Wednesday , March 4 2026
👁️ আজকের ভিউ: 2,902 | মোট ভিউ: 324,684
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 15. Court in which suits to be instituted | যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে হইবে

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে ক্লিক করুন।

Section 15. Court in which suits to be instituted:

Every suit shall be instituted in the Court of the lowest grade competent to try it.

ধারা ১৫। যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে হইবেঃ

প্রত্যেক মোকদ্দমা বিচার করিবার উপযুক্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে।

বিশ্লেষণাত্মক আলোচনাঃ

ধারা ১৫ দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের একটি খুব ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা ‘যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করিতে হইবে’ এই নীতি নিয়ে আলোচনা করে। এর মূল কথা হলো, যেকোনো দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচার করার জন্য উপযুক্ত, কিন্তু নিম্নতম পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে।

ধারাটির মূল অংশঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা বিচার করিবার উপযুক্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে।”

চলুন, এটাকে সহজ করে বুঝিঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা”: বলতে বোঝানো হচ্ছে সকল প্রকার দেওয়ানি মোকদ্দমা।

“বিচার করিবার উপযুক্ত”: এর মানে হলো, যে আদালতের সেই মোকদ্দমাটি বিচার করার ক্ষমতা বা এখতিয়ার (Jurisdiction) রয়েছে। এই এখতিয়ার আর্থিক (Pecuniary), আঞ্চলিক (Territorial) এবং বিষয়বস্তুগত (Subject-matter) হতে পারে। অর্থাৎ, আদালতকে অবশ্যই মোকদ্দমার আর্থিক মূল্য, মোকদ্দমার বিষয়বস্তু এবং যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকার এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে।

“সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করিতে হইবে”: এটিই এই ধারার মূল নির্দেশ। এর মানে হলো, যদি একটি মোকদ্দমা বিচার করার ক্ষমতা একাধিক আদালতের থাকে (যেমনঃ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং জেলা জজ আদালত), তাহলে মোকদ্দমাটি সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যার ক্ষমতা সবচেয়ে কম বা যা সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত।

উদাহরণঃ ধরুন, আপনি একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা করতে চান যার বিষয়বস্তুর আর্থিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। মনে করুন, বাংলাদেশে একটি ‘সহকারী জজ আদালত’ এর আর্থিক এখতিয়ার ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং একটি ‘সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’-এর আর্থিক এখতিয়ার ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আবার, একটি ‘যুগ্ম জেলা জজ আদালত’-এর আর্থিক এখতিয়ার অসীম। আপনার ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমাটি এই তিনটি আদালতেরই বিচার করার ক্ষমতা আছে (কারণ ৫ লক্ষ টাকা তাদের প্রত্যেকের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্যে পড়ে)। কিন্তু ধারা ১৫ অনুযায়ী, আপনাকে মোকদ্দমাটি সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত, অর্থাৎ সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হবে, কারণ এই আদালতটিই ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমা বিচার করার জন্য উপযুক্ত এবং একইসাথে এটি ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালত’ যা এই এখতিয়ার রাখে। আপনি সরাসরি সিনিয়র সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এই মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবেন না, যদিও তাদের আরও বেশি এখতিয়ার আছে।

কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • ১) আদালতের কাজের সুষম বন্টন (Proper Distribution of Work): এই ধারাটি উচ্চতর আদালতগুলোর ওপর মোকদ্দমার চাপ কমায়। যদি ছোট ছোট মোকদ্দমাগুলোও উচ্চ আদালতে দায়ের করা হয়, তাহলে উচ্চ আদালতগুলো বড় ও জটিল মোকদ্দমাগুলো নিষ্পত্তিতে বেশি সময় দিতে পারবে না।
  • ২) সময় ও খরচ বাঁচানোঃ সাধারণত, নিম্ন আদালতগুলোতে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত হতে পারে এবং ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
  • ৩) বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিঃ এটি সামগ্রিকভাবে বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
  • ৪) অপব্যবহার রোধঃ এটি নিশ্চিত করে যে, বিচারপ্রার্থীরা অযাচিতভাবে তাদের পছন্দের আদালতে মোকদ্দমা করে আদালতের ক্রম বা এখতিয়ারের অপব্যবহার করবে না।

সংক্ষেপে, ধারা ১৫ হলো একটি নির্দেশমূলক বিধান। এটি বলে যে, একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যার সেটি বিচার করার এখতিয়ার আছে এবং একইসাথে সেটি সকল আদালতের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের আদালত।

প্রশ্নঃ ধারা ১৫ দেওয়ানী কার্যবিধির মূল কথা কী?

উত্তরঃ প্রতিটি দেওয়ানী মোকদ্দমা বিচার করার জন্য যে আদালত উপযুক্ত এবং সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে, সেখানে দায়ের করতে হবে।

প্রশ্নঃ “প্রত্যেক মোকদ্দমা” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ এখানে সব ধরনের দেওয়ানী মোকদ্দমাকেই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্নঃ “বিচার করিবার উপযুক্ত” বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ এর মানে হলো, আদালতের আর্থিক, আঞ্চলিক ও বিষয়গত এখতিয়ার থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ আর্থিক এখতিয়ার বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ মোকদ্দমার আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতে আদালতের ক্ষমতাকে বোঝায়।

প্রশ্নঃ আঞ্চলিক এখতিয়ার কী?

উত্তরঃ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকার আদালতের এখতিয়ারকে আঞ্চলিক এখতিয়ার বলে।

প্রশ্নঃ বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তরঃ মোকদ্দমার ধরণ বা বিষয়বস্তু বিচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

প্রশ্নঃ “সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে” কথার মানে কী?

উত্তরঃ যদি একাধিক আদালতের মোকদ্দমা শোনার ক্ষমতা থাকে, তবে সবচেয়ে নিচের স্তরের আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

প্রশ্নঃ একটি ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমা কোন আদালতে দায়ের হবে?

উত্তরঃ সহকারী জজ আদালতে, কারণ এটি সর্বনিম্ন স্তরের আদালত যার এখতিয়ার এর মধ্যে পড়ে।

প্রশ্নঃ কেন সরাসরি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা করা যাবে না?

উত্তরঃ কারণ ধারা ১৫ অনুযায়ী সর্বনিম্ন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

প্রশ্নঃ ধারা ১৫ আদালতের কাজের ওপর কী প্রভাব ফেলে?

উত্তরঃ এটি আদালতের কাজ সঠিকভাবে বণ্টন করতে সাহায্য করে এবং উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমায়।

প্রশ্নঃ এই ধারা সময় ও খরচ বাঁচাতে কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তরঃ নিম্ন আদালতে সাধারণত খরচ কম হয় এবং প্রক্রিয়াও তুলনামূলক দ্রুত হয়।

প্রশ্নঃ বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই ধারার ভূমিকা কী?

উত্তরঃ ছোট মোকদ্দমা নিম্ন আদালতে হলে উচ্চ আদালত বড় জটিল মোকদ্দমায় মনোযোগ দিতে পারে।

প্রশ্নঃ ধারা ১৫ কিভাবে অপব্যবহার রোধ করে?

উত্তরঃ এটি নিশ্চিত করে যে বিচারপ্রার্থী নিজের সুবিধামতো আদালত বেছে নিতে না পারে।

প্রশ্নঃ ধারা ১৫ কি নির্দেশমূলক নাকি বাধ্যতামূলক?

উত্তরঃ এটি একটি নির্দেশমূলক বিধান।

প্রশ্নঃ ধারা ১৫ এর উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা এবং আদালতের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো।

প্রশ্নঃ কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ এটি আদালতের কাজ সহজ করে, সময় ও খরচ বাঁচায় এবং বিচার প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে।

প্রশ্নঃ একাধিক আদালতের এখতিয়ার থাকলে কোন আদালত বেছে নেওয়া হবে?

উত্তরঃ সর্বনিম্ন স্তরের আদালত।

প্রশ্নঃ সংক্ষেপে ধারা ১৫ এর মূল বার্তা কী?

উত্তরঃ দেওয়ানী মোকদ্দমা সর্বনিম্ন উপযুক্ত আদালতে দায়ের করতে হবে।

আরও জানুন →

  • কোনও পোস্ট পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভিডিওসমূহ

বাংলাদেশের আইনসমগ্র

আমাদের সেবাসমূহ

প্রয়োজনীয় সরকারি লিংক

📱 অ্যাপ ডাউনলোড করুন — দ্রুত

অ্যাপ ইন্সটল করে সবকিছু এক জায়গায় দেখুন।

Check Also

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 1. Short title, commencement and extent | সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও ব্যাপ্তি

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 2. Definitions | সংজ্ঞা

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Table of Contents

Index