Friday , November 22 2019

যৌতুক দাবি করলে কি করবেন? (পর্ব-০৯)

ওয়ারেন্ট ইস্যু এবং তামিলের পদ্ধতিঃ সমন দেওয়ার পর আসামী যদি আদালতে হাজির না হয় সেক্ষেত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করতে হবে। গ্রেফতারী পরোয়ানা হলো কোন অপরাধের অভিযোগে কাউকে আটক করে আদালতে জিম্মায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ অফিসারকে প্রদত্ত আদেশ। ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৫-৮৬ ধারায় গ্রেফতারী পরোয়ানা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সে অনুযায়ী গ্রেফতারী পরোয়ানার উপাদানসমূহ হলোঃ

  • গ্রেফতারী পরোয়ানা আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত হতে হবে।
  • ওয়ারেন্ট লিখিত ও আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার বা বিচারক কর্তৃক সাক্ষরিত হতে হবে।
  • পরোয়ানায় ইস্যুকৃত নাম ও ঠিকানা থাকতে হবে।
  • পরোয়ানায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা থাকতে হবে।
  • পরোয়ানা আদালতের সীল মোহরযুক্ত হবে।
  • গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকরী না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ইস্যুকারী আদালত কর্তৃক তা বাতিল না করা পর্যন্ত পরোয়ানা বলবতত্‍ থাকবে।
  • ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৬ ধারার বিধান অনুসারে আদালত ইচ্ছে করলে গ্রেফতারী পরোয়ানায় এ মর্মে লিখিত নির্দেশ দিতে পারেন যে উপযুক্ত জামিনদারসহ মুচলেকা সম্পাদন করলে আদালত পরোয়াধীন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন।
  • ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৭ ধারা অনুসারে ওয়ারেন্ট কার্যকরী করবেন পুলিশ কর্মকর্তা তবে ওয়ারেন্ট অবিলম্বে কার্যকরী করার প্রয়োজন হলে এবং অবিলম্বে কোন পুলিশ কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে আদালত অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার নির্দেশ দিতে পারেন।
  • ফৌজদারী কার্যবিধির ৮২ ধারার বিধান অনুসারে ওয়ারেন্ট যার বিরুদ্ধে ইস্যু করা হয়েছে তাকে বাংলাদেশের যে কোন স্থান হতে গ্রেফতার করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে ওয়ারেন্টটি কার্যকর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা।

আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপসমূহঃ ওয়ারেন্ট ইস্যুর পর আদালত নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহন করবেন-

  • আসামি হাজির ও অভিযোগ শুনানী;
  • আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা বা অব্যাহতি দেয়া;
  • বাদী পক্ষের সাক্ষ্য এবং জেরা গ্রহন করা;
  • আসামী পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শুনা;
  • আসামী পক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য নেয়া;
  • যুক্তিতর্ক শুনানী এবং
  • রায় প্রদান।

<<< ৮ম পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন শেষ পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন >>>

Check Also

বর্গা চাষ, পর্ব-০৭

জমি বর্গা নেয়ার সীমাবদ্ধতাঃ কোন বর্গাদারই ১৫ বিঘার বেশী জমি বর্গাচাষের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন না। (১৯৮৪ …