Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Thursday , November 15 2018

করদায় পরিগণনা, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯

আয়কর নির্দেশিকা, ২০১৮
আমরা স্বাবলম্বী হবো, সকলে কর দিব
করদায় পরিগণনা
সহজ ভাষায় আইন শিক্ষা

71. Tax Guideline-2018-Front Page Menu

আমাদের ই-লার্নিং পোর্টালটি শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক পোর্টাল, অত্র পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনি যদি বিজ্ঞ আইনজীবীদের নিকট থেকে আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত কোন আইনগত সহায়তা / পরামর্শ / প্রেক্টিক্যাল ট্রেনিং নিতে চান তাহলে 01786265921, 01716409127, 01611234520 নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। 

<<< পূর্ববর্তী পরবর্তী >>>

মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়কর

সাধারণভাবে, মোট আয়ের করহারের তফসিল অনুযায়ী করহার প্রয়োগ করে একজন করদাতার মোটা আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ ও ২০১৯ কর বছরে একজন করদাতার মোট আয়ের পরিমাণ ৫০,০০,০০০ টাকা হলে তার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরুপঃ

মোট আয়কর হারকরের পরিমাণ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্যশূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর১০%৪০,০০০/-
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর১৫%৭৫,০০০/-
পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর২০%১,২০,০০০/-
পরবর্তী ৩০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর২৫%৭,৫০,০০০/-
অবশিষ্ট ২,৫০,০০০ এর উপর৩০%৭৫,০০০/-
৫০,০০,০০০ টাকার উপর মোট আয়করের পরিমাণঃ১০,৬০,০০০/-

করদাতা যদি মহিলা করদাতা হন অথবা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা হন তাহলে মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরুপঃ

মোট আয়কর হারকরের পরিমাণ
প্রথম ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্যশূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর১০%৪০,০০০/-
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর১৫%৭৫,০০০/-
পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর২০%১,২০,০০০/-
পরবর্তী ৩০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর২৫%৭,৫০,০০০/-
অবশিষ্ট ২,০০,০০০ এর উপর৩০%৬০,০০০/-
৫০,০০,০০০ টাকার উপর মোট আয়করের পরিমাণঃ১০,৪৫,০০০/-

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪,০০,০০০ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা হবে ৪,২৫,০০০ টাকা। ফলে এসব করদাতার ক্ষেত্রে মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ কিছুটা কম হবে। প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য রয়েছে এমন পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক এর ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য ৫০,০০০ টাকা বেশি হবে। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হলে যে কোন একজন এ সুবিধা পাবেন। করদাতা কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক হলে মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়কর কিভাবে নিরুপিত হবে তার উদাহরণ নিম্নে দেয়া হলঃ

উদাহারন-৮

ধরা যাক, জনাব সাব্বির চৌধুরী এবং তার স্ত্রী অর্পা চৌধুরী দু’জনেই করদাতা এবং তাদের দুইজন সন্তান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংজ্ঞা অনুযায়ী বিবেচিত একজন প্রতিবন্ধী। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে জনাব সাব্বির চৌধুরীর মোট আয় ৫,০০,০০০ টাকা এবং অর্পা চৌধুরীর মোট আয় ৫,০০,০০০ টাকা। যদি জনাব সাব্বির চৌধুরী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা হিসেবে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ৫০,০০০ টাকা অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা গ্রহণ করেন তাহলে তার মোট আয়ের উপর ২০১৮-২০১৯ কর বছরে আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ

মোট আয়৫,০০,০০০/-
বাদঃ করমুক্ত সীমা (২,৫০,০০০ + ৫০,০০০ + ৫০,০০০)৩,৫০,০০০/-
অবশিষ্ট১,৫০,০০০/-
মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর (১,৫০,০০০ × ১০%)১৫,০০০/-

আর যদি অর্পা চৌধুরী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা হিসাবে ৫০,০০০ টাকার অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা গ্রহণ করেন তাহলে তার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ

মোট আয়৫,০০,০০০/-
বাদঃ করমুক্ত সীমা (৩,০০,০০০ + ৫০,০০০ + ৫০,০০০)৪,০০,০০০/-
অবশিষ্ট১,০০,০০০/-
মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়কর (১,০০,০০০ × ১০%)১০,০০০/-

জনাব সাব্বির চৌধুরী এবং অর্পা চৌধুরীর মধ্যে যে কোন একজন অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা প্রাপ্য হবেন। তবে করদাতার যদি ৮২সি ধারায় উল্লিখিত চূড়ান্ত করদায়ের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ন্যূনতম কর (Minimum Tax) খাতের কোন আয় থাকে তাহলে উক্ত ৮২সি ধারার সূত্রের আয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল খাতের মোট আয়ের উপর তফসিলে উল্লিখিত করহার প্রয়োগ করে করদায় হিসেব করতে হবে। এরপর উক্ত করদায়ের সাথে ৮২সি ধারার আয়ের উপর উৎস কর যোগ করলে করদাতার মোট করদায় পাওয়া যাবে।

করদাতার অবস্থানভেদে ন্যূনতম কর

করমুক্ত সীমার উর্ধ্বের আয়ের ক্ষেত্রে প্রদেয় ন্যূনতম আয়করের পরিমাণ এলাকাভেদে নিম্নরূপঃ

এলাকার বিবরণন্যূনতম করের হার (৳)
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা৫,০০০/-
অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা৪,০০০/-
সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত করদাতা৩,০০০/-
  • একজন করদাতার আয় যে কোন স্থানেই অর্জিত হোক না কেন তিনি যেখানে অবস্থান করবেন তার সে অবস্থানের ভিত্তিতেই ন্যূনতম করের হার নির্ধারিত হবে। তবে কোন করদাতা একই আয় বছরে একাধিক স্থানে অবস্থান করলে যে স্থানে তিনি সর্বাধিককাল অবস্থান করেছেন সে অবস্থান স্থলের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম কর হার তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
  • ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার মুখ্য স্থানই ন্যূনতম করের জন্য একজন করদাতার অবস্থান স্থল হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • একজন চাকুরিজীবি করদাতা আয় বছরে একাধিক স্থানে কর্মরত থাকলে যে স্থানে তিনি অধিককাল কর্মরত ছিলেন ন্যূনতম করের জন্য সে স্থানই তার অবস্থান স্থল বলে বিবেচিত হবে।
  • করদাতা অনিবাসী হলে বাংলাদেশে তিনি যে ঠিকানা ব্যবহার করেন সে ঠিকানাই তার অবস্থান স্থল হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • করমুক্ত সীমার উর্ধ্বে আয় আছে এমন করদাতার প্রদেয় আয়করের পরিমাণ তার জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়করের পরিমাণ অপেক্ষা কম হলে, অথবা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়করের কম, শূন্য বা ঋণাত্বক হলেও করদাতাকে তার জন্য প্রযোজ্য নূন্যতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত [আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর {৪৪(৪)(বি)} ধারা অনুযায়ী]

নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে করদাতার বিনিয়োগ/চাঁদা থাকলে করদাতা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পান। মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের অংক থেকে কর রেয়াতের অংক বাদ দিলে প্রদেয় করের অংক পাওয়া যায়।

একজন করদাতার বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ ২টি বিষয় বিবেচিত হয়ঃ

(ক) করদাতার মোট আয়;

(খ) রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (Eligible Amount) হবে;

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (Eligible Amount) হবে-

(ক) রেয়াত পাওয়ার যোগ্য খাতে করদাতার প্রকৃত বিনিয়োগ/চাঁদার পরিমাণ;

(খ) করযোগ্য মোট আয়ের [৮২সি ধারার (২) উপ-ধারায় বর্ণিত উৎস/উৎসসমূহ হতে প্রাপ্ত আয় এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এমন আয় থাকলে তা ব্যতীত] ২৫%;

(গ) ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা;

এই তিনটির মধ্যে যেটি কম।

মোট আয় ও অনুমোদনযোগ্য অংক (Eligible Amount) এর ভিত্তিতে আয়কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপ হারে নির্ধারিত হবেঃ

মোট আয়রেয়াতের পরিমাণ
১০ লক্ষ টাকা পর্যন্তঅনুমোদনযোগ্য অংকের ১৫%
১০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত(ক) অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%

(খ) অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট অংশের ১২%

৩০ লক্ষ টাকার অধিক(ক) অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%

(খ) অনুমোদনযোগ্য অংকের পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকার ১২%

(গ) অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট অংশের ১০%

বিনিয়োগজনিত রেয়াত দাবির জন্য পৃথক তফসিল রয়েছে। ২০১৬-২০১৭ কর বছরে প্রবর্তিত নতুন রিটার্ন ফরমে তফসিলটি ২৪ডি নামে চিহ্নিত। উল্লিখিত নতুন রিটার্ন দাখিলকারী করদাতা বিনিয়োগ দাবি করলে রেয়াত পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগ বা দান নতুন প্রবর্তিত তফসিল-২৪ডি এ উল্লেখপূর্বক মূল রিটার্নের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং বিনিয়োগ বা দানের প্রমাণপত্র রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।

কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ/দানের খাতঃ

একজন করদাতার বিনিয়োগ ও দানের উল্লেখযোগ্য খাতগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হলঃ

* জীবন বীমার প্রিমিয়াম;

* সরকারি কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা;

* স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তার চাঁদা;

* কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা;

* সুপার এনুয়েশন ফান্ডে প্রদত্ত চাঁদা;

* যে কোন তফসিলী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা বিনিয়োগ;

* সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ;

* বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ;

* বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগ;

* নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ;

* জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান;

* যাকাত তহবিলে দান;

* জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোন দাতব্য হাসপাতালে দান;

* প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে দান;

* মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদত্ত দান;

* আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কে দান দান;

* আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান;

* ICDDRB তে প্রদত্ত দান;

* CRP, সাভার এ প্রদত্ত দান;

* সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান;

* এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এ দান;

* ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে দান;

* মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে অনুদান।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পরিগণনাঃ

অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ রেয়াতের পরিমাণ এবং কর রেয়াত কিভাবে পরি গণনা করা হবে তা নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে দেখানো হলোঃ

উদাহরণ-০৯

ধরা যাক, জনাব সালাউদ্দিন সরকারি বেতন আদেশভুক্ত একজন কর্মচারী। তার বেতন খাত, গৃহ সম্পত্তি ও সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে আয় রয়েছে। ২০১৮-২০১৯ করবছরে উক্ত খাতসমূহে আয়ের পরিমাণ নিম্নরূপঃ

আয়ের খাতপরিমাণ (৳)
(ক) বেতন খাতে আয়৭,১৮,২০০/-
(খ) ব্যাংক সুদ আয়১,২০,০০০/-
নিয়মিত উৎসের আয়৮,৩৮,২০০/-
(গ) সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে আয় (৮২সি ধারায়)৫০,০০০/-
(সঞ্চয়পত্রের সুদ হতে ৫% হারে উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ ২,৫০০/-)
মোট আয়৮,৮৮,২০০/-

জনাব সালাউদ্দীনের রেয়াত পাওয়ারযোগ্য খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল নিম্নরুপঃ

ক্রমবিনিয়োগের খাতপরিমাণ
১.ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা৯৬,০০০/-
২.কল্যাণ তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা এবং গোষ্ঠি বীমা স্কীমের কিস্তি১,০৮০/-
৩.নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয়১,০০,০০০/-
৪.জীবন বীমার কিস্তি প্রদান১২,০০০/-
৫.ষ্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ৫,০০০/-
মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি২,১৪,০৮০/-

করদাতার রেয়াত পূর্ববর্তী করদায় হবে নিম্নরূপঃ

মোট আয়করের পরিমাণ (৳)
সঞ্চয়পত্রের সুদ বাদে নিয়মিত উৎসের আয় ৮,৩৮,২০০ টাকার এর উপর প্রযোজ্য আয়কর
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০%৪০,০০০/-
অবশিষ্ট ১,৮৮,২০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫%২৮,২৩০/-
সঞ্চয়পত্রের সুদ আয়ের জন্য প্রদেয় করঃ
সঞ্চয়পত্রের সুদ আয় ৫০,০০০ টাকার উপর উৎসে কর্তিত কর২,৫০০/-
রেয়াত পূর্ববর্তী করদায়৭০,৭৩০/-

জনাব সালাউদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) হবেঃ

(ক) মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি২,১৪,০৮০/-
(ক) সঞ্চয়পত্রের সুদ ৮২সি ধারার আয় হওয়ায় উক্ত আয় বিনিয়োগ রেয়াতের অনুমোদনযোগ্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ পর্যায়ে বিবেচিত হবে না। তাই অনুমোদনযোগ্য অংক বিবেচনার জন্য উক্ত আয় ব্যতীত মোট আয় দাঁড়ায় (৮,৮৮,২০০-৫০,০০০) = ৮,৩৮,২০০ টাকা যার উপর ২৫% হারে।২,০৯,৫৫০/-
(গ) ১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]২,০৯,৫৫০/-

করদাতার কর রেয়াতের পরিমাণ হবেঃ

করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ হবে সরাসরি অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ২,০৯,৫৫০ টাকার ১৫% অর্থাৎ ৩১,৪৩৩ টাকা।

নীট প্রদেয় করঃ

নীট প্রদেয় করের পরিমাণ (৭০,৭৩০-৩১,৪৩৩) = ৩৯,২৯৭/-

বাদঃ উৎসে কর্তিত কর = ২,৫০০/-

অবশিষ্ট প্রদেয় করের পরিমাণ = ৩৬,৭৯৭/-

উদাহারণ-১০

ধরা যাক জনাব ফয়েজ আহমেদের ২০১৮-২০১৯ কয় বছরের মোট আয়ের পরিমাণ ১২,০০,০০০ টাকা। বিভিন্ন খাতে তার মোট বিনিয়োগ/দানের পরিমাণ নিম্নরূপঃ

ক্রমখাতপরিমাণ (৳)
১.জীবন বীমার কিস্তি প্রদান৬০,০০০
২.ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বিনিয়োগ১,২০,০০০
৩.সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ২,০০,০০০
৪.যাকাত তহবিলে দান৫০,০০০
মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি৪,৩০,০০০

জনাব ফয়েজ আহমেদের কর রেয়াত ও করদায়ের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ

কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ/দানঃ

ক্রমখাতপরিমাণ (৳)
১.জীবন বীমার কিস্তি প্রদান৬০,০০০/-
২.ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বিনিয়োগ (২ক ও ২খ এর মধ্যে যেটি কম)৬০,০০০/-
২ক. প্রকৃত বিনিয়োগ =১,২০,০০০/-
২খ. অনুমোদনযোগ্য সীমা=৬০,০০০/-
৩.সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ২,০০,০০০/-
৪.যাকাত তহবিলে দান৫০,০০০/-
মোট অনিুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি৩,৭০,০০০/-

রেয়াত পূর্ববর্তী কর দায়ঃ

প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ১০% হার৪০,০০০/-
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ১৫% হার৭৫,০০০/-
অবশিষ্ট ৫০,০০০ টাকা আয়ের উপর ২০% হার১০,০০০/-
মোট১,২৫,০০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি৩,৭০,০০০/-
(খ)মোট আয় ১২,০০,০০০/- টাকার ২৫%৩,০০,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]৩,০০,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপে পরিগণনা করতে হবেঃ

(ক)অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২,৫০,০০০ টাকার ১৫%৩৭,৫০০/-
(খ)অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট (৩,০০,০০০-২,৫০,০০০) = ৫০,০০০ টাকার ১২%৬,০০০/-
কর রেয়াত৪৩,৫০০/-

ফলে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ দাড়াবে ( ১,২৫,০০০-৪৩,৫০০) = ৮১,৫০০ টাকা।

উদাহরণ-১১

ধরা যাক, জনাব ফয়েজ আহমেদের মোট আয়ের পরিমাণ একই রয়েছে। কিন্তু রেয়াত পাওয়ার যোগ্য কয়েকটি খাতে তার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিম্নরূপঃ

ক্রমবিনিয়োগের খাতপরিমাণ (৳)
১.জীবন বীমার কিস্তি প্রদান৪০,০০০/-
২.সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ১,০০,০০০/-
৩.ল্যাপটপ ক্রয়৬০,০০০/-
মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি২,০০,০০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি২,০০,০০০/-
(খ)মোট আয় ১২,০০,০০০ টাকার ২৫%৩,০০,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]২,০০,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুমোদনযোগ্য অংকের উপর ১৫% হারে কর রেয়াত পাবেন। ফলে, কর রেয়াতের পরিমাণ হবে (২,০০,০০০ × ১৫%) = ৩০,০০০ টাকা এবং নীট প্রদেয় করের পরিমাণ হবে (১,২৫,০০০-৩০,০০০) = ৯৫,০০০ টাকা।

উদাহরণ-১২

ধরা যাক, জনাব রিয়াজ হোসেনের ২০১৭-২০১৮ কর বছরে মোট আয় ৩৫,০০,০০০ টাকা। তার রেয়াত পাওয়ার যোগ্য কয়েকটি খাতের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল নিম্নরূপঃ

ক্রমবিনিয়োগের খাতপরিমাণ (৳)
১.জীবন বীমার কিস্তি প্রদান১,০০,০০০/-
২.সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ১০,০০,০০০/-
৩.একটি ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ১,০০,০০০/-
মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি১২,০০,০০০/-

জনাব রিয়াজ হোসেনের কর রেয়াত ও করদায়ের পরিমাণ হবে নিম্নরূপঃ

রেয়াত পূর্ববর্তী করদায়ঃ

মোট আয়করের পরিমাণ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপরশূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ১০% হারে৪০,০০০/-
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ১৫% হারে৭৫,০০০/-
পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা আয়ের উপর ২০% হারে১,২০,০০০/-
অবশিষ্ট ১৭,৫০,০০০ টাকা আয়ের উপর ২৫% হারে৪,৩৭,৫০০/-
রেয়াত পূর্ববর্তী করদায়৬,৭২,৫০০/-

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount):

(ক)মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি১২,০০,০০০/-
(খ)মোট আয় ৩৫,০০,০০০ টাকার ২৫%৮,৭৫,০০০/-
(গ)১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]৮,৭৫,০০০/-

কর রেয়াতের পরিমাণঃ

করদাতার মোট আয় ৩০ লক্ষ টাকার অধিক হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপে পরিগণনা করতে হবেঃ

(ক)অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২,৫০,০০০ টাকার ১৫%৩৭,৫০০/-
(খ)অনুমোদনযোগ্য অংকের পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকার ১২%৬০,০০০/-
(গ)অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট (৮,৭৫,০০০-৭,৫০,০০০) = ১,২৫,০০০ টাকার ১০%১২,৫০০/-
কর রেয়াত১,১০,০০০/-

ফলে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ দাড়াবে (৬,৭২,৫০০-১,১০,০০০) = ৫,৬২,৫০০ টাকা।

ব্যক্তি করদাতার সারচার্জঃ

ব্যক্তি-করদাতা (assessee being individual) এর ক্ষেত্রে (Income-tax Ordinance, 1984 ( Ord. No. XXXVI of 1984) এর section 80 অনুযায়ী পরিসম্পদ, দায় ও খরচের বিবরণী (statement of assets, liabilities and expenses) তে প্রদর্শনযোগ্য নিম্নবর্ণিত সম্পদের ভিত্তিতে, আয়কর প্রযোজ্য এইরুপ আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়করের উপর নিম্নরূপ হারে সারচার্জ হবে, যথাঃ

সম্পদসারচার্জের হারনূন্যতম সারচার্জ
(ক) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত-শূন্যশূন্য
(খ) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু পাঁচ কোটি টাকার অধিক নয়; বা, নিজ নামে একের অধিক মোটর গাড়ি বা, কোনো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৮,০০০ বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহ-সম্পত্তি১০%৩,০০০/-
(গ) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান পাচঁ কোটি টাকার অধিক কিন্তু দশ কোটি টাকার অধিক নয়-১৫%
(ঘ) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান দশ কোটি টাকার অধিক কিন্তু পনের কোটি টাকার অধিক নয়-২০%৫,০০০/-
(ঙ) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান পনের কোটি টাকার অধিক কিন্তু বিশ কোটি টাকার অধিক নয়-২৫%
(চ) নীট পরিসম্পদের মূল্যমান বিশ কোটি টাকার অধিক যে কোনো অংকের উপর-৩০%

সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তূতকারক করদাতার উক্ত ব্যবসায় হতে অর্জিত আয়ের উপর ২.৫% হারে সারচার্জ প্রদেয় হবে।

সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ যে কোন তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোন ব্যক্তি-করদাতার নীট পরিসম্পদের মূল্যমান দুই কোটি ২৫ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে তাকে নিট সম্পদের ভিত্তিতে প্রদেয় সারচার্জ এবং তার উক্ত ব্যবসায় হতে অর্জিত আয়ের উপর ২.৫% হারে সারচার্জ-উভয়টি পরিশোধ করতে হবে।

সারচার্জ কিভাবে পরিগণনা করতে হবে তা নিচের উদাহরণগুলোর মাধ্যমে দেখানো হলোঃ

(১) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান = ২,২০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয় করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জ এর পরিমাণ = শূন্য

(২) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান = ২,৩০,০০,০০০/-

মোট আয় = ২,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = শূন্য

প্রদেয় সারচার্জ এর পরিমাণ = শূন্য

(৩) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান = ২,৩০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জ এর পরিমাণ (১০%) = ২,৫০০/-

কিন্তু এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সারচার্জ অর্থাৎ ৩,০০০/- টাকা সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে।

(৪) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান করদাতার নিজ নামে দুইটি মটরগাড়ী রয়েছে = ১,৩০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৭,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ৪৭,৫০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১০%) = ৪,৭৫০/-

(৫) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান করদাতার ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বমোট ৮,০০০ বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহ-সম্পত্তি রয়েছে = ১,০০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১০%) = ২,৫০০/-

কিন্তু এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সারচার্জ অর্থাৎ ৩,০০০ টাকা সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে।

(৬) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান করদাতার নিজ নামে দুইটি মটরগাড়ী রয়েছে = ৭,৫০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৭,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ৪৭,৫০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (১৫%) = ৭,১২৫/-

(৭) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান = ১২,৫০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২০%) = ৫,০০০/-

(৮) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যমান = ১৫,৫০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (২৫%) = ৬,২৫০/-

(৯) করদাতার প্রদর্শনযোগ্য নীট সম্পদের মূল্যবান = ২০,০০,০০,০০০/-

জর্দা প্রস্তুত ব্যবসার আয় = ৫,০০,০০০/-

অন্যান্য সূত্রের আয় = ২,৬০,০০০/-

মোট আয় = ৭,৬০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ [(ক)+(খ)] = ২,২৬,০০০/-

(ক) জর্দা প্রস্তুত ব্যবসার আয়ের উপর (৪৫%) = ২,২৫,০০০/-

(খ) অন্যান্য সূত্রের আয়ের উপর = (২,৬০,০০০-২,৫০,০০০) × ১০% = ১,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ = ৬৯,০০০/-

(ক) ২,২৬,০০০×২৫% = ৫৬,৫০০/-

(খ) ৫,০০,০০০×২.৫% = ১২,৫০০/-

(১০) করদাতার প্রদর্শিত নীট সম্পদের মূল্যমান = ২২,৫০,০০,০০০/-

মোট আয় = ৫,০০,০০০/-

আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের পরিমাণ = ২৫,০০০/-

প্রদেয় সারচার্জের পরিমাণ (৩০%) = ৭,৫০০/-

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ আরোপঃ

একজন ব্যক্তি করদাতা ৩০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখের মধ্যে, অর্থাৎ Tax Day এর মধ্যে ২০১৮-২০১৯ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে করদাতার উপর মাসিক ২% হারে বিলম্ব সুদ (Delay Interest) আরোপযোগ্য হবে। করদাতা উপ কর কমিশনারের নিকট হতে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় নিলেও বিলম্ব সুদ পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ ছাড়াও অতিরিক্ত সরল সুদ ও জরিমানা আরোপসহ আয়কর অধ্যাদেশের অধীন অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানও যথারীতি প্রয়োগযোগ্য হবে। বিলম্ব সুদ পরিগণনা করা হবে সংশ্লিষ্ট কর বছরে করদাতার মোটা আয়ের উপর নিরূপিত কর (tax assessed on total income) এবং উৎস করসহ অগ্রিম করের পার্থক্যের উপর। মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর (tax assessed on total income) বলতে বোঝাবে-

(ক) ধারা 82BB এর আওতায় দাখিলকৃত এবং উক্ত ধারার আওতায় নিষ্পন্নকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে, উক্ত ধারার উপধারা (1) এর অধীন প্রদেয় করদায় এবং অন্য যেকোনো উপধারা এর অধীন নিরূপিত মোট আয়ের ভিত্তিতে নিরূপিত করদায়, এর মধ্যে যেটি বেশী হয় ,তা;

(খ) ধারা 82BB এর আওতায় নিষ্পত্তিকৃত নয় এরূপ রিটার্নের ক্ষেত্রে, উপ কর কমিশনার কর্তৃক নিরূপিত মোট আয়ের ভিত্তিতে পরিগণনাকৃত করদায়।

বিলম্ব সুদ পরিগণনার সময়কাল হবে Tax Day এর পরবর্তী দিবস থেকে শুরু করে-

(ক) যেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের দিন পর্যন্ত;

(খ) যেক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয় নি, সেক্ষেত্রে নিয়মিত কর নির্ধারণের দিন পর্যন্ত।

বিলম্ব সুদ পরিগণনার সর্বোচ্চ সময়কাল হবে ১ বছর।

যে সকল ক্ষেত্রে ধারা ৭৫ এর উপধারা (৫) এর Proviso বিধান প্রযোজ্য সে সকল ক্ষেত্রে এ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব সুদ প্রদেয় হবে না।

বিলম্ব সুদ কিভাবে হিসেব করা হবে তা নীচের উদাহরণের সাহায্যে দেখানো হলোঃ

উদাহরণ- ১৩

৩০ শে জুন ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত আয় বছরে মৌলি হাসানের মোট আয় ছিল = ৬,০০,০০০/- টাকা। তিনি ২০১৭-১৮ কর বছরে ১২,০০০ টাকা অগ্রিম কর ও ৪,০০০ টাকা উৎস কর প্রদান করেছেন। ২০১৮-১৯ কর বছরের জন্য মৌলি হাসানের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ (Tax Day) ৩০ নভেম্বর ২০১৮।

মৌলি হাসান আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করলে উপ কর কমিশনার দুই মাস সময় মঞ্জুর করেন। মৌলি হাসান ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে ১৪,০০০ টাকার পে-অর্ডারসহ 82BB ধারায় আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। উপ কর কমিশনার ৩০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে 82BB (2) ধারায় রিটার্নটি process করেন, যাতে কোন গাণিতিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি। রিটার্নটি 82BB(7) ধারায় অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়নি।

এক্ষেত্রে,

মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর = ৩০,০০০/-

অগ্রিম কর ও উৎস করের সমষ্টি = (১২,০০০+৪,০০০) = ১৬,০০০/-

পার্থক্যঃ ৩০,০০০-১৬,০০০ = ১৪,০০০ টাকা

বিলম্ব সুদ পরিগণনার সময়ঃ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ হতে ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ = ১ মাস ১৫ দিন

ফলে, মাসিক ২% হারে বিলম্ব সুদ হবে = [১৪,০০০ × ২% × ১]+[১৪,০০০ × ২% (১৫÷৩১)] = ৪১৫ টাকা।

কোন করদাতার ক্ষেত্রে বিলম্ব সুদ প্রযোজ্য হলে করদাতা বিলম্ব সুদ ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। উপ-কর কমিশনার রিটার্ন process বা কর নির্ধারণের সময় বিলম্ব সুদ অন্তর্ভুক্ত করে দাবিনামা জারি করবেন।

উৎসে এবং অগ্রিম হিসেবে পরোশোধিত করের ক্রেডিট/ সমন্বয়ঃ

ক) উৎস করঃ

আয় বছরে করদাতা কর্তৃক উৎসে পরিশোধিত কর আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতার বেতন, ব্যাংক সুদ আয়, গৃহ সম্পত্তির বার্ষিক ভাড়া আয়, পেশাগত ফি প্রাপ্তি ইত্যাদি থেকে উৎসে কর কেটে রাখা হলে তা রিটার্নে দেখাতে হবে। উৎসে কর্তিত/সংগৃহীত করের স্বপক্ষে কর কর্তনকারী/সংগ্রহকারী কর্তৃপক্ষের সার্টিফিকেট রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।

খ) ধারা ৬৪/৬৮ অনুযায়ী প্রদত্ত অগ্রিম করঃ

করদাতা যদি অগ্রিম কর পরিশোধ করে থাকেন তাহলে পরিশোধিত করের পরিমাণ আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে হবে। অগ্রিম কর পরিশোধের প্রমাণও রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।

গ) প্রত্যর্পণযোগ্য করের সমন্বয়ঃ

পূর্বের বছরগুলোতে করদাতার যদি কর ফেরত দাবি/সৃষ্টি থাকে তবে তা তিনি এখানে কর পরিশোধ হিসেবে দাবী করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কোন করবছরের কর ফেরত দাবি করা হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে। ধরা যাক ২০১৭-২০১৮ কর বছরে করদাতার ফেরত যোগ্য করের পরিমাণ ছিল ৫০০০ টাকা। ২০১৮-২০১৯ কর বছরের রিটার্নে প্রদর্শিত আয় অনুসারে প্রদেয় মোট আয় করের পরিমাণ ৮০০০ টাকা। এ অবস্থায় ২০১৭-২০১৮ কর বছরের ফেরত যোগ্য ৫০০০ টাকা ২০১৮-২০১৯ কর বছরে কর দাবীর বিপরীতে কর পরিশোধ হিসেবে দাবি/সমন্বয় করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ২০১৮-২০১৯ কর বছরের জন্য তাকে অবশিষ্ট ৩০০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ঘ) রিটার্নের ভিত্তিতে প্রদত্ত কর (ধারা ৭৪ অনুযায়ী) ঃ

রিটার্নে প্রদর্শিত মোট আয়ের ভিত্তিতে নিরূপিত প্রদেয় আয়কর হতে উৎসে কর্তিত কর এবং ৬৪/৬৮ বি ধারায় অগ্রিম প্রদত্ত কর বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কর পরিশোধের সমর্থনে চালান, পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, একাউন্ট পেয়ী চেকের কপি দাখিলসহ পরিশোধিত করের পরিমাণ রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।

(ঙ) করমুক্ত বা কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়ঃ

করদাতার করমুক্ত এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয় থাকলে তা রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের কয়েকটি খাত নীচে উল্লেখ করা হলোঃ

(১) সরকারি চাকুরিজীবী করদাতা যদি চাকুরীর দায়িত্ব পালনের জন্য কোন বিশেষ ভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক (Perquisite) পান;

(২) পেনশন;

(৩) অংশীদারী ফার্ম হতে পাওয়া মূলধনী মুনাফার অংশ;

(৪) ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গ্র্যাচুইটি প্রাপ্তি;

(৫) প্রভিডেন্ট ফান্ড এ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী উক্ত ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

(৬) স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

(৭) স্বীকৃত সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

(৮) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে কোন ব্যক্তি কর্তৃক ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্ত অর্থ;

(৯) মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় (সুদ, মুনাফা বা ডিভিডেন্ড);

(১০) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশ খাতের আয় ২৫,০০০ টাকা
পর্যন্ত;

(১১) সরকারি নিরাপওা জামানতের সুদ যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে;

(১২) রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কোন Indigenous hillman- এর এই জেলাগুলোতে পরিচালিত আর্থিক কর্মকান্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়;

(১৩) আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় জারিকৃত কোন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত কর হারের সুবিধা গ্রহণকারী করদাতা ব্যতীত অন্যান্য করদাতার রপ্তানী ব্যবসা হতে প্রাপ্ত আয়ের ৫০%;

(১৪) আয়ের একমাত্র উৎস ’কৃষি খাত’ হলে কৃষি খাত হতে আয় ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত;

(১৫) সফটওয়্যার তৈরিসহ তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি খাতের ব্যবসায় আয়। খাতগুলো হচ্ছেঃ Software development; Software or application customization; Nationwide Telecommunication Transmission Network (NTTN); Digital content development and management; Digital animation development; Website development; Web site services; Web listing; IT process outsourcing; Website hosting; Digital graphics design; Digital data entry and processing; Digital data analysis; Geographic Information Services (GIS); IT support and software maintenance service; Software test lab services; Call center service; Overseas medical transcripxion; Search engine opximization services; Document conversion, imaging and digital archiving; Robotics process outsourcing এবং Cyber security services.

(১৬) হাঁস-মুরগীর খামার হতে অর্জিত আয় এর ক্ষেত্রে প্রথম ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ’শূন্য’ হারে, পরবর্তী ১০
লক্ষ টাকা আয়ের উপর ৫% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর ১০% হারে কর প্রদেয় হবে;

(১৭) হাঁস-মুরগী, চিংড়ী ও মাছের হ্যাচারী (Hatchery) এবং মৎস্য চাষ হতে অর্জিত আয় এর ক্ষেত্রে প্রথম ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ’শূন্য’ হারে, পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকা আয়ের উপর ৫% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর
১০% হারে কর প্রদেয় হবে;

(১৮) কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতীত ব্যক্তি-করদাতা কর্তৃক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফা;

(১৯) হস্তশিল্পজাত দ্রব্যাদি রপ্তানী থেকে উদ্ভুত আয়;

(২০) জিরো কুপন বন্ড থেকে উদ্ভুত আয়;

(২১) ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড হতে প্রাপ্ত সুদ আয়;

(২২) পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ (কোন আয় বছরে কোন করদাতার পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে);

(২৩) পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) এর আয়, যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৩৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত;

(২৪) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট হতে প্রাপ্ত সম্মানী বা ভাতা কিংবা সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কল্যাণ ভাতা;

(২৫) সরকারের নিকট হতে গৃহীত কোন পদক/ পুরস্কার; এবং

(২৬) কোন Elderly care home পরিচালনা হতে অর্জিত আয়;

করমুক্ত আয়সমূহ করদাতার মোট আয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটি রিটার্নে করমুক্ত আয়ের কলামে প্রদর্শন করতে হবে।



Check Also

পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯