Tuesday , March 3 2026
👁️ আজকের ভিউ: 1,326 | মোট ভিউ: 323,108
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 12. Bar to further suit | অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়েরের বাধা

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে ক্লিক করুন।

Section 12. Bar to further suit:

Where a plaintiff is precluded by rules from instituting a further suit in respect of any particular cause of action, he shall not be entitled to institute a suit in respect of such cause of action in any Court to which this Code applies.

ধারা ১২। অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়েরের বাধাঃ

যেক্ষেত্রে কোন বাদী বিধিমালা দ্বারা কোন বিশেষ কার্যকারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়ের করা হইতে বারিত হয়, সেইক্ষেত্রে সে এই কোড যে সকল আদালতে প্রযোজ্য সেই সকল আদালতে উক্ত কার্যকারণ সম্পর্কে মোকদ্দমা দায়ের করিতে অধিকারী হইবে না।

বিশ্লেষণাত্মক আলোচনাঃ

ধারা ১২ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা মূলত মোকদ্দমার বাহুল্য বা অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়েরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সহজভাবে বললে, এই ধারাটি নিশ্চিত করে যে, যদি কোনো বাদীকে আইনের নির্দিষ্ট নিয়ম (বিধিমালা) দ্বারা একই বিষয় বা কারণ নিয়ে বারবার মোকদ্দমা করা থেকে নিষেধ করা হয়, তবে সে আর ওই বিষয় নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা করতে পারবে না।

ধারাটির মূল অংশঃ “যেক্ষেত্রে কোন বাদী বিধিমালা দ্বারা কোন বিশেষ কার্যকারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়ের করা হইতে বারিত হয়, সেইক্ষেত্রে সে এই কোড যে সকল আদালতে প্রযোজ্য সেই সকল আদালতে উক্ত কার্যকারণ সম্পর্কে মোকদ্দমা দায়ের করিতে অধিকারী হইবে না।”

চলুন, এটাকে সহজ করে বুঝিঃ “যেক্ষেত্রে কোন বাদী বিধিমালা দ্বারা কোন বিশেষ কার্যকারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়ের করা হইতে বারিত হয়…”: ১) এখানে “বাদী” বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে যে মোকদ্দমা করে। ২) “বিধিমালা দ্বারা” বলতে বোঝানো হচ্ছে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের অধীনে প্রণীত বিভিন্ন নিয়মকানুন (যেমনঃ ‘আদেশ’ এবং ‘বিধি’)। দেওয়ানী কার্যবিধির প্রথম অংশটি ধারা এবং দ্বিতীয় অংশটি বিধিমালা নিয়ে গঠিত। এই বিধিমালাগুলোতে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি বা কার্যকারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়েরের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।

“কোন বিশেষ কার্যকারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়ের করা হইতে বারিত হয়”: এর মানে হলো, কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা একই মোকদ্দমার কারণ নিয়ে দ্বিতীয়বার বা বারবার মোকদ্দমা করা থেকে আইনগতভাবে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২, বিধি-২ এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একই কারণ থেকে উদ্ভূত সকল প্রতিকার একসঙ্গে দাবি না করলে, পরবর্তীতে অবশিষ্ট প্রতিকার দাবি করে নতুন মোকদ্দমা করা নিষিদ্ধ হতে পারে।

“…সেইক্ষেত্রে সে এই কোড যে সকল আদালতে প্রযোজ্য সেই সকল আদালতে উক্ত কার্যকারণ সম্পর্কে মোকদ্দমা দায়ের করিতে অধিকারী হইবে না।”: যদি উপরের শর্ত পূরণ হয়, অর্থাৎ বাদীকে যদি বিধিমালা দ্বারা একই বিষয়ে অতিরিক্ত মোকদ্দমা করতে নিষেধ করা হয়, তাহলে সেই বাদী আর ওই একই কারণ বা বিষয় নিয়ে দেওয়ানী কার্যবিধি আইন প্রযোজ্য এমন কোনো আদালতেই নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না। এর মানে হলো, এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ানী কার্যবিধি প্রযোজ্য সকল দেওয়ানী আদালতের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

ধারা ১২ এর প্রধান উদ্দেশ্যঃ

  • ১) মোকদ্দমার অপব্যবহার রোধঃ কিছু বাদী অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার একই বিষয় নিয়ে মোকদ্দমা করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে। এই ধারাটি তা প্রতিরোধ করে।
  • ২) বিচার ব্যবস্থার দক্ষতাঃ এটি আদালতের ওপর অযাচিত চাপ কমায় এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করে।
  • ৩) মোকদ্দমার চূড়ান্ততাঃ এটি নিশ্চিত করে যে, একবার একটি নির্দিষ্ট আইনি কারণে একটি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হলে, সেই একই কারণ নিয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না, যদি না বিধিতে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

সংক্ষেপে, ধারা ১২ এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যা নিশ্চিত করে যে, দেওয়ানী কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তিকে একই বিষয়ে বারবার মোকদ্দমা করতে নিষেধ করা হয়, তাহলে সে আসলেই আর সেই বিষয়ে কোনো দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা করতে পারবে না। এটি বিচার ব্যবস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ধারা ১২ আসলে কী নিয়ে কথা বলে?

ধারা ১২ বলে, যদি কোনো বাদীকে আইন বা বিধিমালা দ্বারা একই বিষয় নিয়ে বারবার মোকদ্দমা করা থেকে নিষেধ করা হয়, তবে সে আর সেই বিষয়ে দেওয়ানী আদালতে নতুন করে মোকদ্দমা করতে পারবে না।

এখানে “বাদী” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

বাদী বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে মোকদ্দমা করে।

“বিধিমালা” বলতে কী বোঝায়?

দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে প্রণীত আদেশ (Order) ও বিধি (Rule) গুলোই হলো বিধিমালা।

একই বিষয়ে বারবার মোকদ্দমা নিষিদ্ধ কেন?

যাতে এক ব্যক্তি অযথা আদালতের সময় নষ্ট না করে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

উদাহরণ দিয়ে বোঝান তো?

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২, বিধি ২ এ বলা হয়েছে, যদি একই কারণে একাধিক প্রতিকার দাবি করা সম্ভব হয়, তবে বাদীকে সেগুলো একসঙ্গে দাবি করতে হবে। পরে বাকি প্রতিকার আলাদা মোকদ্দমায় দাবি করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই নিষেধাজ্ঞা কোথায় প্রযোজ্য?

দেওয়ানী কার্যবিধি যেখানে যেখানে প্রযোজ্য, সেইসব সব দেওয়ানী আদালতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ধারা ১২ এর মূল উদ্দেশ্য কী?

১) বারবার মোকদ্দমা করে আদালতের অপব্যবহার ঠেকানো। ২) বিচার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও দক্ষ করা। ৩) মোকদ্দমার চূড়ান্ততা নিশ্চিত করা।

তাহলে সংক্ষেপে ধারা ১২ কী শেখায়?

ধারা ১২ শেখায় যে, একই বিষয় বা একই কারণ নিয়ে বাদী বারবার দেওয়ানী মোকদ্দমা করতে পারবে না, যদি বিধিমালা দ্বারা সেটা নিষিদ্ধ করা থাকে।

আরও জানুন →

  • কোনও পোস্ট পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভিডিওসমূহ

বাংলাদেশের আইনসমগ্র

আমাদের সেবাসমূহ

প্রয়োজনীয় সরকারি লিংক

📱 অ্যাপ ডাউনলোড করুন — দ্রুত

অ্যাপ ইন্সটল করে সবকিছু এক জায়গায় দেখুন।

Check Also

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 1. Short title, commencement and extent | সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও ব্যাপ্তি

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 2. Definitions | সংজ্ঞা

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Table of Contents

Index