Wednesday , March 4 2026
👁️ আজকের ভিউ: 3,276 | মোট ভিউ: 325,058
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 14. Presumption as to foreign judgments | বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমান

দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে ক্লিক করুন।

Section 14. Presumption as to foreign judgments:

The Court shall presume, upon the production of any document purporting to be a certified copy of a foreign judgment, that such judgment was pronounced by a Court of competent jurisdiction, unless the contrary appears on the record; but such presumption may be displaced by proving want of jurisdiction.

ধারা ১৪। বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমানঃ

কোন বিদেশী রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি বলিয়া কথিত কোন দলিল দাখিল করিলে আদালত অনুমান করিবে যে, উক্ত রায় উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছে, যদি না নথিপত্রে ইহার বিপরীত প্রতীয়মান হয়; কিন্তু এখতিয়ারের অভাব প্রমাণ করিয়া এইরূপ অনুমান খণ্ডন করা যাইতে পারে।

বিশ্লেষণাত্মক আলোচনাঃ

ধারা ১৪ হলো ধারা ১৩ এর একটি পরিপূরক ধারা, যা বিদেশী রায় সম্পর্কে একটি অনুমান (Presumption) নিয়ে কাজ করে। সহজ কথায়, এই ধারাটি বলে যে, যখন কোনো বিদেশী আদালতের রায়ের একটি সত্যায়িত কপি (certified copy) আদালতে জমা দেওয়া হয়, তখন আদালত প্রাথমিকভাবে ধরে নেবে যে, সেই রায়টি একটি সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত দিয়েছে। তবে, এই অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণ করার সুযোগও আছে।

ধারাটির মূল অংশঃ “কোন বিদেশী রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি বলিয়া কথিত কোন দলিল দাখিল করিলে আদালত অনুমান করিবে যে, উক্ত রায় উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছে, যদি না নথিপত্রে ইহার বিপরীত প্রতীয়মান হয়; কিন্তু এখতিয়ারের অভাব প্রমাণ করিয়া এইরূপ অনুমান খণ্ডন করা যাইতে পারে।”

চলুন, এটাকে সহজ করে বুঝিঃ “কোন বিদেশী রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি বলিয়া কথিত কোন দলিল দাখিল করিলে…”: এর মানে হলো, যখন বাংলাদেশের কোনো আদালতে একটি বিদেশী আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (অর্থাৎ, মূল রায়ের একটি সরকারিভাবে অনুমোদিত ও সিলমোহরযুক্ত কপি) দাখিল করা হয়। “বলিয়া কথিত কোন দলিল” বলতে বোঝায় যে, এই ডকুমেন্টটিকে বিদেশী রায়ের সত্যায়িত কপি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

“…আদালত অনুমান করিবে যে, উক্ত রায় উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছে…”: এটিই হলো এই ধারার মূল কথা। আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অনুমান (Presumption) তৈরি করবে। এই অনুমানটি হলো যে, যে বিদেশী আদালত এই রায়টি দিয়েছে, সেই আদালতের সেই মোকদ্দমাটি বিচার করার সঠিক ক্ষমতা বা এখতিয়ার (Jurisdiction) ছিল। এই অনুমানটি আইনের একটি সুবিধাজনক নিয়ম, কারণ এটি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদেশী আদালতের এখতিয়ার আলাদাভাবে প্রমাণের বোঝা কমিয়ে দেয়।

“…যদি না নথিপত্রে ইহার বিপরীত প্রতীয়মান হয়…”: তবে, এই অনুমানটি সর্বদা অপরিবর্তনীয় নয়। যদি আদালতের সামনে থাকা নথিপত্র বা রেকর্ডেই দেখা যায় যে, বিদেশী আদালতের আসলে সেই মোকদ্দমাটি বিচার করার এখতিয়ার ছিল না, তাহলে আদালত সেই অনুমান করবে না। অর্থাৎ, প্রমাণ না থাকলে অনুমান, প্রমাণ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত।

“…কিন্তু এখতিয়ারের অভাব প্রমাণ করিয়া এইরূপ অনুমান খণ্ডন করা যাইতে পারে।”: এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। যদি নথিপত্রে সরাসরি এখতিয়ারের অভাব দেখা নাও যায়, তবুও যে পক্ষ বিদেশী রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, সেই পক্ষ সক্রিয়ভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, বিদেশী আদালতের রায় দেওয়ার মতো যথাযথ এখতিয়ার ছিল না। যদি সফলভাবে এই ‘এখতিয়ারের অভাব’ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আদালত আর অনুমান করবে না যে রায়টি উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত দিয়েছে। ফলস্বরূপ, ধারা ১৩(এ) অনুযায়ী সেই বিদেশী রায় বাংলাদেশে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

কেন এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • ১) প্রমাণের বোঝা কমানো (Relief from burden of proof): এটি বিচার প্রক্রিয়ায় একটি সুবিধা দেয়। প্রাথমিকভাবে, যে পক্ষ বিদেশী রায় বাংলাদেশে কার্যকর করতে চায়, তাকে বিদেশী আদালতের এখতিয়ার আলাদা করে প্রমাণ করতে হয় না। আদালত নিজেই এই অনুমান করে নেয়।
  • ২) দক্ষতা বৃদ্ধিঃ এটি আদালতের সময় বাঁচায় এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে।
  • ৩) ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণঃ একই সাথে, এটি যে কোনো পক্ষকে অন্যায়ভাবে চাপানো বিদেশী রায় থেকে নিজেকের রক্ষা করার সুযোগ দেয়, যদি প্রমাণ করতে পারে যে রায়দানকারী আদালতের উপযুক্ত এখতিয়ার ছিল না। এটি নিশ্চিত করে যে, বিচার ব্যবস্থা ন্যায়ের পথে থাকে।

সংক্ষেপে, ধারা ১৪ হলো একটি ‘অনুমানের নীতি’। এটি বলে যে, একটি সত্যায়িত বিদেশী রায়ের কপি দেখলে আদালত ধরে নেবে যে রায়টি সঠিক আদালত দিয়েছে, যতক্ষণ না এর উল্টো প্রমাণ হয়। তবে, এই অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণ করার সুযোগ সবসময় থাকে, বিশেষ করে যদি প্রমাণ করা যায় যে বিদেশী আদালতের সেই মোকদ্দমায় রায় দেওয়ার মতো কোনো এখতিয়ার ছিল না।

প্রশ্নঃ ধারা ১৪ আসলে কী বলে?

উত্তরঃ ধারা ১৪ বলে, বিদেশী রায়ের সত্যায়িত কপি আদালতে জমা দিলে আদালত ধরে নেবে যে সেটা সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত দিয়েছে, যদি না এর উল্টো প্রমাণ হয়।

প্রশ্নঃ বিদেশী রায়ের সত্যায়িত কপি বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ বিদেশী আদালতের মূল রায়ের সরকারিভাবে অনুমোদিত ও সিলমোহরযুক্ত কপিকেই সত্যায়িত কপি বলা হয়।

প্রশ্নঃ বিদেশী রায়ের কপি জমা দিলে আদালত কী করে?

উত্তরঃ আদালত প্রাথমিকভাবে অনুমান করে যে রায়টি সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতই দিয়েছে।

প্রশ্নঃ এই অনুমান কি সব সময় চূড়ান্ত থাকে?

উত্তরঃ না, যদি নথিপত্রে এখতিয়ারের অভাব দেখা যায়, তবে আদালত আর এই অনুমান করবে না।

প্রশ্নঃ অনুমান ভেঙে দেওয়ার সুযোগ আছে কি?

উত্তরঃ হ্যাঁ, যে পক্ষ বিদেশী রায় চ্যালেঞ্জ করবে সে প্রমাণ করতে পারলে এই অনুমান ভেঙে যাবে।

প্রশ্নঃ কিসের অভাব প্রমাণ করলে অনুমান খণ্ডন হবে?

উত্তরঃ যদি প্রমাণ করা যায় যে বিদেশী আদালতের সঠিক এখতিয়ার ছিল না।

প্রশ্নঃ এই অনুমানের সুবিধা কী?

উত্তরঃ এতে বিদেশী রায় কার্যকর করতে চাইলে আলাদাভাবে আদালতের এখতিয়ার প্রমাণ করতে হয় না।

প্রশ্নঃ এই নিয়ম বিচার ব্যবস্থার কী উপকার করে?

উত্তরঃ এতে সময় বাঁচে, প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

প্রশ্নঃ যদি বিদেশী আদালতের এখতিয়ারই না থাকে, তাহলে রায়ের কী অবস্থা হবে?

উত্তরঃ তাহলে সেই রায় বাংলাদেশে কার্যকর হবে না।

প্রশ্নঃ ধারা ১৪ কেন ধারা ১৩ এর পরিপূরক বলা হয়?

উত্তরঃ কারণ ধারা ১৩ বলে বিদেশী রায় কখন চূড়ান্ত হবে বা হবে না, আর ধারা ১৪ বলে সেই রায়কে প্রাথমিকভাবে কীভাবে ধরা হবে।

প্রশ্নঃ আদালত কীভাবে বুঝবে রায় সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত দিয়েছে?

উত্তরঃ রায়ের সত্যায়িত কপি দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান করবে, যতক্ষণ না এর উল্টো প্রমাণ হয়।

প্রশ্নঃ বিদেশী রায় চ্যালেঞ্জ করতে হলে কী করতে হবে?

উত্তরঃ প্রমাণ করতে হবে যে আদালতের রায় দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না বা নথিতে অন্য সমস্যা আছে।

প্রশ্নঃ নথিপত্রেই যদি দেখা যায় যে আদালতের এখতিয়ার ছিল না, তখন কী হবে?

উত্তরঃ তখন আদালত আর কোনো অনুমান করবে না, সরাসরি প্রমাণ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রশ্নঃ ধারা ১৪ এর মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ প্রমাণের ঝামেলা কমানো, বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা এবং একই সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

প্রশ্নঃ সংক্ষেপে ধারা ১৪ থেকে আমরা কী শিখি?

উত্তরঃ বিদেশী রায়ের সত্যায়িত কপি আদালতে দিলে সেটা সঠিক আদালত দিয়েছে ধরে নেওয়া হয়, তবে প্রমাণ করলে এর উল্টোও প্রমাণ করা যায়।

আরও জানুন →

  • কোনও পোস্ট পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভিডিওসমূহ

বাংলাদেশের আইনসমগ্র

আমাদের সেবাসমূহ

প্রয়োজনীয় সরকারি লিংক

📱 অ্যাপ ডাউনলোড করুন — দ্রুত

অ্যাপ ইন্সটল করে সবকিছু এক জায়গায় দেখুন।

Check Also

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 1. Short title, commencement and extent | সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও ব্যাপ্তি

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ – Code of Civil Procedure (CPC 1908) Bangladesh

Section 2. Definitions | সংজ্ঞা

মূল পাতায় ফিরে যান আইনসমগ্র এর সূচী দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর সূচীপত্রে ফিরে যেতে এখানে …

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Table of Contents

Index