Friday , November 22 2019

যৌতুক দাবি করলে কি করবেন? [(পর্ব-১০), শেষ পর্ব]

সালিশের মাধ্যমে আপোষ মীমাংসাঃ যৌতুকের জন্য সমাধান চেয়ে ভিকটিম নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ানম্যান বরাবরে দরখাস্ত প্রদান করবেন। দরখাস্ত প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি নিয়ে সালিসী পরিষদ গঠন করবেন৷সালিসী পরিষদ উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করবেন।সমঝোতার চেষ্টা সফল হতে পারে আবার ব্যর্থও হতে পারে।

প্রতিকার পেতে যারা সহযোগীতা করতে পারেনঃ যৌতুক আদান প্রদানের বিষয়টি আমাদের সমাজে এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, কন্যা দায়গ্রস্ত অনেক বাবাই আজ যৌতুক দিয়ে তার কন্যা দায় থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টা করছেন। অথচ এভাবে পাত্র পক্ষ যৌতুক নেয়াটাকে অনেক সহজ কিছু ভাবছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্টীর মধ্যে আজ যৌতুকের ভয়াবহ থাবা তাদের অসহায়ত্বকে আরো প্রকট করছে। উপরন্তু আইন সর্ম্পকে অজ্ঞতা, অসচেতনতা, ব্যায়বহুল মামলা পদ্ধতির পাশাপাশি সংসার ভেঙ্গে যাবার আশংকাও মানুষের অধিকার আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যৌতুকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার মাধ্যমে মামলা চালাবার সহায়তা পেতে পারেন, যারা বিনা খরচে ক্ষতিগ্রস্তের পক্ষে মামলা পরিচালনার যাবতীয় খরচ বহন করবে। এরকম সংস্থাগুলো হলোঃ

১) বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট);

২) বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি;

৩) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক);

৪) জাতীয় আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা।

উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তঃ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে লইয়া যাওয়ার শর্তে ১০,০০০/- টাকা দাবি করা যৌতুক বলিয়া গণ্য হইবে। [Reazul Karim Vs Mst. Taslima begum and another, 40 DLR (1988) 360]

সমাপ্ত

<<< ১ম পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Check Also

বর্গা চাষ, পর্ব-০৭

জমি বর্গা নেয়ার সীমাবদ্ধতাঃ কোন বর্গাদারই ১৫ বিঘার বেশী জমি বর্গাচাষের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন না। (১৯৮৪ …