Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Legal Study
Tuesday , December 18 2018

নারী অধিকার লংঘন ও প্রতিকার (প্রসঙ্গঃ এসিড নিক্ষেপ), পর্ব-১০

অন্যান্যদের দায়িত্ব কর্তব্যঃ কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর অন্যতম কারণ হয়তো আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তাছাড়া এসিড নিক্ষেপে আহত হননি অথচ হুমকির মুখে বসবাস করছেন এমন নারীদের জন্যও আইনে ব্যবস্থা রাখতে হবে। এসিডদগ্ধ নারীর চিকিৎসার ব্যয়ভার অপরাধী ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা যায় কিনা এ বিষয়টি আইন প্রনেতাদের ভেবে দেখতে হবে৷ এসিড মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ একটি বড় বিষয়। এজন্য সাক্ষীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার  ব্যবস্থার বিধান করতে হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সচেতন ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশকে দায়িত্ব দিতে হবে। এসিড নিক্ষেপের পর আক্রান্ত স্থানে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার কথা বলি জীবন রক্ষার জন্য। ফলে মামলা করার সময় পোড়ার কারণ এসিড না অন্য কোনো  দাহ্য পদার্থ তা প্রমাণ করা বেশ কঠিন বলে আমরা ক্ষয়কারী পদার্থ দ্বারা দগ্ধ বলে মামলা করি। এজন্য আমাদের উচিত ডাক্তার, কেমিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের সাথে একটি মেকানিজম বের করা যার মাধ্যমে পোড়া কিসের তা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। লাইসেন্স ছাড়া এসিড উৎপাদন আমদানী, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় বা ব্যবহার করলে কিংবা দখলে রাখলে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ অনুযায়ী ৩-১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড সাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের বিধান আছে এ ব্যাপারে সবাইকে জানাতে হবে এবং আইন প্রয়োগে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। মেয়েদের আত্ননির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে এসিড সন্ত্রাস দূর করা সম্ভব হবে।

এসিড সন্ত্রাস সমাজে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অপরাধ। এসিড নিক্ষেপকারী, এসিড নিক্ষেপে সহায়তাকারী ও চিন্তাভাবনাকারী এবং একাজে জড়িত সকলেই সমাজে ঘৃণ্যতম ব্যক্তি। আমাদের সমাজের অল্প কিছুসংখ্যক মানুষের ঘৃণ্যতম চিন্তা চেতনার ফলে  সমাজের নারীরা  তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা, শারীরিক সুস্থতা ও বেঁচে থাকার অধিকার হারায় এমনকি কোমলমতি শিশুরাও শিকার হচ্ছে এ নিকৃষ্ট কর্মকান্ডের। এসিড সন্ত্রাসের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়াও অনেক ঘটনা ঘটে যা নথি বহিভুক্ত থেকে যায়। এ অপরাধ ও তার শাস্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগ, পরষ্পরের প্রতি সহমর্মিতা এবং সমাজের সকলের প্রতি সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে মেনে চললে এসিড দ্বারা সংঘটিত অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। এসিড সন্ত্রাস যে একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এর সাথে জড়িতদের জন্য যে ভয়াবহ শাস্তির বিধান আছে তা সকলের জানা থাকা দরকার।

Check Also

পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী, করবর্ষঃ ২০১৮-২০১৯