সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
(১৮৭৭ সালের ১নং আইন)
দায়িত্ব অব্যাহতি (Disclaimer): এটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও প্রশিক্ষণমূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে প্রদত্ত সকল তথ্য, দৃষ্টান্ত ও উপাত্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের পেশাগত পরামর্শের বিকল্প নয়। নির্দিষ্ট কোন আইনি বিষয়ের জন্য সঠিক পরামর্শ নিতে অভিজ্ঞ ও তালিকাভুক্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করার অনুরোধ রইল।
ধারার ইংরেজী ভার্সনঃ
Section 6. Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
ধারার বাংলা ভার্সনঃ
ধারা ৬। প্রতিরোধমূলক প্রতিকারঃ
ধারা ৫ এর দফা (গ) এর অধীনে প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলা হয়।
ধারা ৫ এর দফা (গ) এর অধীনে প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলা হয়।
বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা
এই ধারাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি কেবল প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (preventive relief) এর সংজ্ঞা প্রদান করে এবং এটিকে আইনের অন্যান্য প্রতিকার থেকে পৃথক করে।ধারাটির মূল বিষয়বস্তুঃ
এই ধারাটি সরাসরি ধারা ৫ এর দফা (গ) এর সাথে যুক্ত। ধারা ৫ এ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের বিভিন্ন উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। ধারা ৫(গ) অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেওয়া হয় “কোনো পক্ষকে সেই কাজ করা হইতে বিরত রাখিয়া যাহা সে না করিবার জন্য বাধ্য”। ধারা ৬ এই ধরনের প্রতিকারকে একটি নির্দিষ্ট নাম দেয় যা “প্রতিরোধমূলক প্রতিকার” নামে পরিচিত।
সহজ ভাষায়, যখন আদালত কোনো ব্যক্তিকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দেয়, তখন সেই প্রতিকারকে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলা হয়। এই ধরনের প্রতিকারের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো অন্যায় বা ক্ষতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা, বা ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা রোধ করা।
প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের উদাহরণঃ
প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণ হলো নিষেধাজ্ঞা (injunction)। একটি নিষেধাজ্ঞা হলো আদালতের এমন একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বা করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ করে। যেমনঃ যদি কোনো ব্যক্তি আপনার জমিতে বেআইনিভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করে, তাহলে আপনি আদালতের কাছে সেই কাজ বন্ধ করার জন্য একটি নিষেধাজ্ঞা চাইতে পারেন। আদালত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সেটি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।
যদি একজন ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে এমন কাজ করতে যাচ্ছে যা চুক্তিতে নিষিদ্ধ, যেমনঃ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য কোনো কোম্পানির জন্য কাজ করা, তাহলে আদালত তাকে সেই কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, আদালত কোনো পক্ষকে অন্যের মেধাস্বত্ব ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?
যদিও এই ধারাটি খুব সংক্ষিপ্ত, এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের একটি কেন্দ্রীয় ধারণাকে সংজ্ঞায়িত করে। এটি আইনের সেই অংশকে চিহ্নিত করে যা সক্রিয়ভাবে অন্যায় প্রতিরোধে কাজ করে, শুধুমাত্র অন্যায়ের পরে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আইনি প্রতিকারকে একটি সক্রিয় এবং পূর্বনির্ধারিত হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
সংক্ষেপে, ধারা ৬ একটি বিশেষ ধরনের আইনি প্রতিকারকে সংজ্ঞায়িত করে যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্ষতি বা অন্যায়কে আটকানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে বিচার ব্যবস্থা কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক নয়, বরং প্রতিরোধমূলকও হতে পারে। এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।