Friday , November 15 2019

যৌতুক দাবি করলে কি করবেন? (পর্ব-০৩)

প্রতিকারের জন্য যেখানে যেতে হবে

আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রতিকারঃ দেশে যৌতুক বিরোধী কঠোর আইন থাকলেও যৌতুকের কারণে নির্যাতনের ঘটনার তুলনায় মামলা হয় কম। মামলা করলে সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় যৌতুকের শিকার নারী বেশির ভাগ সময়েই বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে চান। এছাড়া অনেকেই জানেন না কোথায় কিভাবে মামলা করতে হয়। বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র নারীরা মামলার খরচের কথা চিন্তা করে মামলা করেন না। এখানে যৌতুকের শিকার একজন ব্যক্তি কোথায়, কিভাবে মামলা দায়ের করবেন সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ের করার সময়সীমা এক বছর। অর্থাত্‍, যে দিন যৌতুক দাবি করা হবে সে দিন থেকে এক বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। এক বছর পর মামলা করা যাবে না।

মামলার বিচার পদ্ধতিঃ যৌতুকের অভিযোগ বা নালিশ সরাসরি আমলী আদালতে জানাতে হয়। অর্থাত্‍, যৌতুক সংক্রান্ত মামলাগুলো সরাসরি আদালতে দায়ের করতে হবে। ঘটনা যে এলাকায় ঘটে সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের (আমলী আদালত) কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নালিশ জানাতে পারেন। ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে নালিশটি লিখিত আকারে দাখিল করতে হয়। বাদী নিজে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে নালিশ জানাতে পারেন।

অভিযোগ দায়ের করতে হলে কি কি করতে হবে?

ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে নালিশ জানানোর জন্য আপনি যা যা করবেন তা হলঃ

  • যার বা যাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানাবেন তার বা তাদের নাম, পিতার নাম, সম্পূর্ন ঠিকানা জানাতে হবে;
  • তার বা তাদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা বিস্তারিত জানাতে হবে;
  • ঘটনার তারিখ, স্থান, সময় এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানাতে হবে;
  • নালিশ সংক্রান্ত কোনো লিখিত দলিল থাকলে তাও জানাতে হবে;
  • নালিশে বাদীর নাম-ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

<<< ২য় পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন ৪র্থ পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন >>>

Check Also

বর্গা চাষ, পর্ব-০৭

জমি বর্গা নেয়ার সীমাবদ্ধতাঃ কোন বর্গাদারই ১৫ বিঘার বেশী জমি বর্গাচাষের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন না। (১৯৮৪ …