তামাদি আইন, ১৯০৮
(১৯০৮ সালের ৯নং আইন)
দায়িত্ব অব্যাহতি (Disclaimer): এটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও প্রশিক্ষণমূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে প্রদত্ত সকল তথ্য, দৃষ্টান্ত ও উপাত্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের পেশাগত পরামর্শের বিকল্প নয়। নির্দিষ্ট কোন আইনি বিষয়ের জন্য সঠিক পরামর্শ নিতে অভিজ্ঞ ও তালিকাভুক্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করার অনুরোধ রইল।
ধারার ইংরেজী ভার্সনঃ
Section 3. Dismissal of suits, etc., instituted, etc., after period of limitation:
Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence.
Explanation: A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.
Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence.
Explanation: A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.
ধারার বাংলা ভার্সনঃ
ধারা ৩। তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর মোকদ্দমা, ইত্যাদি, দায়ের হইলে উহা খারিজঃ
ধারা ৪ হইতে ২৫ (উভয়সহ) এ অন্তর্ভুক্ত বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রথম তফসিল দ্বারা উহার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর দায়েরকৃত প্রত্যেক মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন খারিজ করা হইবে, যদিও তামাদিকে কোনো প্রতিরক্ষা হিসাবে উত্থাপন করা হয় নাই।
ব্যাখ্যাঃ
সাধারণ ক্ষেত্রে, কোনো মোকদ্দমা দায়ের করা হয় যখন আরজি যথাযথ কর্মকর্তার নিকট পেশ করা হয়; একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যখন একজন অক্ষম ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা দায়েরের অনুমতি প্রদানের জন্য তাহার আবেদন করা হয়; এবং আদালত কর্তৃক বিলুপ্ত (wound up) হইতেছে এমন কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে, যখন দাবিদার সর্বপ্রথম তাহার দাবি সরকারি অবসায়ক (official liquidator) এর নিকট প্রেরণ করে।
ধারা ৪ হইতে ২৫ (উভয়সহ) এ অন্তর্ভুক্ত বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রথম তফসিল দ্বারা উহার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর দায়েরকৃত প্রত্যেক মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন খারিজ করা হইবে, যদিও তামাদিকে কোনো প্রতিরক্ষা হিসাবে উত্থাপন করা হয় নাই।
ব্যাখ্যাঃ
সাধারণ ক্ষেত্রে, কোনো মোকদ্দমা দায়ের করা হয় যখন আরজি যথাযথ কর্মকর্তার নিকট পেশ করা হয়; একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যখন একজন অক্ষম ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা দায়েরের অনুমতি প্রদানের জন্য তাহার আবেদন করা হয়; এবং আদালত কর্তৃক বিলুপ্ত (wound up) হইতেছে এমন কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে, যখন দাবিদার সর্বপ্রথম তাহার দাবি সরকারি অবসায়ক (official liquidator) এর নিকট প্রেরণ করে।
বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা
এই ধারাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা এই আইনের মূল ভিত্তি স্থাপন করে। এর মূলনীতি হলো, কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আদালতে যেতে হবে।ধারাটির মূল বিষয়বস্তুঃ
সহজ কথায়, এই ধারাটি বলে যে, যদি কোনো ব্যক্তি একটি মোকদ্দমা (suit), আপিল (appeal), অথবা আবেদন (application) দায়ের করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর তা আদালতে পেশ করে, তাহলে আদালত সেই মোকদ্দমাটি খারিজ (dismiss) করে দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালত এই খারিজ করার কাজটি করবে, এমনকি যদি বিবাদী পক্ষ তামাদিকে (limitation) তার প্রতিরক্ষা হিসেবে উল্লেখ নাও করে থাকে। এটি আদালতের জন্য একটি বাধ্যতামূলক বিধান।
“ধারা ৪ থেকে ২৫ (উভয়সহ) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে” এই বাক্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। এর মানে হলো, ধারা ৩-এর নিয়মটি কঠোর হলেও, এটি তামাদি আইনের অন্যান্য ধারাগুলোর (যেমনঃ ধারা ৪ থেকে ২৫) দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই ধারাগুলো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তামাদির সময়সীমা বাড়ানোর বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আদালত বন্ধ থাকে (ধারা ৪), তাহলে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
ব্যাখ্যা (Explanation):
ব্যাখ্যা অংশটি কখন একটি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে, তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। এটি তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করেঃ
সাধারণ মোকদ্দমাঃ সাধারণত, যখন একজন বাদী তার আরজি (plaint) বা অভিযোগপত্র আদালতের যথাযথ কর্মকর্তার কাছে পেশ করে, তখন মোকদ্দমা দায়ের হয়েছে বলে ধরা হয়।
অক্ষম ব্যক্তির মোকদ্দমা (Pauper suit): একজন দরিদ্র বা অক্ষম ব্যক্তি যখন বিনা খরচে মোকদ্দমা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে, তখন থেকেই তার মোকদ্দমাটি দায়ের হয়েছে বলে ধরা হয়। এটি আইনি প্রক্রিয়ায় দরিদ্রদের সুবিধা দেয়, কারণ তাদের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে সময় লাগতে পারে।
কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবিঃ যদি কোনো কোম্পানি আদালতের মাধ্যমে বিলুপ্ত (wound up) হয়, তাহলে কোনো পাওনাদার তার দাবি যখন প্রথমবারের মতো সরকারি অবসায়ক (official liquidator) এর কাছে পাঠায়, তখন থেকেই সেই দাবিটি দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।
কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই ধারাটি আইনের একটি মূল ভিত্তি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রতিষ্ঠা করে, আইন অলস ব্যক্তিকে সাহায্য করে না (Law helps the diligent and not the indolent)। এর উদ্দেশ্য হলোঃ
বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তিঃ এটি মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করে এবং পক্ষগণকে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।
বিবাদীর সুরক্ষাঃ এটি বিবাদীকে অনন্তকাল ধরে একটি মোকদ্দমার হুমকির মধ্যে থাকা থেকে রক্ষা করে।
প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতাঃ সময়ের সাথে সাথে প্রমাণ ও সাক্ষ্য দুর্বল হয়ে যায়। তামাদি আইন নিশ্চিত করে যে বিচারিক প্রক্রিয়াতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ব্যবহার করা হয়।
সংক্ষেপে, ধারা ৩ হলো তামাদি আইনের একটি মূলস্তম্ভ যা আইনি কার্যক্রমে সময়সীমার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে। এটি বিচারপ্রার্থীদের তাদের অধিকার রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে এবং বিচার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বজায় রাখে। এই ধারাটি তামাদি আইনের মূল দর্শন এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেয়।