্ষেত্রে চিকিৎসা, আইন, কনসালটেন্সি ইত্যাদি) উল্লেখ করতে হবে।

ক্রমিক নং-০৪ এ ব্যবসা বা পেশার নাম (ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী) উল্লেখ করতে হবে।

ক্রমিক নং-০৫ এ ব্যবসা বা পেশার ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

ক্রমিক নং-০৬ হতে ০৯ এ ব্যবসা বা পেশার আয়ের বিবরণ (লাভ ও ক্ষতি হিসাব) উল্লেখ করতে হবে। ব্যবসা বা পেশার গ্রস প্রাপ্তি বা বিক্রয় হতে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সকল খরচ বাদ দিয়ে নীট আয় নির্ণয় করতে হবে। উল্লেখ্য, করদাতার ব্যক্তিগত খরচ বা ব্যবসা বহির্ভূত খরচ গ্রস প্রাপ্তি বা বিক্রয় হতে বাদ দেয়া যাবে না। তাছাড়া ব্যবসার মূলধনী প্রকৃতির খরচও নীট আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে খরচ হিসেবে বাদ দেয়া যাবে না।

ক্রমিক নং-১০ হতে ২০ এ ব্যবসা বা পেশার  স্থিতিপত্র বা আয় ব্যয়ের হিসাব বিবরণীর তথ্য প্রদান করতে হবে।

করদাতার ব্যবসা বা পেশা খাতে আায় না থাকলে মূল রিটার্নের সাথে তফসিল ২৪ সি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই।

ব্যবসা বা পেশা খাতে আয় নিরুপন  এবং কর পরিগণনা নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে দেখানো হলোঃ

উদাহরণ-৬

ধরা যাক জনাব সায়েম আহমেদ স্টেশনারী দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসায় নিয়োজিত। ০১/০৭/২০১৬ তারিখ হতে ৩০/০৬/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত তাঁর মোট বিক্রয়ের পরিমাণ ৩০,০০,০০০ টাকা। বিক্রিত মালামালের ক্রয়মূল্য ২৪,০০,০০০ টাকা, কর্মচারীর বেতন ৬০,০০০ টাকা, ইলেকট্রিক বিল, দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফিস ও পরিবহন খরচ এর সমষ্টি ১,০০,০০০ টাকা। আয় বছরের শুরুতে তিনি ফার্নিচার ক্রয় বাবদ ব্যয় করেছেন ৪০,০০০ টাকা।

জনাব সায়েম আহমেদ এর ব্যবসা খাতে নীট আয় পরিগণনা করদায় হবে নিম্নরূপঃ

মোট বিক্রয়ের পরিমাণ =৩০,০০,০০০/-
বাদঃ বিক্রিত মালামালের ক্রয়মূল্য =২৪,০০,০০০/-
গ্রস মুনাফা =৬,০০,০০০/-
বাদঃ অন্যান্য খরচ
কর্মচারীর বেতন =৬০,০০০/-
ইলেকট্রিক বিল, দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি ও পরিবহন খরচ =১,০০,০০০/-
ফার্নিচার ক্রয় বাবদ ব্যয় ৪০,০০০/- মূলধনী জাতীয় খরচ বিধায় এ খরচ আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বাদ দেয়া যাবে নাশূণ্য
মোট খরচ =১,৬০,০০০/-
ব্যবসা খাতে অবচয়-পূর্ব আয় =৪,০০,০০০/-
বাদঃ অবচয় (depreciation)
ব্যবসায় ব্যবহৃত হবার কারণে ফার্নিচার মূল্য ৪০,০০০ টাকার উপর তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী ১০% হারে ৪,০০০ টাকা অবচয় ভাতা প্রাপ্য হবেন।৪,০০০/-
ব্যবসা খাতে নীট আয় =৪,৩৬,০০০/-
করদাতা নিরূপিত মোট আয় ৪,৩৬,০০০/- টাকার বিপরীতে করদায়ের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয় এর উপর = শূণ্য
অবশিষ্ট ১,৮৬,০০০ টাকা আয়ের উপর ১০% = ১৮,৬০০/-
মোট =১৮,৬০০/-


৬। মূলধনী মুনাফা (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৩১ অনুযায়ী)

কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করে মুনাফা হলে তা রিটার্নে মূলধনী আয় হিসেবে দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির মধ্যে জমি, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কমার্শিয়াল স্পেস, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ব্যবহার্য গাড়ি, কম্পিউটার, আসবাবপত্র অলংঙ্কার ইত্যাদি মূলধনী সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে না। বিক্রিত জমি, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, কমার্শিয়াল স্পেস ইত্যাদি রেজিস্ট্রেশনের সময় যে কর পরিশোধ করা হয় তা মূলধনী মুনাফার বিপরীতে চূড়ান্ত করদায়ের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ন্যূনতম করদায় (minimum tax) পরিশোধ বলে গণ্য হবে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রয় বা হস্তান্তর হতে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, শেয়ার ডিলার/ব্রোকার কোম্পানি এর স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টর এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার ডিরেক্টরদের আয় করযোগ্য। এছাড়া আয় বছরের যে কোন সময়ে কোন করদাতার কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০% অধিক শেয়ার থাকলে ওই কোম্পানির শেয়ার বিক্রি হতে অর্জিত আয়ও করযোগ্য হবে।

৭। অন্যান্য উৎস হতে আয় (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৩৩ অনুযায়ী)

বেতন নিরাপত্তা জামানতের উপর সুদ, গৃহ সম্পত্তির আয়, কৃষি আয়, ব্যবসা বা পেশার আয়, মূলধনী মুনাফা এসকল আয়ের খাত ছাড়া অন্য যাবতীয় আয় অন্যান্য সূত্রের আয়। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার উপর সুদ, নগদ লভ্যাংশ, লটারি, যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে আয়, বক্তৃতা বা লেখার সম্মানী ইত্যাদি অন্যান্য সূত্রের আয়ের কয়েকটি উদাহরণ। অন্যান্য সূত্রের আয়ভুক্ত কোন উৎস হতে উৎসে কর কর্তন/আদায় করা হয়ে থাকলে করদাতা মোট (gross) প্রাপ্তি আয় হিসেবে প্রদর্শন করবেন, নীট (net) প্রাপিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতা যদি বক্তৃতা দিয়ে ৯০,০০০ টাকার একটি চেক পান (১০,০০০ টাকা উৎস কর কেটে রাখার পর), তাহলে বক্তৃতা বাবদ তার অন্যান্য সূত্রের আয় হবে (৯০,০০০ + ১০,০০০) = ১,০০,০০০ টাকা। উৎসে কেটে রাখা আয়কর করদাতার জন্য অগ্রিম কর পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে যা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন/দাবি করতে হবে। এরূপ অগ্রিম কর পরিশোধ মোট আয়ের উপর নিরূপিত করদায়ের বিপরীতে ক্রেডিট পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি করদাতার আয়ের সকল উৎসের জন্য নিরূপিত মোট আয়ের  উপর করদায়ের পরিমাণ ৫৫,০০০ টাকা হয় তাহলে করদাতাকে ১০,০০০ টাকা বাদে অবশিষ্ট ৫৫,০০০ -১০,০০০ = ৪৫,০০০ টাকায আয়কর পরিশোধ করতে হবে।


8। ফার্ম বা ব্যক্তি সংঘের আয়ের অংশ

করদাতা কোন অংশীদারী ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তি-সংঘের সদস্য হলে ফার্ম বা ব্যক্তি-সংঘ থেকে পাওয়া তার আয়ের অংশ মোট আয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে আয়ের এ অংশের জন্য গড় হারে আয়কর রেয়াত পাবেন। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো।

উদাহরণ-৭

ধরা যাক জনাব ফয়সাল একটি ফার্মের ১/৩ অশের অংশীদার। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে ঐ ফার্ম ২,৮৫,০০০ টাকা মুনাফা করেছে। ঐ অংশীদারি ফার্মে তার মুনাফার হিস্যা ৯৫,০০০/- টাকা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আয় বছরে জনাব ফয়সালের গৃহ সম্পত্তির নীট আয় ছিল ৩,২০,০০০ টাকা। ২০১৮-১৯ কর বছরে জনাব ফয়সালের মোট আয় হবে (৩,২০,০০০ + ৯৫,০০০) = ৪,১৫,০০০ টাকা। মোট আয়ের উপর আয়করের পরিমাণ নিম্নরূপঃ

মোট আয়ের উপর আয়করের পরিমাণ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত =‘শূন্য’ হার
অবশিষ্ট ১,৬৫,০০০ টাকার উপর ১০% =১৬,৫০০/-
মোটা এর উপর আয়কর =১৬,৫০০/-

ফার্মের অংশীদারী আয়ের জন্য করদাতার যে কর রেয়াত (ফার্মের করারোপিত আয়ের আনুপাতিক অংক) পাবেন এবং রেয়াত পাওয়ার পরে তাকে যে পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হবে তা নিম্নরূপঃ

(মোট প্রদেয় কর × ফার্মের অংশীদারী আয়) ÷ মোট আয়(১৬,৫০০ × ৯৫,০০০) ÷ ৪,১৫,০০০

= ৩,৭৭৭ টাকা।

করদাতার নীট প্রদেয় করের পরিমাণঃ (১৬,৫০০ – ৩,৭৭৭) =১২,৭২৩/-

৯। স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের আয় (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৪৩(৪) ধারা অনুযায়ী)

করদাতার স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের নামের যদি পৃথকভাবে আয়কর নথি না থাকে তাহলে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৪৩(৪) ধারায় বর্ণনা অনুযায়ী তাদের আয় করদাতার আয়ের সাথে একত্রে প্রদর্শন করতে হবে।



Check Also

পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯